| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
|
|
|
|
|
এলাচি কথন
তুহিন আফসারী |
|
|
সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কেটে যাচেছ৷
আজ গ্রামের দুই প্রান্তে দুটি গণশিক্ষার স্কুল শুরু হবে৷ বিকালে
আবার নব দম্পতিদের ‘ছোট পরিবার’ বিষয়ক কর্মশালা আছে৷ এর ফাঁকে
ফাঁকে কারো বা পারিবারিক সমস্যা, কারো-বা সাংসারিক ঝামেলা কারো
বা অন্য ধরনের কাজ৷ হরেক রকমের ব্যস্ততায় কেটে যায়৷ ব্যস্ততার
এই ভিড়ে ক্লান্তি আর অলস সময়ে পিছন ফিরে দেখলে এখনো দুচোখ জলে
ঝাপসা হয়ে আসে৷ মনের কোনে জমে থাকা যন্ত্রণা মাথা চাড়া দিয়ে
ওঠার চেষ্টা করে৷ আর যাই হোক দুঃসহ সেই অতীতকে এখন আর ভাবতে
চান না তিনি৷ এখন শুধু সামনে এগিয়ে চলা৷ আসুন, এগিয়ে চলা এই
নারীর সংগ্রামী জীবনের সাথে আমরা পরিচিত হই৷
কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে জগতি
ইউনিয়নের ঢাকা ঝালোপাড়া গ্রাম৷ এই গ্রামের হাতেম আলী মণ্ডল ও
আমেনা বেগমের বেশ বড় সংসার৷ তাদের আট সন্তান৷ হাতেম আলীর
মহিষের ব্যবসা ও সামান্য কিছু জমির আয়ের উপর নির্ভর করে সংসার
চলে৷ বড় এই সংসারে অভাব না থাকলেও টানাটানি ছিলো৷ সন্তানদের
মধ্যে হাতেম আলীর নজরটা একটু বেশি থাকতো তৃতীয় মেয়েটির উপর৷
বাবার আদরে বেড়ে ওঠা শান্ত স্বভাবের মেয়েটির নাম রাখা হয় এলাচি৷
মেয়েটির পড়াশুনাতেও আগ্রহ একটু যেন বেশি৷ তাই বাড়ি থেকে এক
কিলোমিটার দূরে জগতি প্রাইমারী স্কুলে নিজে গিয়ে এলাচিকে ভর্তি
করিয়ে দেন হাতেম আলী৷ কৃতিত্বের সাথে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করলে
এলাচিকে ভর্তি করানো হয় কে এস এম হাইস্কুলে৷ বাবার খুব আগ্রহ
থাকলেও চাচা ও প্রতিবেশীদের কেমন যেন মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়৷
সংসারের ও সমাজের বদনামের ভয়ে চাচা ও প্রতিবেশীদের চাপে হার
মানেন হাতেম ও আমেনা৷ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই গ্রামের
বিনোদ আলী মণ্ডলের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় এলাচিকে৷ স্বামী বিনোদ
আলীর যোগ্যতা বলতে মাঠের জমি আর চাষাবাদ৷
বিয়ের পর তিন মাসের মতো সময় জোর করে শ্বশুরবাড়িতে রাখা গিয়েছিল
এলাচিকে৷ মেয়ের কান্নাকাটি আর জেদের কারণে হাতেম আলী গিয়ে কথা
বলেন এলাচির শ্বশুর ইমান আলী মণ্ডলের সাথে৷ শ্বশুরের নিমরাজি
মনোভাবের পরও হাতেম আলী আবার মেয়েকে নিজের কাছে এনে স্কুলে
ভর্তি করে দেন৷ পড়াশুনা চলতে থাকলো আবার নতুন করে৷ দশম শ্রেণি
পর্যন্ত পড়ার পর আবার তৎপর হয়ে ওঠে সব চাচা, প্রতিবেশি আর
শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ সবার এই চাপ আর ঠেকানো যায়নি৷ আবার চোখের
পানিতে ফিরে আসতে হয় শ্বশুরবাড়িতে৷ এসময় এলাচির সহপাঠিরা বাড়িতে
এসে সমবেদনার পাশাপাশি এলাচির চোখের পানিও দেখে যেত৷ এই চোখের
পানি কোনোভাবেই মন গলাতে পারেনি তাদের, যারা তার পড়াশুনা বন্ধ
করেছিলো৷
শুরু হয় এলাচির সংসার যাপন৷ স্বামীর অমতে পড়াশুনার কারণে
স্বামীও পর হতে শুরু করে এলাচির৷ এদিকে কৃষিজীবি পরিবার হওয়ার
কারণে সংসারে প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো৷ অল্প বয়সে পরিশ্রম ও
মানসিক নির্যাতনের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন
তিনি৷ বিয়ের ছয় বছরের সংসারে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়৷
কন্যাসন্তান৷ সন্তান প্রসবকালীন সময়ে অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার
