General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

আসমা ও তার নারীকল্যাণ সংস্থা
কাজী ফাতেমা বর্নালী

  কখনো কখনো এমন ঘটনাও ঘটে যাতে আশার স্বপ্নগুলো ধূসর ধূলিকণায় পরিণত হয়৷ জীবনের স্বাভাবিক গতি এমনিভাবে বদলে যায় যেন হাল ছাড়া মাঝির মতো৷ এই জীবনে বেঁচে থাকাটাই তখন অর্থহীন মনে হয়৷ নিজের জীবনের চাকা থামিয়ে দেয়াটাই হয়ে যায় মূল লক্ষ্য৷ সেখান থেকে যদি কেউ বেরিয়ে আসে, কেউ যদি নিজের চেষ্টায় বিপর্যস্ত জীবনটাকে আবার সাজিয়ে নিতে পারে, তবে সেই মানুষের লড়াইটাকে সবাই মনে রাখে৷ আলমডাঙ্গার হোসনে আরা আসমা এমনই একজন নারী৷

চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি থানা আলমডাঙ্গা৷ কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে ১৯৭৬ সালে জন্ম হোসনে আরা আসমার৷ বাবা আজিজুর রহমান আর মা জাহানারা বেগম৷ ভাই-বোনের মধ্যে আসমা দ্বিতীয়৷ ছোটবেলা থেকেই খুব সাহসী ও চঞ্চলা প্রকৃতির৷ স্কুলে পিটি করা, খেলাধুলা করা যে কোনো বিষয়ে তার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা ছিল৷ বাবা-মা খুব বেশি লেখাপড়া জানতেন না, তাই মেয়ে আসমাকে লেখাপড়া শিখানোর আগ্রহ ছিল তাদের খুব বেশি ৷ তাদের স্বপ্ন বড় হয়ে আসমা নার্স হবেন৷ সমাজের সকল মানুষের সেবা করবেন৷ আসমা প্রাইমারি শেষ করে আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন৷ এর মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিচয় হয় কামাল হোসেনের সাথে৷ অল্প দিনের পরিচয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷ বাবা-মার কিছুটা অমতে তার বিয়ে হয় ১৯৯০ সালে৷

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে ভালোই দিন কাটছিলো তার৷ স্বামী ও ভাসুর ছাড়া সংসারে আর কেউ ছিলেন না ৷ স্বামী কামাল ছিলেন এলাকার প্রভাবশালী৷ এলাকায় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে এসে দাঁড়ানোর কারণে সবাই তাকে ভালোবাসতো৷ এসব দেখে খুব গর্ব হতো আসমার৷ ১৯৯৬ সালে তাদের সংসারে নতুন অতিথি আসে৷ বাবা-মা মিলে নাম রাখেন আঞ্জুমান আরা লতা৷ লতার বয়স যখন এক, তখন এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত হয় আসমার জীবন৷ ১৯৯৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হন আসমার স্বামী৷

