Article of Atiur

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
Recent

 

উদযাপিত হল

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

 
 
 

Last Update - 07 June, 07

 

দুর্যোগ মোকাবেলায় কন্যাশিশুর জন্য চাই আরো সংগঠিত উদ্যোগ
কন্যাশিশু দিবস সংখ্যা

উজ্জীবক বার্তা, বর্ষ-৩, সংখ্যা-১৭, সেপ্টেম্বর-২০০৪

 

 

ড. আতিউর রহমান
অর্থনীতিবিদ এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (বিআইডিএস)

 

ম্প্রতি এক ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ ৷ মোট ভূ-খন্ডের প্রায় অর্ধেকই পানির নিচে চলে গিয়েছিলো ৷ পানি নেমে গেছে, তবে ঢাকা শহরের আশেপাশের জায়গাজমি ও জলাঞ্চল ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবার কারণে পানি সেভাবে দ্রুত নামতে পারেনি ৷ ফলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা এক তীব্র রূপ নিয়েছিলো ৷ ঢাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকরি মুখে পড়েছিলো ৷ দুর্গন্ধময় এক পরিবেশে মানুষের জীবন কেটেছে ৷ স্যানিটেশন ও খাবার পানির সমস্যায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিলো ৷ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পানির নিচে চলে যাবার কারণে শ্রমিকদের কাজও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ৷ তবে ঢাকার বাইরে চর ও হাওড় অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছিলো ৷ তাছাড়া, সিলেট সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যার আক্রমণ খুবই তীব্র ছিল

 

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী মহলে যখন তীব্র বিতর্ক চলছে, তখন একটি কথা কেউ খেয়াল রাখছে না যে, সকল শ্রেণীর মানুষ একই রকম বিপদে পড়ে নি ৷ যাদের আয় সামান্য, জমিজমা অল্প এবং ঘরবাড়ি কাঁচা তাদের দুরাবস্থা অন্যদের চেয়ে বেশ বেশী ছিল এবং এখনও আছে ৷ এদের এবং বন্যার্ত আরও অনেক নিম্নআয়ের পরিবারে নারীর অবস্থা বন্যার সময় এবং বন্যাত্তোর সময়েও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৷ সাধারণত সংকট এলে গরীব এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মানুষ দু'ভাবে তা মোকাবেলার চেষ্টা করেন ৷ প্রথম তারা কম খরচে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন ৷ তিন বেলার জায়গায় দুবেলা, দুবেলার জায়গায় এক বেলা খাওয়া, পেটপুরে না খেয়ে আধ পেট খেয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন ৷ এক্ষেত্রে বৈষম্য লক্ষ্য করবার মতো ৷ বাড়ির কর্তার জন্য এরমধ্যেও মোটামুটি ভালো পরিমাণ খাবার জোটে ৷ ছেলে সন্তানও ভালোই খাবার পায় ৷ কন্যাসন্তানেরা তাদের ভাইদের চেয়ে কম খাবার পায় ৷ আর ঘরের গৃহিনীর কপালে কখনও খাবার জোটে, কখনও বা না খেয়েই থাকতে হয় ৷ এ কারণেই বন্যার সময় বা তার পরপরই ডায়রিয়া, ভাইরাল জ্বর, সর্দ্দিকাশির প্রকোপ পুরুষদের চেয়ে নারীদের মধ্যে বেশি করে দেখা যায় ৷ বিশেষ করে কমবয়সী কন্যাশিশুদের এ সময়টায় খুব করে অসুখ বিসুখে পড়তে দেখা যায় ৷ এরা অপুষ্টির শিকার হয় বলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও তাদের কম ৷ তাই অসুখ বিসুখও তাদেরই হয় বেশি ৷ সে কারণেই দেখা যায় যে, বন্যার পর পরই কন্যাশিশুর মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ৷ তাই বন্যা পরবর্তী পুর্নবাসন কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণের সময় শিশুদের, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের অপুষ্টির সমস্যাটির কথা ভালো করে মাথায় রাখতে হবে ৷ বন্যার সময়ও আমরা দেখেছি যে, শিশুদের জন্য আলাদা করে ত্রাণের ব্যবস্থা সেভাবে করা হয়নি ৷ পরিবারের জন্য চাল বা রুটি দেয়া হলেও শিশুদের জন্য দুধ বা বিস্কুট দেবার উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায়নি ৷ আমরা ক্ষুদ্র একটি ত্রাণ দল নিয়ে জামালপুর ও গাইবান্ধা গিয়েছিলাম ৷ বড়দের জন্য চাল রুটি দেবার পাশাপাশি শিশুদের জন্য হাইপ্রোটিন বিস্কুট ও লংলাইফ দুধ দেবার ব্যবস্থা করেছিলাম ৷ কয়েকদিনের বন্যায় অভুক্ত থাকা শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এই দুধ ও বিস্কুট দারূন ভূমিকা রেখেছিল ৷ সে কারনেই, শিশুদের কথা, আরও স্পষ্ট করে বলা চলে, কন্যাশিশুদের কথা মনে রেখে যেন আমরা বন্যা প্রতিরোধের চিন্তা করি