কারণে পরের দুটি সন্তান মারা যায়৷ পরে আবার কন্যাশিশুর জন্ম হলে
ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্বামী৷ নির্যাতনের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি
যোগ হয় দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি৷ শুধু হুমকি দিয়েই থেমে থাকলেন না
এলাচির স্বামী৷ কিছুদিন পর দ্বিতীয় বিয়ে করে তার ক্ষমতাও দেখিয়ে
দিলেন৷ স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর তিন মাসও টিকতে পারেননি এলাচি৷
মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ এলাচিকে তার বাবা একরকম জোর করে
নিজের কাছে এনে রাখেন৷ বাবার বাড়ি চার মাস থাকার শ্বশুরবাড়ি
থেকে ভাসুর, শ্বশুরসহ অন্যান্যরা এসে এক রকম সালিশ বিচার করে
আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান এলাচিকে৷ এরপর কেটে গেছে দশ বছর৷
এতটা সময় শুধু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মাটি কামড়ে
পড়েছিলেন স্বামীর ঘরে৷ দশ বছর পর টিকতে না পেরে চলে আসেন বাপের
বাড়িতে৷
স্বামীর ঘর ছেড়ে আসার সময় ছোট মেয়ের বয়স দুই আর বড় মেয়ের বয়স
দশ৷ বাবার বাড়িতে আসার পর বাবা এবং বড় ভাই মিলে কিছু জমি দেন
এলাচিকে৷ সেই জমিতে বাবার তুলে দেওয়া ঘরে নতুন জীবন শুরু হয়
এলাচির৷ এখানের এসে কান্না যেন শেষ হয় না এলাচির৷ বোনের
যন্ত্রণা দেখে মেজোভাই পরামর্শ দেন সমিতি তৈরি করার৷ এই ছাপড়া
ঘর থেকেই এলাচি গড়ে তোলেন নির্যাতিত নারীদের নিয়ে ‘পরিবার
কল্যাণ কেন্দ্র’৷ প্রাথমিক অবস্থায় সদস্যা সংখ্যা কম থাকলেও এক
পর্যায়ে এর সংখ্যা দাড়ায় ২৫০জন৷ কিছুদিনের মধ্যে সদস্যারা
মাসিক দশ টাকা হারে চাঁদা দিয়ে সঞ্চয় গড়ে তোলেন প্রায় ৪,০০০
টাকা৷ সংগঠন গড়ে তোলার পর স্থানীয় এক দর্জি মাষ্টারের সহায়তায়
এলাচি সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন৷ তার এই কাজ দেখে প্রথম
অবস্থায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন সমাজপতিরা৷ পরে এক মিটিং- এ
আমন্ত্রণ জানানো হয় এলাকার সমাজপতিদের৷ এলাচি তাদের বোঝাতে
সক্ষম হন যে, এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে যৌতুক,
বাল্যবিবাহ, শিশুর বেড়ে ওঠা, মায়েদের স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন,
নিরাপদ পানিসহ নানা সমস্যা সমাধানের জন্য তারা কাজ করছেন৷
কাজের এক পর্যায়ে ১৯৯৫ সালে সংগঠনটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের
রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হয়৷ প্রথম অবস্থায় স্থানীয় এনজিও সেতু এই
কাজে সহায়তা করে৷
এই কাজের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিসের (ঋচঅই)
কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সাথে পরিচয় এলাচির৷ তার সংগঠনের কাজ
দেখে তিনি এলাচির সংগঠনে একজন ডাক্তারের ব্যবস্থা করে দেন৷
সংগঠনের এই অফিসের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে এলাকার নারী ও
পুরুষের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ঔষধ প্রদান করা হতো৷
আকরাম হোসেনর চেষ্টায় এই কাজের সুনাম ঢাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়৷
ফলে ঢাকা থেকে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের (ঋচঅই) এর মহাসচিব কাজী
আনিছুর রহমান কুষ্টিয়া আসেন সংগঠনটির কার্যক্রম দেখতে৷