আসমা কান্নাভেজা গলায় বলছিলেন ‘স্বামী আমার মাথার উপর ছায়ার মতো ছিলেন’৷ স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে আসা হয় বাবার বাড়িতে৷ বাবার বাড়ির দিন যেন আর কাটতে চায় না৷ দিন দিন যেন সবার বোঝায় পরিণত হয়েছিলেন তিনি ও তার মেয়ে লতা৷ এমনও দিন গেছে বাড়ির সকলেরই খাবার শেষ, কিন্তু তাকে খাওয়ার কথা বলছে না কেউ, তাকে ও তার মেয়েকে পরিধানের কাপড় দিতে গেলেও বাড়তি কাপড় দেওয়া হচেছ বলে মনে করছে৷ আবার এখান থেকে শ্বশুরবাড়ি থাকার জন্য গেলেও তারা বলে, তুমি ছোট মানুষ; তোমাকে কী করে রাখবো, তুমি বাবার বাড়ি চলে যাও৷ এভাবেই চলতে থাকে সময়৷ তাকে বা তার মেয়েকে কোনো রকম সহযোগিতার কথা বলেনি কেউ এ সময়৷ এক বছরের শিশুকে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে৷ স্বামীর এত টাকা পয়সা ভাসুর ও স্বামীর কিছু বন্ধুবান্ধব মেরে খেয়েছে৷ সমস্যা শুধু খাবার বা বেঁচে থাকাটাই নয়; বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো তার ‘অল্প বয়স’৷ অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার কারণে তাকে গ্রামের কিছু ভদ্রলোকের কুনজরে পড়তে হয়৷ তারা নানান ভয় ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে সব সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাখতো আসমাকে৷ কত রাত মনে হয়েছে একটু বিষ খেয়ে নিজের ও মেয়ের জীবনটা শেষ করলেই বোধহয় মুক্তি৷ শুধু মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে শেষ করেননি আসমা৷ বরং এর শেষ দেখতে চেয়েছেন৷ গ্রাম ছেড়ে আলমডাঙ্গা শহরে আসেন তিনি৷ এখানেও বিপত্তি৷ কেউ তাকে বাসা ভাড়া দিতে চায় না৷ সুন্দরী বিধবা নারী বলে তাকে ঘর ভাড়া দেওয়া যাবে না৷ এ অবস্থায় তার নিজ গ্রামের শেফালী নামের এক নারী আলমডাঙ্গা শহরে তাকে বাসাভাড়া পেতে সহযোগিতা করে৷

একদিন দেখা হয় গ্রামের পরিচিত আবদুস সামাদের সাথে৷ তারই সহায়তায় আলমডাঙ্গার ‘হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স’- এ আসমার চাকরি হয়৷ চাকরির প্রথম বেতন পান মাত্র ৮০০ টাকা৷ এই নিয়ে তার খুশির কমতি ছিলো না৷ ঈদে মেয়ের জন্য সাবান, জামা কিনে নতুন সাহস সঞ্চয় হয়৷ এই ছোট্ট জীবনে কত ঘটনাই না ঘটে গেল, কিন্তু হাল ছাড়া হয়নি তার৷ দু বছর চাকরি করার পর মনে হলো লেখাপড়া করা দরকার৷ তারপর ১৯৯৯ সালে আলমডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দ্বিতীয় বিভাগে দাখিল পাশ করেন৷ চলতে থাকে জীবন৷ এর মধ্যে ‘রূপনগর’ এনজিওতে কিছুদিন ঋণের কাজও করেছেন তিনি৷ মাসে ২৮০০ টাকা করে আয় হতো; কিন্তু দু মাস অসুস্থ থাকায় চাকরিটা করা হলো না৷ ২০০৩ সালে ‘উজ্জীবক’ নামে একটি সংস্থায় কাজ করেন তিনি৷ এই কাজ করার সময় প্রতিনিয়তই নিরাপত্তাহীন মনে হতো নিজেকে৷ যেখানেই কাজ করতে যান না কেন ভয় বা আতংক যেন তার পিছু ছাড়ে না৷ অনেক ভাবনা-চিন্তার পর সিদ্ধান্ত নিলেন, জীবনে এমন একজন সঙ্গী দরকার যার সাহায্যে তিনি সমাজে নিরাপত্তা ফিরে পাবেন৷ এইসব ভাবনা থেকে আসমা দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যাকে বিয়ে করলেন তিনি তার সব বিষয় জেনেই বিয়েতে রাজি হন৷ প্রথম অবস্থায় স্বামী খুবই সহযোগিতা করতে থাকেন৷ তখন বোঝা যায়নি, কিন্তু আস্তে আস্তে তার আসল মুখোশ খুলতে থাকে৷ আসমার দ্বিতীয় স্বামীর টাকার উপর লোভ ছিল খুব বেশি৷ তাই যে কোনো শর্তে আসমাকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন৷ আসল রূপ প্রকাশের পর হতাশ হয়ে পড়েন আসমা৷

