General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

এলাচি কথন
তুহিন আফসারী

  সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কেটে যাচেছ৷ আজ গ্রামের দুই প্রান্তে দুটি গণশিক্ষার স্কুল শুরু হবে৷ বিকালে আবার নব দম্পতিদের ‘ছোট পরিবার’ বিষয়ক কর্মশালা আছে৷ এর ফাঁকে ফাঁকে কারো বা পারিবারিক সমস্যা, কারো-বা সাংসারিক ঝামেলা কারো বা অন্য ধরনের কাজ৷ হরেক রকমের ব্যস্ততায় কেটে যায়৷ ব্যস্ততার এই ভিড়ে ক্লান্তি আর অলস সময়ে পিছন ফিরে দেখলে এখনো দুচোখ জলে ঝাপসা হয়ে আসে৷ মনের কোনে জমে থাকা যন্ত্রণা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে৷ আর যাই হোক দুঃসহ সেই অতীতকে এখন আর ভাবতে চান না তিনি৷ এখন শুধু সামনে এগিয়ে চলা৷ আসুন, এগিয়ে চলা এই নারীর সংগ্রামী জীবনের সাথে আমরা পরিচিত হই৷

কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে জগতি ইউনিয়নের ঢাকা ঝালোপাড়া গ্রাম৷ এই গ্রামের হাতেম আলী মণ্ডল ও আমেনা বেগমের বেশ বড় সংসার৷ তাদের আট সন্তান৷ হাতেম আলীর মহিষের ব্যবসা ও সামান্য কিছু জমির আয়ের উপর নির্ভর করে সংসার চলে৷ বড় এই সংসারে অভাব না থাকলেও টানাটানি ছিলো৷ সন্তানদের মধ্যে হাতেম আলীর নজরটা একটু বেশি থাকতো তৃতীয় মেয়েটির উপর৷ বাবার আদরে বেড়ে ওঠা শান্ত স্বভাবের মেয়েটির নাম রাখা হয় এলাচি৷ মেয়েটির পড়াশুনাতেও আগ্রহ একটু যেন বেশি৷ তাই বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে জগতি প্রাইমারী স্কুলে নিজে গিয়ে এলাচিকে ভর্তি করিয়ে দেন হাতেম আলী৷ কৃতিত্বের সাথে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করলে এলাচিকে ভর্তি করানো হয় কে এস এম হাইস্কুলে৷ বাবার খুব আগ্রহ থাকলেও চাচা ও প্রতিবেশীদের কেমন যেন মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়৷ সংসারের ও সমাজের বদনামের ভয়ে চাচা ও প্রতিবেশীদের চাপে হার মানেন হাতেম ও আমেনা৷ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই গ্রামের বিনোদ আলী মণ্ডলের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় এলাচিকে৷ স্বামী বিনোদ আলীর যোগ্যতা বলতে মাঠের জমি আর চাষাবাদ৷
বিয়ের পর তিন মাসের মতো সময় জোর করে শ্বশুরবাড়িতে রাখা গিয়েছিল এলাচিকে৷ মেয়ের কান্নাকাটি আর জেদের কারণে হাতেম আলী গিয়ে কথা বলেন এলাচির শ্বশুর ইমান আলী মণ্ডলের সাথে৷ শ্বশুরের নিমরাজি মনোভাবের পরও হাতেম আলী আবার মেয়েকে নিজের কাছে এনে স্কুলে ভর্তি করে দেন৷ পড়াশুনা চলতে থাকলো আবার নতুন করে৷ দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আবার তৎপর হয়ে ওঠে সব চাচা, প্রতিবেশি আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ সবার এই চাপ আর ঠেকানো যায়নি৷ আবার চোখের পানিতে ফিরে আসতে হয় শ্বশুরবাড়িতে৷ এসময় এলাচির সহপাঠিরা বাড়িতে এসে সমবেদনার পাশাপাশি এলাচির চোখের পানিও দেখে যেত৷ এই চোখের পানি কোনোভাবেই মন গলাতে পারেনি তাদের, যারা তার পড়াশুনা বন্ধ করেছিলো৷

