|
|
কন্যাশিশুও শিশু৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জন্মের পর থেকেই তারা
বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়৷ ছেলে সন্তান জন্ম নিলে শুরু হয় ঘরে
ঘরে আনন্দ, আযান, উলুধবনি বা বিশেষ উৎসব৷ আর কন্যাশিশু জন্ম
নিলেই দেখা যায় পিতা-মাতা, আত্মীয়দের বেদনাগ্রস্ত চেহারা,
উৎসবহীন পরিবেশ৷ এরপর কন্যাশিশু জীবনের প্রতিটি স্তরে মৌলিক
অধিকার ও সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে
শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়৷ এই অধিকারহীনতা, বৈষম্য, শোষণ ও
নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক বা শ্রেণীগত অবস্থানের কারণে ভিন্ন হয়৷
গবেষকদের মতে, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক তৈরি,
যৌনাঙ্গ কর্তন, কন্যাশিশুর ভ্রুণ হত্যা, জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায়
বাধ্য করা, কন্যাশিশু পাচার ইত্যাদি দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার
কন্যাশিশুদের প্রতি নির্যাতনের ধরন৷
শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়স্করা শিশু৷ দেখা যায়,
এই বয়সে বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর মতোই
মানবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রায় সকল ধরনের
নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিক্তা হতে হয়৷ এসব বৈষম্য ও নির্যাতনের
কারণ সাধারণত
# পশ্চাৎপদ পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি
# পশ্চাৎপদ সামাজিক সংস্কৃতি
# শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে
গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অনগ্রসরতা
# ধর্মীয় চরম গোঁড়ামী
# জনসাধারণের কন্যাশিশু ও নারীর
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব
ইত্যাদি৷
আন্তর্জাতিক সনদ ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গীকারপত্রে
স্বাক্ষর
কন্যাশিশুদের জন্য বিশেষভাবে ভাবার প্রসঙ্গটি আসে ১৯৯০ সালে
বিশ্ব শিশু সামিটে (World Summit
for Children 1990)৷ সম্মেলনে
কন্যাশিশুর আইনগত অধিকারে যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে সমাজ ও
রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি ও
বিকাশের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়৷ এরপরও
শিশু অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও অনেকগুলো আন্তর্জাতিক
সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷
বাংলাদেশও অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও সনদে স্বাক্ষর করেছে৷
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
জাতিসংঘ কর্তর্ৃক ঘোষিত ‘শিশু অধিকার সনদ’৷ ১৯৮৯ সালের ২০
নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সনদটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন
ও গ্রহণ করে৷ ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি সনদের মূল দলিলটি সদস্য
রাষ্ট্রসমূহের স্বাক্ষর, অনুসমর্থন ও জাতিসংঘ নীতিমালার
অন্তর্ভুক্তির জন্য উন্মুক্ত করা হয়৷ প্রথম দিনেই যেসব রাষ্ট্র
এতে স্বাক্ষর দান করে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম৷ ১৯৯০ সালের ৩
আগস্ট বাংলাদেশ এই সনদে অনুসমর্থন দান করে, অর্থাৎ সনদের
বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে৷ উল্লেখ্য যে, শিশু
অধিকার সনদে বিস্তারিতভাবে কন্যাশিশুদের অধিকারের কথা বলা আর এ
ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়েছে৷
# নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার
বৈষম্য বিলোপের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ‘সিডও সনদ’
(Convention on the Elimination of All Forms of
Discrimination Against Women)
এই সনদের ১৬টি ধারায় নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে৷