এই হতাশা আর জীবনের কষ্টগুলো ভুলে থাকার জন্য সামাজিক কাজকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি৷ এলাকায় তার নানান সামাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ততা দেখে পি ডি এফ সংস্থার মালিক এবং জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আসমাকে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট- এ প্রশিক্ষণের কথা বলেন৷ আসমা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন৷ ২০০৭ সালে জুলাই মাসের ২৬-২৯ তারিখ আলমডাঙ্গায় দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ১২১৯তম ব্যাচে উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি৷ প্রশিক্ষণের সকল কথা যেন তার জীবনের সাথে মিলে যায়৷ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপলব্ধি করেন, মানুষ পারে, মানুষ সব করতে সক্ষম৷ নিজের আত্মশক্তি কাজে লাগিয়ে মানুষ বড় হতে পারে, মানুষ একক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বড় কিছু করতে পারে৷ তার মনে হয় নারীরা অন্যের আয়ের উপর নির্ভরশীল, তারা অবহেলিত, অত্যাচারিত৷

নারীর ভাগ্য নিয়তির উপর নির্ভরশীল নয়৷ এই বিষয়টির জন্য দায়ী সমাজ ও অবকাঠামো৷ আসমা নিজের ও অবহেলিত নারীদের নিয়ে ভাবতে শুরু করেন নতুন করে৷ শুরু করেন নতুন লড়াই৷ প্রশিক্ষণের পর একটি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতে কাজ শুরু করেন৷ আসমা হাতের কাজ শিখেছিলেন, সেটিকে পুঁজি করে তৈরি করতে থাকেন জামা কাপড়, এরই পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে জনসচেতনামূলক কর্মকাণ্ড৷ আসমার ভিন্নধর্মী কাজ দেখে তার সাথে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন দুজন, মিনারা ও রিতা৷ আসমার কাজ করার শক্তি বেড়ে যায়৷ কাজ করার জন্য আরো একটি সেলাই মেশিন মাসে দু’শত টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয়৷ আলমডাঙ্গা পারকুলা গ্রাম থেকে টুকরা কাপড় এনে বালিশ ও লেপের কভার বানিয়ে আশেপাশের বাজারে সরবরাহ করতে লাগলেন৷ এই কাজে ক্রমেই সদস্য বাড়তে থাকে৷ তারপর তিনি ১০ জন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেন৷ সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদ্দেশ্যে দশ জনকে নিয়ে একটি সমিতি গড়ে তোলেন৷ সমিতির নাম ‘নারী কল্যাণ সংস্থা’, তিনি সমিতির সভানেত্রী হন৷ গতবছর (২০০৮) রেজিস্ট্রেশনের পর এর নতুন নাম হয় ‘দরিদ্র উন্নয়ন ও সামাজিক সংস্থা’৷ এই সংস্থার মধ্যদিয়ে আসমা তার সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন৷

আসমা সিরাজুল ইসলামের সহযোগিতায় উজ্জীবকসহ ৪২ জন নারীকে ব্লক-বাটিকের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন৷ তার মধ্যে হোসনে আরা আসমার নেতৃত্বে ৩২ জন এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন৷ প্রশিক্ষণ শেষে আসমা স্থানীয় একটি সংস্থা থেকে ২২০০ টাকা ঋণ নেন এবং সমিতির মাধ্যমে চারটা সেলাই মেশিন ভাড়া নেন৷ তিন মাসের মধ্যেই তিনি পুরাতন ৪টি সেলাই মেশিন কেনেন৷ আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন বাজার থেকে অর্ডারের কাজ নিয়ে শুরু করেন ব্লক-বাটিকসহ চুমকি সুতার কাজ৷ এছাড়া পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়াতে নকশা ও ফুল ওঠানোর কাজ৷ তারপর তা বাজারে বিক্রি করা হয়৷ এভাবে প্রথম বছর লাভ হয় ৭/৮ হাজার টাকা৷ নিজস্ব মূলধন ছাড়া অতি অল্প সময়ে স্বাবলম্বী হওয়া এবং আরো মেয়েদের এর সাথে জড়িয়ে নেওয়ার কারণে আসমা দ্রুত সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন৷