শুরু হয় এলাচির সংসার যাপন৷ স্বামীর অমতে পড়াশুনার কারণে স্বামীও পর হতে শুরু করে এলাচির৷ এদিকে কৃষিজীবি পরিবার হওয়ার কারণে সংসারে প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো৷ অল্প বয়সে পরিশ্রম ও মানসিক নির্যাতনের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ বিয়ের ছয় বছরের সংসারে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়৷ কন্যাসন্তান৷ সন্তান প্রসবকালীন সময়ে অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে পরের দুটি সন্তান মারা যায়৷ পরে আবার কন্যাশিশুর জন্ম হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্বামী৷ নির্যাতনের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি যোগ হয় দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি৷ শুধু হুমকি দিয়েই থেমে থাকলেন না এলাচির স্বামী৷ কিছুদিন পর দ্বিতীয় বিয়ে করে তার ক্ষমতাও দেখিয়ে দিলেন৷ স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর তিন মাসও টিকতে পারেননি এলাচি৷ মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ এলাচিকে তার বাবা একরকম জোর করে নিজের কাছে এনে রাখেন৷ বাবার বাড়ি চার মাস থাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ভাসুর, শ্বশুরসহ অন্যান্যরা এসে এক রকম সালিশ বিচার করে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান এলাচিকে৷ এরপর কেটে গেছে দশ বছর৷ এতটা সময় শুধু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন স্বামীর ঘরে৷ দশ বছর পর টিকতে না পেরে চলে আসেন বাপের বাড়িতে৷

স্বামীর ঘর ছেড়ে আসার সময় ছোট মেয়ের বয়স দুই আর বড় মেয়ের বয়স দশ৷ বাবার বাড়িতে আসার পর বাবা এবং বড় ভাই মিলে কিছু জমি দেন এলাচিকে৷ সেই জমিতে বাবার তুলে দেওয়া ঘরে নতুন জীবন শুরু হয় এলাচির৷ এখানের এসে কান্না যেন শেষ হয় না এলাচির৷ বোনের যন্ত্রণা দেখে মেজোভাই পরামর্শ দেন সমিতি তৈরি করার৷ এই ছাপড়া ঘর থেকেই এলাচি গড়ে তোলেন নির্যাতিত নারীদের নিয়ে ‘পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’৷ প্রাথমিক অবস্থায় সদস্যা সংখ্যা কম থাকলেও এক পর্যায়ে এর সংখ্যা দাড়ায় ২৫০জন৷ কিছুদিনের মধ্যে সদস্যারা মাসিক দশ টাকা হারে চাঁদা দিয়ে সঞ্চয় গড়ে তোলেন প্রায় ৪,০০০ টাকা৷ সংগঠন গড়ে তোলার পর স্থানীয় এক দর্জি মাষ্টারের সহায়তায় এলাচি সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন৷ তার এই কাজ দেখে প্রথম অবস্থায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন সমাজপতিরা৷ পরে এক মিটিং- এ আমন্ত্রণ জানানো হয় এলাকার সমাজপতিদের৷ এলাচি তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, শিশুর বেড়ে ওঠা, মায়েদের স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানিসহ নানা সমস্যা সমাধানের জন্য তারা কাজ করছেন৷ কাজের এক পর্যায়ে ১৯৯৫ সালে সংগঠনটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হয়৷ প্রথম অবস্থায় স্থানীয় এনজিও সেতু এই কাজে সহায়তা করে৷

এই কাজের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিসের (ঋচঅই) কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সাথে পরিচয় এলাচির৷ তার সংগঠনের কাজ দেখে তিনি এলাচির সংগঠনে একজন ডাক্তারের ব্যবস্থা করে দেন৷ সংগঠনের এই অফিসের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে এলাকার নারী ও পুরুষের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ঔষধ প্রদান করা হতো৷ আকরাম হোসেনর চেষ্টায় এই কাজের সুনাম ঢাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়৷ ফলে ঢাকা থেকে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের (ঋচঅই) এর মহাসচিব কাজী আনিছুর রহমান কুষ্টিয়া আসেন সংগঠনটির কার্যক্রম দেখতে৷ পাড়াগাঁয়ের এই সংগঠনটির কাজ দেখে অনুদান দেওয়া হয় নগদ ৪০,০০০ টাকা৷ এটাই এলাচির প্রথম স্বীকৃতি৷ স্থানীয় সবার সহযোগিতায় কাজ চলতে থাকে এলাচি ও তার সংগঠনের৷ আর এর মাধ্যমে নিজের দুঃখকষ্ট ভুলতে থাকেন এলাচি৷