পাড়াগাঁয়ের এই সংগঠনটির কাজ দেখে অনুদান দেওয়া হয় নগদ ৪০,০০০
টাকা৷ এটাই এলাচির প্রথম স্বীকৃতি৷ স্থানীয় সবার সহযোগিতায় কাজ
চলতে থাকে এলাচি ও তার সংগঠনের৷ আর এর মাধ্যমে নিজের দুঃখকষ্ট
ভুলতে থাকেন এলাচি৷
কাজ করতে গিয়ে অনেকের সাথেই পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে এলাচির৷ এর
মধ্যে ‘কথাসংস্থা’র নির্বাহি পরিচালক মফিজুর রহমানের কাছে
স্বেচছাসেবী সংগঠন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও উজ্জীবক প্রশিক্ষণের
কথা জানতে পারেন এলাচি৷ সংগঠন ও তার কাজের ধরনের কথা শুনে একটু
আগ্রহ তৈরি হয় তার মধ্যে৷ এই সময়ে কুষ্টিয়ার রূপান্তর মিশন
স্কুল কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় ১২১২ তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণের৷ সেটা
ছিলো ২০০৭ সালের জুলাই মাসের ঘটনা৷ জুলাইয়ের ১৭ থেকে ২০ তারিখে
এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অনেক বিষয়ে গোছানো জ্ঞান লাভ করেন
এলাচি৷ এছাড়া জ্ঞানের রাজ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রত্যাশার
অনুশীলন, ক্ষুধামুক্ত এলাকার বৈশিষ্ট্যসহ গোটা প্রশিক্ষণই ভালো
লাগে এলাচির৷ অনেক অজানা বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ছাড়াও লড়াইয়ে
টিকে থাকার মন্ত্রে দীক্ষা হয় তার৷ প্রশিক্ষণটি গ্রহনের পর গোটা
কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে৷
উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একই বছর কুষ্টিয়া রূপান্তর
কেন্দ্র থেকে ১৫ তম ব্যাচে ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক
ফাউন্ডেশন কোর্সে অংশ গ্রহন করেন৷ নারীনেত্রীত্বের এই
প্রশিক্ষণটি গ্রহণ করার পর নিজের ভিতরের ক্ষমতাটা আরেকবার টের
পেলেন এলাচি৷ এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর নারী পুরুষের অসমতা,
বৈষম্য, নারী অধিকার, নারী আইন, নারীর অগ্রগতির ইতিহাসের
পাশাপাশি নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয় তার
মধ্যে৷ দীর্ঘদিন ধরে লালন করতে থাকা যন্ত্রণাটি আবারো মাথা চাড়া
দিয়ে ওঠে৷ তার নিজের মতো দুর্ভাগ্য আর কারো জীবনে যেন না আসে,
সেই চেষ্টায় নিজেকে উৎসর্গ করেন এলাচি৷
প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর একই সাথে অনেকগুলো কাজ শুরু করেন এলাচি৷
এলাকাতে নিজের সমমনা সাথী তৈরি করার জন্য আয়োজন করেন ১৩৭৬তম ও
১৪২৮তম ব্যাচের দুটি উজ্জীবক প্রশিক্ষণ৷ প্রশিক্ষিত উজ্জীবকদের
নিয়ে শুরু হলো অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের
উদ্যোগ৷ এপর্যন্ত ৯০ জন নারীকে সেলাই শিখিয়েছেন, যাদের
অধিকাংশই এখন আয় করে৷ কারচুপির কাজ শিখিয়েছেন ২৫ জন নারীকে৷ ৫০
জনের দুটি ব্যাচে মায়েদের প্রশিক্ষণ করিয়েছেন শিশুর স্বাস্থ্য
ও পরিচছন্নতা বিষয়ে৷ অসুস্থ নারীদের হাসপাতালে চিকৎসাসেবা
নিশ্চিত করতে নিয়মিত উদ্যোগ নেন৷ এছাড়া পারিবারিক সচেতনতা
তৈরির জন্য গড়ে উঠেছে নব দম্পতি নামে সংগঠন, যেখানে জন্ম
নিয়ন্ত্রণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলাপ হয়৷
অনেক বন্ধু এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত৷ তাদের সাথে কথা বললে এখনো
কষ্ট হয় এলাচির৷ খুব আগ্রহ থাকার পরও নানা প্রতিকূলতার কারণে
বেশি লেখাপড়া শিখতে পারেননি৷ তাই এলাকার সব বয়সের মানুষের লেখা
ও পড়া নিশ্চিত করার জন্য গ্রামের দু এলাকাই দুটি গণশিক্ষা