আলমডাঙ্গা থানায় এখন আসমা একটি অতি পরিচিত নাম৷ তার সমিতির প্রত্যেক সদস্য যেন পরিপূর্ণ স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেও পারে আর এই লক্ষ্যেই আসমা ও তার সংগঠন নিবেদিত ভাবে কাজ করে যাচেছন৷ পাশাপাশি আসমা এখন আলমডাঙ্গা উপজেলা জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদিকা পদে যোগ দেন৷ সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যবসার পাশাপাশি যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সব সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন এই নারী৷ আসমা নিজ এলাকাতে নয়, জেলার বাইরেও নিয়মিত উজ্জীবক প্রশিক্ষণ এবং ফলোআপ সভা পরিচালনা করতে যান ৷

এরই ফাঁকে তিনি বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ শীর্ষক ফাউন্ডেশন কোর্স’-এর কথা জানতে পারেন৷ ২০০৭ সালে আগস্ট মাসে কুষ্টিয়ার থানাপাড়ার রূপান্তর সম্মেলন কেন্দ্র মিশন স্কুলে ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আসমা৷ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নারী অধিকার, জেন্ডার, লিঙ্গ বৈষম্য ইত্যাদি বিষয়ে তার সুস্পষ্ট ধারণা লাভ হয়েছে৷ প্রশিক্ষণের শেষে এলাকায় ফিরে গিয়ে নারীর আইনি অধিকার, নারী নির্যাতনে শালিশ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা ও উঠান-বৈঠক করে যাচেছন৷ উঠান-বৈঠকের মাধ্যমে স্যানিটেশন সমস্যা, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন৷ এছাড়া নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শিক্ষার উপর জোর দিয়েছেন আসমা৷ তার উদ্যোগে বয়স্কদের জন্য ৩টি স্কুল চালু হয়েছে৷ উজ্জীবকরা এখন এই স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে৷

আসমা এখন প্রত্যাশা করেন গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য সমিতি থেকে একটা স্কুল করার৷ এছাড়াও বিভিন্ন দিবস পালন, সচেতনতার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন করা, নিয়মিত উঠান-বৈঠকসহ অন্যান্য কার্যক্রম তো চলছেই৷ আসমা এখন প্রায়ই বলেন, হাঙ্গার প্রজেক্টের সংস্পর্শে এসে আমি ব্যবসা করার মতো মনোবল ও সাহস ফিরে পেয়েছি৷ এলাকার যে সমস্ত মানুষ আগে তার কাজকে বাঁকা চোখে দেখতো এখন অনেকেই তার সমিতিতে সদস্য হয়ে ব্যবসার অংশীদার হতে চায়৷ আসমা বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক অমিত সম্ভাবনা৷ শুধু পরিকল্পিত দিকনির্দেশনার মাধ্যমেই তাকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব৷ আসমা তার অতীতের দুঃখকে ভুলে গিয়েছেন৷ লতা নবম শ্রেণিতে পড়ে৷ আসমা ইতোমধ্যে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন৷ এখন তার স্বপ্ন লতাকে সঠিকভাবে মানুষ করা৷

আর হতাশা নয়, আসমা এখন স্বপ্ন দেখেন, আলমডাঙ্গায় এমন একটি বড় প্রতিষ্ঠান হবে, যেখানে অসহায় মেয়েরা কাজ করে খেতে পারবে আর পারবে নিরাপদ থাকতে৷ এর মধ্যদিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে উঠবে, যা নারীদের জন্য পরিপূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে৷ আমরা আশা করি, সে সমাজে একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে৷ আসমার লড়াই সেই স্বপ্নের বীজ আমাদের মধ্যে তৈরি করে দিয়েছে৷ প্রতিটি ঘরে আসমার মতো নারী জেগে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা৷
 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net