কাজ করতে গিয়ে অনেকের সাথেই পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে এলাচির৷ এর মধ্যে ‘কথাসংস্থা’র নির্বাহি পরিচালক মফিজুর রহমানের কাছে স্বেচছাসেবী সংগঠন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও উজ্জীবক প্রশিক্ষণের কথা জানতে পারেন এলাচি৷ সংগঠন ও তার কাজের ধরনের কথা শুনে একটু আগ্রহ তৈরি হয় তার মধ্যে৷ এই সময়ে কুষ্টিয়ার রূপান্তর মিশন স্কুল কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় ১২১২ তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণের৷ সেটা ছিলো ২০০৭ সালের জুলাই মাসের ঘটনা৷ জুলাইয়ের ১৭ থেকে ২০ তারিখে এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অনেক বিষয়ে গোছানো জ্ঞান লাভ করেন এলাচি৷ এছাড়া জ্ঞানের রাজ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রত্যাশার অনুশীলন, ক্ষুধামুক্ত এলাকার বৈশিষ্ট্যসহ গোটা প্রশিক্ষণই ভালো লাগে এলাচির৷ অনেক অজানা বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ছাড়াও লড়াইয়ে টিকে থাকার মন্ত্রে দীক্ষা হয় তার৷ প্রশিক্ষণটি গ্রহনের পর গোটা কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে৷

উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একই বছর কুষ্টিয়া রূপান্তর কেন্দ্র থেকে ১৫ তম ব্যাচে ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক ফাউন্ডেশন কোর্সে অংশ গ্রহন করেন৷ নারীনেত্রীত্বের এই প্রশিক্ষণটি গ্রহণ করার পর নিজের ভিতরের ক্ষমতাটা আরেকবার টের পেলেন এলাচি৷ এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর নারী পুরুষের অসমতা, বৈষম্য, নারী অধিকার, নারী আইন, নারীর অগ্রগতির ইতিহাসের পাশাপাশি নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয় তার মধ্যে৷ দীর্ঘদিন ধরে লালন করতে থাকা যন্ত্রণাটি আবারো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে৷ তার নিজের মতো দুর্ভাগ্য আর কারো জীবনে যেন না আসে, সেই চেষ্টায় নিজেকে উৎসর্গ করেন এলাচি৷

প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর একই সাথে অনেকগুলো কাজ শুরু করেন এলাচি৷ এলাকাতে নিজের সমমনা সাথী তৈরি করার জন্য আয়োজন করেন ১৩৭৬তম ও ১৪২৮তম ব্যাচের দুটি উজ্জীবক প্রশিক্ষণ৷ প্রশিক্ষিত উজ্জীবকদের নিয়ে শুরু হলো অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ৷ এপর্যন্ত ৯০ জন নারীকে সেলাই শিখিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই এখন আয় করে৷ কারচুপির কাজ শিখিয়েছেন ২৫ জন নারীকে৷ ৫০ জনের দুটি ব্যাচে মায়েদের প্রশিক্ষণ করিয়েছেন শিশুর স্বাস্থ্য ও পরিচছন্নতা বিষয়ে৷ অসুস্থ নারীদের হাসপাতালে চিকৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত উদ্যোগ নেন৷ এছাড়া পারিবারিক সচেতনতা তৈরির জন্য গড়ে উঠেছে নব দম্পতি নামে সংগঠন, যেখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলাপ হয়৷

