| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
নারীর কথা-৪ |
|
|
|
|
|
যে কথা যায় না বলা
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত)
নাছিমা আক্তার জলি* |
|
|
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বা নারী
নির্যাতন হলো দৈহিক, জৈবিক ও মানসিকভাবে নারীর ক্ষতিসাধন করে
কিংবা করতে পারে এবং নারীকে তার অবাধ স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করে
এমন কোনো আচরণ, ভীতি প্রদর্শন কিংবা বল প্রয়োগের ঘটনা - তা
ব্যক্তি জীবন অথবা জনজীবন যাকেই প্রভাবিত করুক না কেন৷
জাতিসংঘ কর্তৃক নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার উপরিউক্ত সংজ্ঞাটি থেকে
একটি বিষয় স্পষ্ট যে, নারী নির্যাতন বলতে সাধারণ অর্থে আমরা
মারধর, শারীরিক অত্যাচার বা যৌন, নিপীড়নের যে গৎবাঁধা ধারণা
বুঝি তার বাইরেও অনেকভাবে নারী নির্যাতিত হতে পারে৷ একজন নারী,
শুধু নারী হওয়ার কারণেই শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিভিন্ন
রকম মানসিক বা মন পীড়নেরও শিকার হয়ে থাকে৷ যে পীড়ন কেবলমাত্র
একজন নারীর ব্যক্তি জীবনের অগ্রযাত্রাকেই ব্যাহত করে না,
ব্যাহত করে পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় অগ্রযাত্রাকেও৷
বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ নারী৷ তাই নারীর উন্নয়ন ও
সর্বস্তরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামগ্রিকভাবে জাতীয়
উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত জরুরি৷ নারীর অস্তিত্ব যেখানে
হুমকির সম্মুখীন হয়, তার স্বাধীনতা যেখানে খণ্ডিত হয়; বিশেষ করে
মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ যেখানে ব্যাহত হয়; সেখানে
স্বাভাবিকভাবেই নারীর সুপ্ত সম্ভাবনাগুলো বিকশিত হতে বেগ পায়৷
এরপরও বলা যায়, শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অনেক
নারীই তার মনোবল হারায়নি৷ সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে
সামনের দিকে এগিয়ে চলছেন৷ এর কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরা
হলো:
কেস স্টাডি: এক
নওরীন সুলতানার ভাবনার জগতে এখনও একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন!
প্রতিনিয়ত একই প্রশ্ন তাকে কুড়ে কুড়ে খাচেছ৷ প্রশ্নটি ছোট;
কিন্তু এর স্পষ্ট কেনো উত্তর জানা নেই তার কাছে৷ তাই উত্তর
খোঁজার নেশায় প্রশ্নটি করেছিলেন তারই এলাকার নারীনেত্রী দিপ্তী
দাসের কাছে৷ প্রশ্নটি ছিল, ুআচছা বলুন তো - নারীরাও মানুষ
কিন্তু একজন পুরুষের অধিকারগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, অথচ নারী
সেই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয় কেন?” দিপ্তীর কাছ থেকে তেমন
কোনো সদুত্তর পান নি৷ বর্তমানে নওরীন নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত
নারী, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদে
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি৷ তা সত্ত্বেও
প্রতিনিয়তই তাকে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়৷
পটুয়াখালী জেলার লেবুখালি গ্রামের মেয়ে নওরীন৷ বয়স তখন ১৫৷
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী৷ বান্ধবীদের সাথে খেলা শেষ করে ঘরে
ফিরতেই পাশের বাড়ির ভাবী এসে জানালেন এখনই শাড়ি পরতে হবে৷ আজ
রাতেই তার বিয়ে৷ দুবাইপ্রবাসী পাত্র, কাজেই আর কেনো কথা নয়৷
রাতের অন্ধকারে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নওরীনের বিয়ে হয়ে যায়৷
অনেকটা স্বপ্নের মতো৷ এটি আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগের কথা৷