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালের ৬ই নভেম্বর এই দলিল অনুমোদন করে এগুলো
বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়৷
# চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে গৃহীত
হয়েছে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা৷ এতে নারীর উন্নয়নের লক্ষ্যে
চিহ্নিত ১২টি বিষয়ের একটি অন্যতম ইস্যু হলো জরমযঃং ড়ভ ঃযব মরৎষ
পযরষফ বা কন্যাশিশুর অধিকার৷ দলিলটিতে কন্যাশিশুর পারিবারিক,
সামাজিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থান ও তা থেকে উত্তরণের
জন্য করণীয় অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত করা হহয়েছে৷ অংশগ্রহণকারী
দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এসব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে অঙ্গীকারাবদ্ধ
হয়৷
# জাতিসংঘের অনেকগুলো অধিবেশনে
কন্যাশিশুর প্রতি অগ্রাধিকার ও নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের
লক্ষ্যে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ যেমন, জাতিসংঘের ৬০তম
অধিবেশনে কন্যাশিশুর জন্য একটি বিশেষ প্রস্তাব (জবংড়ষঁঃরড়হ
৬০/১৪১ ড়হ ঃযব মরৎষ পযরষফ) গ্রহণ করা হয়৷ বাংলাদেশ এসব
সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷
সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন্ সনদে স্বাক্ষর ও
বহুমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের দেশে কন্যাশিশুরা অনেক
ধরনের বঞ্চনা ও মানবাধিকার লংঘনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে থাকে৷
যেমন:
১. শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে
কন্যাশিশু ও পুত্রশিশুর মাঝে পরিবার ও সমাজের বৈষম্যমূলক
দৃষ্টিভঙ্গি এখনও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান৷
২. যৌন হয়রানি ও নির্যাতন ও শারীরিকভাবে অন্যান্য নিগ্রহ এখনও
ব্যাপক৷
৩. দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে পরিবারে ও সমাজে এখনও কন্যাশিশুদের
৮/১০ বছর বয়স থেকেই সহজ বাধাহীন চলাফেরা, মেলামেশার ওপর নানা
ধরনের শর্ত আরোপ হতে থাকে৷ কন্যাশিশুর যতই বয়স বাড়তে থাকে,
প্রথা, সংস্কার, ধর্ম ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির নামে তাদের পায়ে
বেড়ি পরানো হতে থাকে ততই৷
৪. কন্যাশিশুদের অনেক পরিবারেই বোঝা হিসেবে মনে করা হয়, কারণ
তাদের বিয়ে দিতে গেলে যৌতুকের জন্য পরিবারে বাড়তি অর্থনৈতিক
চাপ সৃষ্টি হয়৷ অন্যদিকে পুত্রসন্তান হলে অর্থ সম্পদ ঘরে আসবে৷
তাই son preference
বা পুত্র প্রাধান্য পরিবারে এখনও বিদ্যমান৷
৫. কন্যাশিশুরা ধর্ষণ, অপহরণ, দেহ ব্যবসা, বিদেশে পাচার,
পরিবার ও আত্মীয় দ্বারা যৌন হয়রানি বা নিপীড়ন এবং গৃহ পরিচারিকা
হিসেবে অন্য পরিবারে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক
নির্যাতনের শিকার হচেছ৷ ধর্ষণের শিকার কিশোরী অনাকাঙিক্ষত
সন্তান নিয়ে সামাজিক হেয় দৃষ্টিভঙ্গি ও চরম অপমানের শিকার হয়ে
মানসিকভাবে গ্লানিকর জীবন যাপন করছে৷
৬. বাল্য বিবাহ ও এর ফলে কিশোরী মাতারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে
নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছে৷
৭. স্বাস্থ্য সুযোগ ও প্রজনন বিষয়গত জ্ঞানের অভাব, প্রজনন
অধিকার ও যথাসময়ে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে
ব্যাপক অজ্ঞতার কারণে কন্যাশিশুরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত
হচেছ৷
৮. সমাজের সামগ্রিক সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে
নিরাপত্তাহীনতা, আইন পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, যার প্রতিফলন ঘটে
ইভটিজিং-এর মত সমস্যার মাধ্যমে৷
সরকারি ঘোষণা ও বেসরকারি অনেক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি থাকা
সত্ত্বেও কন্যাশিশুদের নিগ্রহ ও বঞ্চনা কেন বন্ধ হচেছ না তা আজ