অনেক বন্ধু এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত৷ তাদের সাথে কথা বললে এখনো কষ্ট হয় এলাচির৷ খুব আগ্রহ থাকার পরও নানা প্রতিকূলতার কারণে বেশি লেখাপড়া শিখতে পারেননি৷ তাই এলাকার সব বয়সের মানুষের লেখা ও পড়া নিশ্চিত করার জন্য গ্রামের দু এলাকাই দুটি গণশিক্ষা কেন্দ্র খুলেছেন৷ ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার- এর লিডার পারুল, সাথী, লিমা, মাসুমা টগর পালাক্রমে স্বেচছায় এই কেন্দ্রগুলি পরিচালনা করে৷ এলাকার স্কুলগামী শিশুদের স্কুল গমন নিশ্চিত করা জন্য ফিডার স্কুল নামে একটি স্কুল গড়ে তুলেছেন৷ প্রতিব্যাচে চার বছর বয়সী ত্রিশ জনের ব্যাচ তৈরি করে ছয় বছর পর্যন্ত পড়ানো হয়৷ শুধু তাই নয় এখান থেকে বের হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিকটবর্তী স্কুলে ভর্তির বিষয়ে সহযোগিতা করেন এলাচি৷

এখন পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নির্যাতন, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান এলাকাতেই হয়৷ প্রতি সপ্তাহে ‘পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’ অফিসে আয়োজন করা হয় উঠান বৈঠকের৷ এলাচির উদ্যোগে গঠিত নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি নিয়মিত এলাকার এসমস্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলে৷ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাসে চারটি করে উঠান-বৈঠক হয়, যেখানে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, কন্যাশিশুসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা হয়৷ এলাচি ইতিমধ্যে তার সংগঠনের মাধ্যমে তার এলাকাকে স্যানিটেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ৫৫ টি পরিবারের মধ্যে স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করেছেন৷

নারীদের সংগঠিত করার জন্য গড়ে তুলেছেন অংকুর মহিলা উন্নয়ন সমিতি ও তারা মহিলা সংস্থা৷ মাসে মাসে পাঁচ টাকা হারে সঞ্চয় করা অংকুরের সদস্য সংখ্যা ১৫৭ জন৷ হস্তশিল্প, নক্‌শিকাঁথা ও হাতের কাজ করে এখান থেকে প্রতি মাসে ৩৫ জন মেয়ে অর্থ উপার্জন করে৷ এর থেকে তুলনামূলক বড় সংগঠন তারা মহিলা সংস্থার সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন৷ সংগঠনটির সদস্যারা মাসিক ২০ টাকা হারে সঞ্চয় করেন৷ এখান থেকেও হস্তশিল্প, নক্‌শিকাঁথা ও হাতের কাজ করে এখান থেকে প্রতিমাসে ৫৫ জন মেয়ে উপার্জন করে৷

নিজেকে নিয়ে এখন আর ভাবনা নেই এলাচির৷ সংগঠন ও সামাজিক কাজ করার পর যতটুকু সময় পান তা নিজের সংসার ও বাগানে ব্যয় করেন৷ বাগানে ২৫০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন৷ নিজের সংগঠনের সদস্যদের দিয়ে আরো লাগিয়েছেন ২৫০০ গাছ৷ এলাকার পুলিশিং কমিটি, ভিজিএফ কার্ড বিতরণ কমিটি, জেলা দুর্বার, জেলা মানবাধিকার কমিটির সদস্য হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটে তার৷ এছাড়া কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের জগতি ইউপি কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়৷ ফোরাম ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র যৌথভাবে এলাকায় কন্যাশিশু দিবস, আন্তর্জাতিক নারীদিবস, রোকেয়া দিবস, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দিবস পালন করে৷ এলাচির স্পর্শে আজ জেগে উঠছে জগতির ঢাকা ঝালোপাড়া গ্রাম৷

এখন অনেকেই আসে এলাচির কাছে৷ আসে স্বামীও৷ নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবার নিয়ে যেতে চান তার সংসারে৷ কিন্তু এলাচি এখন সারাদেশের নির্যাতিত নারীদের নিয়ে তার জগৎ গড়েছেন৷ এত বড় দায়িত্ব রেখে অন্য চিন্তা করার সময় কোথায়!

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net