|
আজ ৮মার্চ, আর্ন্তজাতিক নারী দিবস।
১৮৫৭ সালে এই দিনে নিউইয়র্ক শহরের বস্ত্রকলের নারী শ্রমিকেরা সমবেতন, কাজের
সময় নির্ধারণ ও কর্মক্ষেত্রে সমসুযোগের দাবিতে নেমে এসেছিল রাজপথে। সেদিন
মালিক শ্রেণীর অমানবিক নির্যাতনও স্-ব্ধ করতে পারেনি তাদের প্রতিবাদী
কন্ঠকে। বরং নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের সেই দু:সাহসী প্রতিবাদই হয়ে উঠেছে
নারী আন্দোলনের নিরন্-র প্্রেরণার উৎস। পরবর্তীতে নারী নেত্রী ক্লারা
জেৎকিনের প্রস্তাব অনুসারে ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত নারীদের দ্বিতীয়
আন্-র্জাতিক সম্মেলনে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের
সিদ্ধান্- গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত
রাষ্ট্রসমূহে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনটি আন্-র্জাতিক নারী
দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। এবছর ুসম-অংশীদারিত্ব ও সমসুযোগ নিশ্চিত করব,
সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা পালন
করছি আন্-র্জাতিক নারী দিবস।
নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ ও সম-অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে সিডো,
সিডো অপশনাল প্রটোকল, বেইজিং ঘোষণা, পিএফএসহ সকল মানবাধিকার সনদে।
বাংলাদেশও এসব ঘোষণার অংশীদার। এছাড়া নারীর প্রতি সমসুযোগ প্রদানের
অঙ্গীকার বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। দূর্ভাগ্যবশত: সংবিধানের এই
গুরুত্বপূর্ণ ও ন্যায্য প্রতিশ্রুতি আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক
জীবনে যথাযথভাবে বাস্-বায়িত হয়নি। বরং শ্রেণী বিন্যাসে বিত্তবান, বিত্তহীন
সকল নারীই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাত্রায় বিভিন্ন আঙ্গিকে বৈষম্যের শিকার।
স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা। অথচ
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র নারীরা এখনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
কর্মক্ষেত্রে নারীর মজুরী এখনো অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে অনেক কম।
আন্-র্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সর্বশেষ রিপোর্ট মোতাবেক, বিশ্বে
এখনো পুরুষের চেয়ে নারী ১৬ ভাগ পারিশ্রমিক কম পায়। অপর এক পরিসংখ্যানে বলা
হয়েছে পৃথিবীতে নারীরা কাজ করছে শতকরা ৬৫ ভাগ। অথচ নারীর আয় শতকরা মাত্র ১০
ভাগ। অন্যদিকে, নারী-পুরুষের সংখ্যানুপাতে প্রায় সমান হলেও পৃথিবীর মোট
সম্পদের ১০০ ভাগের মাত্র ১ ভাগের মালিক নারী। নারীর গৃহস্থালী কাজের
মূল্যের কোনো পরিমাপ করা হয় না। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে এখনো
স্বীকার ও হিসাব করা হয়না । নির্যাতনের ক্ষেত্রেও এই পরিসংখ্যানের রূপ আরও
ভয়াবহ। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন নারী নির্যাতনের শিকার
হচ্ছে এবং শতকরা ৬০ জন নারী এই নির্যাতনের ব্যাপারে নীরব থাকে।
উপরোক্ত তথ্যাবলী বিশ্লেষন করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, নারীর প্রতি
বৈষম্য জাতীয় ও আন্-র্জাতিকভাবে যুগ যুগ ধরে একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে নারীমুক্তির স্বপ্ন রয়ে যাবে সুদূরপরাহত ।
তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্্রীয় জীবনে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে
নিশ্চিত করতে হবে নারীর সম-অংশীদারিত্ব ও সমসুযোগ। তাঁদের প্রতি যথাযথ
সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আমরা চাই -
* নারীর প্রতি সহিংসতাকে ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে দেখার প্রথাগত
দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা;
* বৈষম্যহীন সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারী-পুরুষের সমান মজুরী
নিশ্চিত করা;
* সম্পদ ও সম্পত্তিতে সমঅধিকার নিশ্চিত করা;
* নারী নীতি ২০০৭ পূনর্বহাল করা
আসুন, ৮ মার্চের প্রেরণাকে আমাদের চেতনা ও কর্মে ধারন করি।
তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ, উন্নয়ন পদক্ষেপ, দৈনিক প্রথম আলো ও পাক্ষিক
|