ভাবা দরকার৷ গভীরভাবে ভাবা দরকার বাল্যবিবাহের বিষয়টি নিয়েও৷
বাল্যবিবাহের মূল কারণ সাধারণত দারিদ্র্য, অল্পবয়সী মেয়েদের
নিরাপত্তার অভাব ও সামগ্রিকভাবে জীবনের নিরাপত্তার সমস্যা, যৌন
নির্যাতনের ভয় ইত্যাদি৷ এই বাল্যবিবাহ রোধে সরকারকে বিশেষ
পদক্ষেপ নিতে হবে৷ এছাড়া কন্যাশিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে
Dropout
বা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা৷
তাই শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচির সাথে সাথে অভিভাবকদের
দারিদ্র্য বিমোচন, ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন বন্ধ করার দিকে
দৃষ্টি দিতে হবে৷ উপরন্তু কন্যাশিশুর শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের
বিশেষ অগ্রগতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত শতকরা কয়জন নারী উচচশিক্ষায়
যেতে পারছে, এই হিসাব আরও বস্তুনিষ্ঠভাবে করা দরকার৷
যৌন নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ ও কন্যাশিশুদের জীবনে বিরাট সমস্যা৷
এ সকল সমস্যা শহর, গ্রাম, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, দরিদ্র,
উচচবিত্ত, নিম্নবিত্ত নির্বিশেষে সকলের জন্য প্রয়োজন৷ সম্প্রতি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত
Gender Analysis of Suicide in
Contemporary Bangladesh
শীর্ষক গবেষণায় থেকে দেখা যায়, ৫০ জন আত্মহত্যাকারী নারীর
বেশিরভাগেরই বয়স ১০-২০ বছরের মধ্যে৷ আর এদের অধিকাংশ আত্মহত্যা
করেছে নানা প্রকার নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে, অভিমানে,
ভবিষ্যৎ ব্যর্থ ও অনিশ্চিত জীবনের কথা ভেবে৷ পত্রিকার গত ৬
মাসের ক্লিপিং পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে প্রায় প্রতিদিন
কমপক্ষে একজন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়৷ ধর্ষণ মানে তার
সীমাহীন শারীরিক ক্ষতি এবং অনেক সময় সেই স্বাস্থ্য ও দেহগত
ক্ষতি আর পূরণ করা যায় না৷ আর মানসিক ক্ষতি তো কোনোমতেই পূরণ
হবার নয়৷ উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য ও
পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে ধর্ষিত কন্যাশিশুদের পরিবার
সামাজিকভাবে হেয় হয়ে পড়ে৷ আর এর সবটুকু মনঃস্তাত্ত্বিক,
সামাজিক চাপ ভয়াবহভাবে পড়ে ধর্ষিতা কন্যাশিশুর উপর৷ এক্ষেত্রে
এসব ঘটনার জের হিসেবে ধর্ষিতা তরুণীরা আত্মহত্যা করে৷ আর এ
ভয়াবহ চিত্রের মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশের কন্যাশিশুর
মানবাধিকার প্রশ্নটি কোন পর্যায়ে আছে৷
কন্যাশিশুদের অবস্থা পরিবর্তন করতে হলে বাংলাদেশে উত্তরাধিকার
আইন সংশোধন করা একান্ত জরুরি৷ কারণ এতে পিতার সম্পত্তিতে পুত্র
কন্যা সম-অধিকার ভোগ করেন না৷ এ ধরনের সকল বঞ্চনা দূর করে
কন্যাশিশুদের নিরাপদ, সমতাপূর্ণ, অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে
গড়ে ওঠার সকল সুযোগ দিতে হবে৷ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য,
বেঁচে থাকার মতো মৌলিক অধিকারসহ সকল প্রকার অধিকার আদায়ের
ব্যবস্থা ও পরিবেশ জীবনের শুরুতেই করতে হবে৷ সর্বোপরি পরিবার,
পিতামাতা, অভিভাবক, শিক্ষক তথা পুরো সমাজকে এক্ষেত্রে
ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে হবে৷ সরকারকেও শিশু অধিকার সনদ, নারীর
প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের সনদসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
আরো আন্তরিক ও উদ্যোগী হতে হবে৷
আন্তর্জাতিক নীতি, সনদ, কনভেনশন, কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে
যথাযথভাবে দ্রুত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য কেবলমাত্র অর্থ বা
প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধাই যথেষ্ট নয়৷ এর জন্য অনেক বেশি
প্রয়োজন দেশের রাজনৈতিক শক্তিসমূহের সদিচছা৷ তা না হলে
কন্যাশিশু দিবস পালন নেহায়েত আনুষ্ঠানিকতায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে৷
পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে ক্ষেতে-খামারে কর্মরত মেয়েদের থাকা,
খাওয়া, বাসস্থান, যাতায়াত, চলাফেরাসহ জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা
পরিবেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে কন্যাশিশু তথা নারীর
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে৷ এছাড়াও অর্জিত
ইতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে, বিরাজমান সমস্যাগুলো দূরীকরণের পক্ষে
সচেতন পদক্ষেপ নিতে হবে৷ তাই আমাদের সুপারিশসমূহ হলো-
# নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক ও
সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, যার প্রভাব ও প্রতিফলন পড়বে
সমাজ ও রাষ্ট্রে৷
# শিশু সনদ (ঈজঈ) সিডও সনদ ও বেইজিং
কর্ম-পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা
ঘধঃরড়হধষ অপঃরড়হ চষধহ সরকারিভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য
সরকারি ও বেসরকারিভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা৷
# গউএ -তে বর্ণিত নারী শিক্ষা কর্মসূচি
কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বাস্তব
কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করা৷
# ওঈচউ- এর আলোকে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি
প্রণয়ন করা৷
# জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ’৯৭
পুনর্বহাল করা৷
# পিতার সম্পত্তিতে পুত্র কন্যার সমান
অধিকার নিশ্চিত করা ও সম্পদ-সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকার
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা৷
# শিল্প, কল-কারখানা বিশেষ করে পোশাক
শিল্পে যেসব নারীরা কাজ করে তাদের বয়স অধিকাংশই ১৮-এর মধ্যে৷
এসব ক্ষেত্রে কর্মরত কন্যাশিশুদের অর্থনৈতিক শোষণ, স্বাস্থ্য
অধিকারহীনতা ও যৌন নির্যাতন অবসানের জন্য শিল্প মালিক, সরকার,
শ্রমিক সংগঠনের যৌথভাবে কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করা৷
# কন্যা শিশুদেরকে ইভটিজিংসহ বিভিন্ন
প্রকার যৌন হয়রানি থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তরুণ, কিশোর, যুব
সমাজকে কন্যাশিশু ফোরাম ও বৃহত্তর পরিসরে নারী অধিকার
আন্দোলনের কর্মসূচিতে যুক্ত করা৷
# কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য
অভিভাবক ফোরাম গঠন করা৷
# বিদ্যালয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
শুধুমাত্র ভর্তির হার বৃদ্ধির সাথে সাথে, উৎড়ঢ়ড়ঁঃ বা স্কুল থেকে
ঝরে পরা যাতে বন্ধ হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া৷
# বাল্যবিবাহের হার কমানো ও কিশোরী
বয়সেই মাতৃত্বের বোঝা এবং এর থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত জটিল
সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা৷
# সহজ, সুলভ, গণমুখী, বৈজ্ঞানিক
শিক্ষানীতি চালু রাখা ও পাঠ্যসূচিতে যৌন শিক্ষা, এবহফবৎ ও
মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যু যুক্ত করা৷
# প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্যপূর্ণ
সংস্কৃতি পরিবর্তনে সাংস্কৃতিক কর্মকা পরিচালনা ও গণমাধ্যমে
নারীর ইতিবাচক উপস্থাপন নিশ্চিত করা৷
# কন্যাশিশুর মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে
প্রচলিত আইনের সংস্কার করা ও ‘কন্যাশিশু বোঝা নয়, সম্পদ’ এই
দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা৷
# প্রতিবন্ধী কন্যাশিশুদের জন্য
ইবরলরহম কর্মপরিকল্পনার আলোকে (ঝঃধহফধৎফ জঁষবং ড়হ ঃযব
ঊয়ঁধষরুধঃরড়হ ড়ভ ঙঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃরবং ভড়ৎ চবৎংড়হং রিঃয উরংধনরষরঃরবং)
বিশেষ জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা৷
# নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার উপযোগী সংস্কৃতি ও পরিবেশ গড়ে তোলা৷
|
|