General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
আবু জিসান এম. আলমগীর

 

নিরলস প্রচেষ্টা আর বিরামহীন পরিশ্রম নাসিমা ইয়াসমীনকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে৷ তিনি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবেন না, নিজের এলাকার মানুষগুলোকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচেছন৷ এলাকার মানুষকে উজ্জীবিত করার জন্য তার প্রচেষ্টা আমাদের অনেকের জন্যই প্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে৷

মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নের সিপাহীপাড়ায় ১৯৬৮ সালে নাসিমা ইয়াসমীন এক সম্বান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন৷ মরহুম আবু ছ্‌্‌ইাদ চৌধুরী ও মাতা মরহুমা আকলিমা বেগমের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে নাসিমা ইয়াসমীন পঞ্চম৷ ১৯৮৪ সালে রামপাল এনবিএম উচচ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন৷ রামপাল মহাবিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন৷ শ্রীনগর সরকারি কলেজ থেকে নাসিমা ইয়াসমীন ১৯৮৮ সালে বিএ পাশ করেন৷ সে সময়ে সিপাহীপাড়া গ্রামে তিনিই প্রথম বিএ পাস একমাত্র নারী ছিলেন৷

শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০০৬ সালে নাসিমা ইয়াসমীন ৯৫০তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ‘নারী নেতৃত্বের বিকাশ’ শীর্ষক ফাউন্ডেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৩তম স্বেচছাব্রতী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ ২০০৮ সালের মার্চ মাসে নাসিমা ইয়াসমীনের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটি গঠন করা হয়৷ তিনি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন৷ মীরকাদিম পৌরসভা, রামপাল ইউনিয়ন, মহাকালী ইউনিয়ন, মুন্সীগঞ্জ সদরসহ সমগ্র এলাকায় তার নেতৃত্বে কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্যরা বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠে৷ ২০০৮ সালে নাসিমা ইয়াসমীনের নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর, রামপাল, মিরকাদিম, রিকাবীবাজার, পঞ্চসার, মুক্তারপুরসহ প্রায় ৭টি স্থানে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত হয় এবং উল্লিখিত স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসও পালিত হয়৷

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রিকাবী বাজারের বিশিষ্ট সমাজকর্মী, সংগঠক মাসুদ ফকরী খোকনের সাথে ২৪ বছর বয়সে নাসিমা ইয়াসমীনের বিয়ে হয়৷ বিয়ের পর ১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় যুব উন্নয়ন থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ এরপর ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি রিকাবীবাজার ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে পাঁচশত মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেন৷ ১৯৯২ সালে নাসিমা ইয়াসমীন রিকাবীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হন৷ ১৯৯৫ সালে তিনি মিরকাদিম পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন৷ এ সময়ে তিনি রিকাবিবাজার এলাকার অসহায়, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাদের সেলাই, শাকসবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করেন৷

মুন্সীগঞ্জ সদরের নগর কসবা, এনায়েত নগর, টেঙ্গর, কালিন্দিপাড়া, রিকাবীবাজার পূর্ব পাড়া, রিকাবীবাজার পশ্চিম পাড়া, নৈদিঘীরপাড়, রামগোপালপুর এবং নূরপুরসহ আরো অনেক গ্রামে যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য ১৯৯১ সাল থেকে নাসিমা ইয়াসমীন কর্মশালা ও উঠান-বৈঠক শুরু করেন৷ এলাকার আশা ও ব্র্যাক অফিসের কার্যালয়কে তিনি ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করেন৷ সপ্তাহের প্রতি রবি ও সোমবার তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন৷ ১৯৯৫ সালে নাসিমা ইয়াসমীন রিকাবীবাজার ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন৷ একই বছর তিনি রিকাবীবাজার বালিকা উচচ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য নির্বাচিত হন৷

যৌতুক, বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশু পার্ক স্থাপন এবং ইদ্রাকপুর কেল্লাকে যাদুঘরে রূপান্তরিত করার জন্য ২০০৮ সনের ৮ ও ২৪ মার্চ নাসিমা ইয়াসমীনের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়৷ এছাড়া পরিবেশ রক্ষার জন্য একই বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর তার নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রায় ৫ শতাধিক নারী পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন৷ এরপর তিনি এলাকার গরিব, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই সরবরাহ, বিনা বেতনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা, বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণসহ পোষাক প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন৷ এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিরা তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন৷

