| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
Recent |
|
|
|
|
কন্যাশিশুর দেখা শৈশব
জোবাইদা নাসরীন* |
|
|
আমাদের বাসায় সবচেয়ে ছোট শিশু আদৃতা। আমার বোন চাকরিজীবী হওয়াতে
জন্মের পর থেকে আমাদের বাসাতেই তার বেশিরভাগ সময় কাটানো। আমার
মা’র চেয়ে বাবার সঙ্গেই তার সখ্যতা বেশি। সমাজে সচরাচর প্রচলিত
ধারণা আছে যে, ‘মেয়ে শিশুরা একটু শান্ত
হয় এবং ছেলে শিশুরা বেশ দুষ্টু হয়’- আদৃতা ছোটবেলা থেকেই
স্বভাবগতভাবে সমাজের এই ইমেজ ভেঙ্গেছে। বড় ভাইকে বড় সাইকেল
দিয়েছি বলে তাকেও বড় সাইকেলেই দিতে হবে- এই জেদ ধরে, শেষ পর্যন্-
আমাদের বাধ্য করেছিল ওর জন্য বড় সাইকেল কিনতে। যদিও দীর্ঘদিন
সে সেটি চালাতে পারে নি।
খুব ছোট বয়স থেকেই তার সঙ্গে আমার বাবার খুব ভাব। সে বাবার হাতে
খায়, বাবার সঙ্গেই ঘুমায়। এই নানা-নাতনীর সম্পর্ক নিয়ে
আত্মীয়-স্বজনরা চিরপরিচিত নানা ধরনের হাসি ঠাট্টা করে। আদৃতা
এর কিছুই বুঝতে পারে না। সেও মজার মজার উত্তর দেয়। এক বাড়িতে
বেড়াতে এসে আদৃতা রাতে তার নানা ভাইয়ের জন্য কেঁদে উঠে। কারণ
সে বায়না ধরে নানা ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমানোর। কিছুতেই থামাতে না
পেরে আমার মামী তাকে বলে (যেহেতু সে নাতনী), ‘তুই ব্যাটা
মানুষের সঙ্গে ঘুমাস?’ আদৃতার মুখটি কালো হয়ে যায়, কিছুই বলে
নি সেদিন। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে সে আমার মা অর্থাৎ তার নানীকে
গিয়ে বলে, ‘নানুমা, নানা ভাই কি ব্যাটা মানুষ? ব্যাটা মানে
কি?’ আমার মা তখন তাকে সহজে বোঝানোর চেষ্টা করে, ‘ব্যাটা মানে
হলো ছেলে।’ কিন্তু আদৃতা বুঝতে চায় না, তার অতি প্রিয় নানা ভাই
কি করে ছেলে হয়, সেতো তার নানা ভাই। আমি ধরতে পেরেছিলাম সেই
নির্ভেজাল সময়টিকে, যেখানে আদৃতার দুই বছরের জীবনে মেয়ে-ছেলের
কোন ধারণা জন্মায় নি।
আদৃতার বড় হওয়া আমি খুব কাছ থেকে দেখি। আমি দেখতে থাকি, কোন
বয়সে কিভাবে সে সমাজের লিঙ্গীয় পরিচয় বুঝতে শিখছে। বিভিন্ন
বিষয় শুনে, টিভিতে বিভিন্ন বিষয় দেখে সেই আদৃতা আমাদের নানা
প্রশ্ন্ করে। তিন বছর বয়সেই হঠাৎ করে সে একদিন তার বাবাকে বলে,
‘বাবা আমাকে বিয়ে দিতে গেলে যৌতুক দিতে না পেরে তুমি কি
আত্মহত্যা করবে?’ সেই কথা শুনে দুটো কারণে আমরা অবাক হই,
প্রথমটি আত্মহত্যার মত একটি কঠিন শব্দ তার মুখে উচ্চারিত হতে
দেখে, অন্যটি হল তার জিজ্ঞাসা শুনে। আমার মা তাকে বললো, তোমার
জন্য কেন যৌতুক দিতে হবে?’ সে তখন আমাদের আরও কিছুটা অবাক করে
উত্তর দিলো, ‘আমি যে মেয়ে’। পরিবেশটি হালকা করার জন্য আমার বোন
কিছুটা স্ব-উদ্যোগী হয়েই বললো, ‘টেলিভিশন দেখে দেখে ও এগুলো
বলছে। আমি অবাক হই এই ভেবে যে, কিভাবে সেই বাচ্চা মেয়েটি নিজেকে
আবিষ্কার করা শুরু করলো ‘মেয়ে’ হিসেবে?