নওরীন এখন তিন সন্তানের মা৷ স্বামী প্রবাসেই থাকেন৷ বিয়ের পর
থেকে এ পর্যন্ত স্বামী দেশে এসেছেন বার পাঁচেক৷ এরইমধ্যে নওরীন
এসএসসি, এইচএসসি শেষ করে, বিএ পাশ করেছেন৷ স্বামীর অনুপস্থিতিতে
যৌথ পরিবারে সাংসারিক সকল দায়িত্ব পালন, ছেলে-মেয়েদের
প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের পর নিজের লেখাপড়া চালানো - এ এক
বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা৷ বাংলাদেশের আরও দশটি গতানুগতিক পরিবারের
মতোই নওরীনের শ্বশুরের পরিবার থেকে পড়াশুনা করার জন্য কোনো
সহযোগিতার হাত কখনোই সম্প্রসারিত হয় নি৷ বরং উল্টো কপালে জুটেছে
কিছু অপবাদ৷ প্রবাসী স্বামীর নিকট প্রতিনিয়ত নওরীনের চরিত্র
থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসংখ্য অভিযোগ দেয়া হয়েছে৷ ফলে
দাম্পত্য জীবনেও তিনি অনেকবার হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন৷
নওরীন এতে হাল ছাড়েন নি৷ তাকে এই জীবনযুদ্ধে জিততেই হবে৷ ২০০০
সাল৷ কটিয়াদিতে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উজ্জীবক প্রশিক্ষণে
নওরীন অংশগ্রহণ করেন৷ প্রশিক্ষণ থেকে একটি মন্ত্র তিনি বিশ্বাস
করতে শুরু করেন - ‘আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র
থাকতে পারে না’৷ দ্বিতীয় বিশ্বাস জন্মেছে ‘নারীর বাক্
স্বাধীনতা আছে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ও দেয়ার ক্ষমতা আছে৷ রাষ্ট্র/ধর্ম
নারীকে এ সকল ক্ষমতা দিয়েছে’৷ নওরীন উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণের
পর পরই আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নেন৷ এ
প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজের আয় রোজগার একদিকে যেমন বৃদ্ধি পায়,
অন্যদিকে গ্রামের নারীদের সাথে তার সখ্যতা বৃদ্ধি পায়৷ আচমিতা
ইউনিয়নের নারীদের মুক্তির লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের
নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল
ভোটে জয়ী হন৷ কিন্তু এ পর্যন্ত আসতে নওরীনকে প্রচুর কাঠখড়
পোড়াতে হয়েছে৷ নওরীন শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারই নন,
একজন বলিষ্ঠ নারী নেত্রীও বটে৷ এছাড়াও তিনি ইউপি মহিলা ফোরামের
জেলা সভানেত্রী৷ এরপরও পরিবার ও সমাজ থেকে তিনি সর্বদা এক
ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার৷ যা চোখে দেখা যায় না, শুধুই
উপলদ্ধি করা যায়৷ নারীর জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ এক
বিরাট প্রতিবন্ধকতা, তা সত্ত্বেও নওরীন এগিয়ে চলেছেন...৷
কেস স্টাডি: দুই
নদী এক সন্তানের জননী৷ সন্তান অথৈ এখন তার জীবনের একমাত্র থৈ৷
এসএসসি পাশ করতেই বিয়ে হয়ে যায় তার৷ ফেন্সিডিল আসক্ত স্বামী
সোহেলকে প্রতিদিনই ৫০ টাকা করে মাদকদ্রব্য সেবনের জন্য দিতে হয়৷
যেদিন পারেন না সেদিনই নদীর ভাগ্যে জোটে শারীরিক ও মানসিক
নির্যাতন৷ নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘরের শেষ
সম্বলটুকুও বিক্রি করতে কুন্ঠাবোধ করেন নি৷ নেশাগ্রস্থ স্বামী,
নদীকে অন্যের হাতে পাচার করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণে এতটুকুও
দ্বিধা করে নি৷ যদিও সেবারে তিনি তাদের হাত থেকে পালিয়ে এসে
প্রাণ বাঁচান৷ একসময় নদীর স্বামী অতিরিক্ত নেশার কবলে পড়ে মারা
যায়৷ নদী এখন নিঃস্ব৷ অভিজ্ঞতা নেই এবং চাকরির চাহিদামাফিক
শিক্ষাগত যোগ্যতাও অনেকক্ষেত্রে কম৷ কিছু দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক
প্রশিক্ষণ আছে৷ যা দিয়ে স্ব-কর্মসংস্থান করা যায়৷ কিন্তু কোনো