১৯৯০ সালের ১৮ নভেম্বর নাসিমা ইয়াসমীনের নেতৃত্বে পদক্ষেপ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে৷ পদক্ষেপ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে ৫টি পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখানো ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়৷ এছাড়া এইডস প্রতিরোধকল্পে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও তামাক বিরোধী ক্যাম্পেইন করা হয়ে থাকে৷ সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতি বছর প্রায় ২ শত গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলের পোশাক এবং বইপত্র দেয়া হয়ে থাকে৷ পদক্ষেপ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন নির্যাতিতা নারীদের আইনগত সহায়তা, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত বেদে, জেলে, বাদ্যকর, কলু, মুচিদের মধ্যে গণসচেনতা সৃষ্টি, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচেছন৷

ধূমপান বিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম কর্মসূচি হিসাবে প্রতি মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখে পদক্ষেপ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সাথে মিটিং হয়ে থাকে৷ মিটিং শেষ হওয়ার পর তারা মোবাইল টিম নিয়ে জেলার গুরুত্বপুর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন৷ বাস টার্মিনাল, হাসপাতাল, লঞ্চঘাট ইত্যাদি স্থানে ধূমপানরত অবস্থায় কাউকে পাওয়া গেলে তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়৷ এর ফলে এ সব উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করতে সাধারণ লোকজন সাহস পায় না৷

মুন্সীগঞ্জ সদরের মাকুহাটি ইউনিয়নের মাকুহাটি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে মাহমুদা বেগমের সাথে রিকাবী বাজারের তারামিয়ার ছেলে কাউছার আহম্মেদের যৌতুকবিহীন বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন নাসিমা ইয়াসমীন৷ ১৭ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে এ বিয়ের আয়োজন করে তিনি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন৷ এ দম্পত্তি বর্তমানে সুখেই আছেন৷

২০০৭ সালে নাসিমা ‘নারী কল্যাণ সমিতি’ নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলেন৷ অসহায়, নির্যাতিতা নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান করা, বিদেশগমনকারী নারীদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য এ সংগঠনটি পরিচিতি লাভ করে৷ রিকাবীবাজার পূর্বপাড়ার মাহবুব আলমের মেয়ে তানিয়ার স্বামী তাকে বউ হিসেবে অস্বীকার করলে আইনি সহায়তার মাধ্যমে নাসিমা তার সমাধান করার জন্য কাজ করেছেন৷

মুন্সীগঞ্জ সদরের রিকাবীবাজারের নগর কসবা গ্রামের সিরাজ মিয়ার কন্যা রোকসানার বিয়ে হয় নারায়ণগঞ্জের আলীর টেক ইউনিয়নের বিপ্লবের সাথে৷ বিয়ের পর পরই ছেলে মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে৷ যৌতুক দিতে না পারায় মেয়েকে তিন বছর বাবার বাড়ি রেখে দেয়া হয়েছে৷ মীরকাদিম পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সহায়তায় নাসিমা গ্রাম সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসা করে দেন৷ যার ফলে রোকসানা তার স্বামীকে নিয়ে সুখেই সংসার করছেন৷

আমাদের সমাজের কুসংস্কার দূর করে সমাজে নারীদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করার জন্য অন্যান্য নারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে৷ নাসিমা ইয়াসমীনের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় মুন্সীগঞ্জ থেকে আরো ২১ জন নারী ‘নারী নেতৃত্বের বিকাশ’ শীর্ষক ফাউন্ডেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন৷ অচিরেই তারা মুন্সীগঞ্জে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে নাসিমা আশাবাদী৷ নতুন নারী নেত্রীদের সাথে নিয়ে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নে একটি উজ্জীবক প্রশিক্ষণও করেছেন৷ ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন৷ তার মধ্যে ৭০ জন অংশগ্রহণকারীই নারী ছিলেন৷ মুন্সীগঞ্জ সদরের প্রতিটি ইউনিয়নে নাসিমা উজ্জীবক প্রশিক্ষণ করার জন্য পরিকল্পনা করেছেন৷ এভাবেই তিনি মুন্সীগঞ্জের গ্রামে গ্রামে নারীমুক্তির বাণী পৌঁছে দিতে চান৷

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net