 

নিজেদের খাবার দাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার পাশাপশি দুর্বিপাকে পড়া পরিবারের সদস্যদের সামান্য সঞ্চয়ও হাত ছাড়া করে ফেলতে হয় ৷ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পানির দামে বিক্রি করে দেয়া ছাড়াও নারীর যক্ষের ধন গয়না আগে ভাগে বিক্রির চাপ আসে ৷ এমনিতেই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা খুবই সামান্য ৷ বিপদে পড়লে গয়না বিক্রি করে কোনো মতে তাঁদের বাঁচার সুযোগ থাকে ৷ কিন্তু সংকটের শুরুতেই পুরুষরা যেভাবে নারীর শেষ সম্বল বিক্রি করে দেবার জন্যে চাপ সৃষ্টি করে তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক ৷ তাছাড়া সংকটকালে অনেক সময় গৃহিনীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় যে, তারা যেন তাদের পিতামাতার কাছ থেকে কিংবা ভাইদের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আসে ৷ মনে রাখা চাই, এই সম্পত্তির ভাগ কিন্তু যে কোনো নারীর হাতের পাঁচ ৷ যদি স্বামী মারা যায়, কিংবা স্বামী পরিত্যাগ করে তখন নারীকে কপর্দকহীনভাবেই বাপের বাড়িতে আসতে হয় ৷ যদি সে আগেই তার ভাগের জমি নিয়ে থাকে, তাহলে এমন সংকটকালে তাকে দারূন উপেক্ষার শিকার হতে হয় ৷ অথচ বন্যা বা প্রাকৃতিক সংকট তেমনি এক ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় নারীকে ঠেলে দেয়

 

এবারের বন্যার ফলে নিঃসন্দেহে গরীব দুঃখী মানুষের দুঃখ কষ্ট বেড়েছে ৷ কিন্তু গরীব নারীর কষ্ট অন্যদের চেয়ে আরও বেশি বেড়েছে ৷ তবে যেসব গরীব নারী নিজেদেরকে গ্রুপ বা সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে তাদের অবস্থা এমনটি হয়নি ৷ উল্টো সম্মিলিতভাবে তারা বন্যার মতো সংকট দূর করতে পেরেছে ৷ তাদের সঞ্চয়ের অংক থেকে তারা ঋণ নিয়েছে ৷ তারা যে সংগঠনের সদস্য সেই সংগঠনের কর্মীরাও বন্যার্ত সদস্যদের জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত করতে এগিয়ে এসেছে ৷ এভাবে সংগঠিত নারীর জীবনচলা দুর্যোগে, দুঃসময়ে অসংগঠিতজনদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ছিল ৷ বন্যা-উত্তর সময়েও তারা আরও ভালোভাবে বাঁচার অবলম্বন ঐ সংগঠনের কর্মকান্ডের ভেতর খুঁজে পেয়েছেন ৷ অন্যদের মতো তাঁদের গয়না-গাটি বা গরু-ছাগল বা হাঁস-মুরগী পানির দামে বিক্রি করতে হয়নি ৷ কিংবা মহাজনের কাছে অধিক সুদে দাদনও নিতে হয়নি

 

অবশ্য সংগঠিত নারীর সংখ্যা এখনও অনেক কম ৷ যদিও বাংলাদেশে এনজিও ও অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের সদস্য সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, তবুও বিপুল পরিমাণ দরিদ্র মানুষের বিচারে এখনো আরও সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে ৷ তবে সরকারকে এসকল স্থানীয় সংগঠন গড়ার জন্যে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে ৷ বাংলাদেশে এখন এক কোটিরও বেশি পরিবার ক্ষুদ্র ঋণের অধীনে চলে এসেছে ৷ এদের শতকরা নব্বই ভাগই নারী ৷ এই সংগঠিত নারীদের পক্ষে যতোটা সফলতার সঙ্গে বন্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি

 

তাই আরও বেশি করে নারীদের জন্য সংগঠনের সদস্য হবার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে দারিদ্র নিরসনের লড়াইতে আমরা আরও সফল হবো ৷ একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে নারীর দিকে সম্পদ প্রবাহের গতি বাড়াতে হবে ৷ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারগুলোতে নারীর প্রতিনিধিত্ব হালে বেড়েছে ৷ কিন্তু তাদের হাতে সেভাবে সম্পদ দেয়া হচ্ছেনা ৷ আগামীতে তাদের মাধ্যমে বাজেটের একটি অংশ খরচ করা গেলে গ্রাম বাংলায় নারীর ক্ষমতায়নের বলয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে ৷ তবে এবিষয়টি এমনি এমনি বাস্তবায়িত হবে না ৷ নাগরিক সংগঠনগুলোকে আরও সোচ্চার হতে হবে ৷ মনে রাখা চাই, যে সমাজে মানুষ সংগঠিত, সে সমাজে দুযোর্গ এলেও সংগঠিত মানুষের পক্ষে দুর্গতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হয় ৷ সংগঠিত নারীর ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক

 

 

 

     

National Girl Child Advocacy Forum

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net