পুঁজি নেই৷ নেই ঋণের জন্য কোনো গ্যারান্টার অথবা সম্পদ৷
ইতোমধ্যে এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি হয়েছিল প্রশিক্ষক হিসেবে৷
নদীর বয়স এবং চেহারা দুটোই কাল হয়ে দেখা দিল৷ বসের সুনজরে পড়ে
গেল৷ বস প্রতিদিনই প্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেন৷ কখনও
মুখরোচক খাবার খাওয়ার, কখনও তার পোষাক, গায়ের রং কিংবা চেহারার
প্রশংসা করে শপিং এ যাওয়ার প্রস্তাব দেন৷ অথবা বিশেষ প্রয়োজন
দেখিয়ে ছুটির দিনে অফিসে আসার অনুরোধ৷ এছাড়া অসময়ে কাজের
অজুহাতে নিজ চেম্বারে নদীকে আসতেও বলেন৷ নদীর কাছে তার এসব
আচরণের ব্যাখ্যা খুবই স্পষ্ট৷ এরপরও নদী এই সত্য কথাগুলো
সহকর্মীদের কাছে বলতে পারেন না৷ পাছে চাকরি হারানোর ভয়,
অপবাদের ভয়৷ নদী তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন৷ সর্বদাই
এক আতঙ্কের অন্ধকারে তিনি ঘুরপাক খেতে থাকেন৷ এমনকি ঘুমের
মধ্যেও তিনি নিরাপত্তার অভাব অনুভব করেন৷ অথচ চাকরিটি নদীর
জন্য বড় প্রয়োজন৷ মাস গেলেই ঢাকার খিলগাঁয়ে ভাড়া থাকা একটি
ঘরের জন্য মালিকের হাতে তুলে দিতে হবে ৩,০০০ টাকা৷ একদিকে
সন্তান, নিজের জীবন অন্যদিকে চাকরি হারাবার ভয়ে মানসিক
নির্যাতন৷ এক সময় নদী সিদ্ধান্ত নেন, প্রতিবাদের৷ দৃঢ়তার সাথে
তিনি প্রতিবাদ করেন৷ নদীর এই দৃঢ়তার পেছনে শক্তি যুগিয়েছে ২০০৬
সালে নেয়া দি হাঙ্গার প্রজেক্টের নারী নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ৷
নদী শুধু নিজের জন্য ভাবেন নি, ভেবেছেন আরো দশ জন নারীর কথা৷
তার মতোই ঐ সংস্থার চাকরিরত অনেক নারীকেই হয়তো এরকম মানসিক
নির্যাতনের শিকার হতে হবে৷ শুধু মানসিকই নয়, হয়তো এটি গড়িয়ে
শেষ পরিণতি হবে শারীরিক নির্যাতন৷ নদী চাকরি হারিয়েছেন৷ এক
অজানা আশঙ্কায় নদী এখন ঘুরে ফিরছেন কবে কখন জুটবে একটি চাকরি?
আবার অথৈকে নিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন৷
কেসস্টাডি: তিন
লক্ষ্মী ওর নাম৷ সবাই বলে ‘অলক্ষ্মী’৷ কারণ যেদিন লক্ষ্মী
জন্মেছিলেন সেদিন দিদিমা উলুধবনি না দিলেও অনাদর করেন নি কখনও৷
জন্মমাত্রই লক্ষ্মী তার মা’কে হারিয়েছিলেন৷ পাড়া প্রতিবেশী তাকে
অলক্ষ্মী বলে ডাকলেও দিদিমা তাকে লক্ষ্মী বলেই ডাকতেন৷ লক্ষ্মী
বর্তমানে বগুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিনিয়র নার্স হিসেবে
চাকরি করেন৷ বৃদ্ধা বাবা ও দিদিমাকে নিয়েই লক্ষ্মীর সংসার৷ বাবা
ব্লাড ক্যান্সারের রোগী৷ জীবনযুদ্ধে বাবাই তার একমাত্র ধ্যান ও
জ্ঞান৷ তার জন্যেই লক্ষ্মী কষ্ট করছেন৷ এরপরও তার দুর্নাম
ঘোচেনি নিজ গ্রামে ‘অলক্ষ্মী’ হিসেবে৷ বিয়ে বাড়ি, জন্মদিন অথবা
যে কোনো সামাজিক উৎসবে গেলে পাড়া প্রতিবেশী এমনকি নিজ
আত্মীয়-স্বজনও লক্ষ্মীর আগমনকে সহজভাবে নেন না৷ তাদের ধারণা
লক্ষ্মীর জন্মই তার আজন্ম পাপ৷ তার জন্যই আজ তার বাবা-মার এই
পরিণতি৷ লক্ষ্মী নিজের সঙ্গে হিসেব-নিকেশ করে জীবনের অঙ্ক
মেলাতে চান৷ কোথায় তার দোষ? অসহ্য এক চাপা কান্নায় তার বুক ভেঙে
যায়৷
এখন বয়স তার ত্রিশের কোঠায়৷ সদর উপজেলার ঝোপগাড়ী গ্রামে এক
শারদীয় রাতে তার জন্ম৷ জন্মক্ষণ, মাস কোনোটাই আর ভাবতে ভালো
লাগে না৷ লেখাপড়া, চাকরি সবই তার নিজের চেষ্টায়৷ বিয়ে? সেতো এক
অলীক স্বপ্ন মাত্র৷ কারণ বুদ্ধির পর থেকেই জেনে আসছেন তিনি অপয়া৷
এই তো সেদিন! পিসিমার বড় মেয়ে জয়ার বিয়েতে গিয়েছিলেন৷ পিসিমা
লক্ষ্মীকে দেখেই বলে উঠল, ‘এই তুই জয়ার বিয়ের কোনো জিনিস ধরবিনে৷
বুঝিসতো, শুভ অশুভ বলে একটা কথা আছে৷’ লক্ষ্মী নীরবে মাথা নেড়ে
সম্মতি জানিয়েছিলেন৷ ঐ দিন পুরোটা সময় তিনি নিজেকে ধিক্কার
দিয়েছেন এই ভেবে, সৃষ্টিকর্তা কেন তার মা’কে তুলে নিলেন ঐ