সেই আদৃতা একটু একটু করে বড় হয় এবং তার বিভিন্ন প্রশ্ন্, তাকে
ঘিরে আমরা চিন্-া কিংবা দুঃশ্চিন্-া যা-ই বলি না কেন সেটিকে
বাড়িয়ে দেয়। আস্-ে আস্-ে আদৃতা আরেকটু বড় হয়, যখন চার বছরে
পড়েছে তখন থেকে আদৃতা আমার বাবার কাছে টুকটাক পড়তে যায়। তার বড়
ভাইটিও আমার বাবার কাছেই পড়ে। একদিন পড়া অবস্থায়ই আদৃতা
জিজ্ঞেস করলো, ‘নানা ভাই ছেলেরা নাকি মেয়েদের এসিড মারে, তুমি
আর ভাইয়াতো ছেলে, তোমরা কি আমাকে এসিড মারবে? আমার বাবা বললেন,
‘না না তা কেন? আমরা কেন তোমাকে এসিড মারবো?’ সে আরও যোগ করে
বলে ‘নানা ভাই এসিড মারলেতো আমার মুখটা পুড়ে যাবে, আমার চোখ
নষ্ট হয়ে যাবে।’ এসব কথা যে সে ভয়ার্ত কন্ঠে এবং আতঙ্কিত চোখে
বলেছে, সেটিও লক্ষ্য করেছেন আমার সত্তরোধর্ব বাবা। বাবা আমাদের
ডাক দেয়। আদৃতা কোথাও কোন ধরনের ভয় পেয়েছে কিনা সেটি জানতে চায়।
আমরা এর জবাব দিতে পারি না। তবে শুধু ধরতে পারি একটি মেয়ে শিশু
হিসেবে আদৃতার বেড়ে উঠার বোধটিকে।
কেননা আমাদের সমাজে আদৃতার মতো পাঁচ বছরের একটি শিশুও জীবনের
সেরা ভয়ের শিকার হতে পারে বাচ্চা বয়সেই। আমরা একটি ছোট বাচ্চা
মেয়েকে বুঝতে শিখাই এই পৃথিবীর মানুষ হলেও তোমার জন্য এই পৃথিবী
নয়, তোমার জন্য রয়েছে, এক পৃথিবীর মধ্যে আরেক পৃথিবী। নিজেরা
না শিখালেও সমাজের আশেপাশের ঘটনা প্রবাহে সে নিজেই বুঝে যায়,
তার জীবনেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তার বড় হওয়া স্বস্-ির হয় না,
বরঞ্চ শঙ্কা এবং এক অনিরাপত্তাজনিত আতঙ্ক নিয়ে শুরু হয়। আমরা
সেই কন্যাশিশুটিকে সব সময় চোখে চোখে রাখি। অবচেতনভাবেই পুরুষ
আত্মীয়টি থেকে তাকে দূরে দূরে রাখা হয় তাকে।
আমরা সেই সমাজ প্রত্যাশী, যে সমাজে একটি কন্যাশিশুও এই রকম
আতঙ্ক নিয়ে, হাজার প্রশ্নের ঝাঁপি নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে যাবে
না। হাজারো ভয়ের শৃঙখলে বাধা পড়বে না তার স্বপ্নের গুড়িটি। |
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|