কেন্দ্র খুলেছেন৷ ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার- এর লিডার পারুল, সাথী,
লিমা, মাসুমা টগর পালাক্রমে স্বেচছায় এই কেন্দ্রগুলি পরিচালনা
করে৷ এলাকার স্কুলগামী শিশুদের স্কুল গমন নিশ্চিত করা জন্য
ফিডার স্কুল নামে একটি স্কুল গড়ে তুলেছেন৷ প্রতিব্যাচে চার বছর
বয়সী ত্রিশ জনের ব্যাচ তৈরি করে ছয় বছর পর্যন্ত পড়ানো হয়৷ শুধু
তাই নয় এখান থেকে বের হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিকটবর্তী স্কুলে
ভর্তির বিষয়ে সহযোগিতা করেন এলাচি৷
এখন পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নির্যাতন, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহসহ
বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান এলাকাতেই হয়৷ প্রতি সপ্তাহে
‘পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’ অফিসে আয়োজন করা হয় উঠান বৈঠকের৷
এলাচির উদ্যোগে গঠিত নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি নিয়মিত এলাকার
এসমস্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলে৷ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাসে চারটি
করে উঠান-বৈঠক হয়, যেখানে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন,
কন্যাশিশুসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা হয়৷ এলাচি ইতিমধ্যে তার
সংগঠনের মাধ্যমে তার এলাকাকে স্যানিটেশনের আওতায় নিয়ে আসার
জন্য ৫৫ টি পরিবারের মধ্যে স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করেছেন৷
নারীদের সংগঠিত করার জন্য গড়ে তুলেছেন অংকুর মহিলা উন্নয়ন সমিতি
ও তারা মহিলা সংস্থা৷ মাসে মাসে পাঁচ টাকা হারে সঞ্চয় করা
অংকুরের সদস্য সংখ্যা ১৫৭ জন৷ হস্তশিল্প, নক্শিকাঁথা ও হাতের
কাজ করে এখান থেকে প্রতি মাসে ৩৫ জন মেয়ে অর্থ উপার্জন করে৷ এর
থেকে তুলনামূলক বড় সংগঠন তারা মহিলা সংস্থার সদস্য সংখ্যা ২৫০
জন৷ সংগঠনটির সদস্যারা মাসিক ২০ টাকা হারে সঞ্চয় করেন৷ এখান
থেকেও হস্তশিল্প, নক্শিকাঁথা ও হাতের কাজ করে এখান থেকে
প্রতিমাসে ৫৫ জন মেয়ে উপার্জন করে৷
নিজেকে নিয়ে এখন আর ভাবনা নেই এলাচির৷ সংগঠন ও সামাজিক কাজ
করার পর যতটুকু সময় পান তা নিজের সংসার ও বাগানে ব্যয় করেন৷
বাগানে ২৫০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন৷ নিজের সংগঠনের
সদস্যদের দিয়ে আরো লাগিয়েছেন ২৫০০ গাছ৷ এলাকার পুলিশিং কমিটি,
ভিজিএফ কার্ড বিতরণ কমিটি, জেলা দুর্বার, জেলা মানবাধিকার
কমিটির সদস্য হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটে তার৷ এছাড়া কন্যাশিশু
এডভোকেসি ফোরামের জগতি ইউপি কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব
পালন করতে হয়৷ ফোরাম ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র যৌথভাবে এলাকায়
কন্যাশিশু দিবস, আন্তর্জাতিক নারীদিবস, রোকেয়া দিবস, নারী
নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দিবস পালন করে৷ এলাচির স্পর্শে আজ
জেগে উঠছে জগতির ঢাকা ঝালোপাড়া গ্রাম৷
এখন অনেকেই আসে এলাচির কাছে৷ আসে স্বামীও৷ নিজের কৃতকর্মের
জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবার নিয়ে যেতে চান তার সংসারে৷ কিন্তু
এলাচি এখন সারাদেশের নির্যাতিত নারীদের নিয়ে তার জগৎ গড়েছেন৷
এত বড় দায়িত্ব রেখে অন্য চিন্তা করার সময় কোথায়!
|
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|