মুহূর্তে৷ কেন দু’দিন পরে নিলেন না? অথচ লক্ষ্মীর কাছে মায়ের
মৃত্যুর কারণ বাবা ও দিদিমা স্পষ্ট করে বুঝিয়েছিলেন, ভুল ছিল
পরিবারের৷ অন্তঃসত্ত্বা মাকে ধনুষ্টংকার রোগের কোনো টিকা দেয়া
হয় নি৷ প্রসবের সময় মা কোনো দক্ষ দাইয়ের সহায়তা পান নি৷ তাই
তার জন্মের সাথে সাথেই মা ধনুষ্টংকার রোগে আক্রান্ত হয়, এরপর
মারা যায়৷ মায়ের মৃত্যুই লক্ষ্মীর একজন নার্স হয়ে ওঠার
অনুপ্রেরণা৷
একদিকে মাকে না পাওয়ার কষ্ট অন্যদিকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে
মানসিক চাপ৷ মাঝে মাঝেই লক্ষ্মী হয়ে উঠেন দিশাহারা৷ এরপরেও তিনি
ক্লান্ত নন৷ সমাজের এই কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা লক্ষ্মীকে
ভাঙতেই হবে৷ এ যুদ্ধ চলবে, চালাতে হবে যতক্ষণ না মুক্তি৷ আলো
আসবেই৷
উপরে উল্লিখিত তিনটি কেসস্টাডি বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয়
সুস্পষ্ট যে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর মানবাধিকার পর্যুদস্ত৷
আমাদের দেশে নারী শুধু শারীরিকভাবেই নিগৃহীত নয়, তারা
মানসিকভাবেও অত্যাচারেরও শিকার৷ মানসিক প্রতিবন্ধকতাও নারীর
পিছিয়ে থাকার একটি বিশেষ কারণ৷ দেখা যায়, যখনই কোনো নারী তার
কর্মক্ষেত্রে বা সামাজিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার
করে, তখন তাকে শুধু পারিবারিক বা সামাজিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও
নানা বাধার সম্মুখিন হতে হয়৷ শুধু কটুবাক্যই নয়, নানা অপবাদেরও
শিকার হতে হয় তাকে৷ এ সকল ঘটনা নওরীন, নদী বা লক্ষ্মীর জীবনেই
নয়, এরকম ঘটনা হর-হামেশাই ঘটছে আমাদের নারীদের জীবনে৷
পূর্ণ মানব মর্যাদায় জীবনযাপন করা নারীর অবিচেছদ্য অধিকার৷ এই
মৌলিক চেতনাকে ভিত্তি করেই ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ‘সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা’ করা হয়৷ শুধু
মানবাধিকার ঘোষণা নয়৷ ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ
সনদদের’ (সিডও) নারীর অধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে৷ কিন্তু
দুঃখজনক হলেও প্রকৃত বাস্তবতা হচেছ, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী
নির্যাতন, নারীর প্রতি বঞ্চনা ও বৈষম্য ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে৷
একথা আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সামগ্রিক
জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসই একটি দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে
ত্বরান্বিত করতে পারে৷ তাই কোনো বিশেষ শ্রেণির প্রতি বিরাগ বা
বিরূপ মনোভাব নয় বরং আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,
সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও অংশীদারিত্ব৷ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ
করতে প্রতিটি পদক্ষেপে পুরুষদের সম্পৃক্ত করতে হবে৷ তাদের মধ্যে
এই উপলদ্ধি জাগ্রত করতে হবে যে, নারীকে পেছনে ফেলে রেখে বা
অবহেলা করে তাদের উপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে
কোনোক্রমেরই একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা সম্ভব নয়৷
আমাদের বিশ্বাস, নারী-পুরুষের সম্মিলিত চেষ্টায় সমগ্র বিশ্বসহ
বাংলাদেশেও নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান হবে,
সমতার ভিত্তিতে একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে৷ ৮ মার্চ,
২০০৯ সালে বাংলাদেশের নারী সমাজের এই হোক প্রত্যাশা৷ |
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|