|
|
শিশুকে আমরা জানি আমাদের সবচেয়ে আনন্দের ধন হিসেবে৷ আমাদের আশা,
স্বপ্ন সব কিছুকে ঘিরে আমাদের শিশুরা বেড়ে ওঠে৷ কিন্তু এই কঠিন
পৃথিবী এখনও শিশুদের বিপদহীন সুখকর জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি৷
তবে আশার কথা এই যে, সারা বিশ্বই আজ শিশুকে নিয়ে ভাবতে শুরু
করেছে৷ শিশুর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে
শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশকে ঘিরেও ভাবনা চিন্তা
এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে৷ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ তথা
CRC
এর প্রথম বিশ্ব কংগ্রেসের (১৯৯৬) ‘দি স্টকহোম ডিক্লারেশন
এ্যান্ড এজেন্ডা ফর এ্যাকশন’ বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই,
আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক সনদ রয়েছে৷
বিশেষ করে বাংলাদেশের শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়ন, যৌন শোষণ এবং
শিশু পাচারের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থার
সমন্বয়ে এসব বিষয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি রিপোর্ট তৈরি হয়৷
পরবর্তীতে কর্মপন্থা নির্ধারণ, বিশেষ করে কন্যা শিশুদের জন্য
সহায়ক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই রিপোর্ট বিশেষ
সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে৷
এই কথাগুলো লিখতে বসেও গভীর বেদনাদায়ক কিছু নির্মম সত্য তুলে
ধরা প্রয়োজন৷ সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি ঘটনা আমাকে
তীব্রভাবে আঘাত করে৷ ফলের ঝুড়িতে নিহত নারীদেহ অথবা ঝিলের
পানিতে বস্তাবন্দি ধর্ষিতার লাশ এখন প্রায় নিত্যকার ব্যাপার৷
যে শহরে আমরা বাস করি, সে শহর এখন বলা যায় নীরব মৃত্যু আর
হত্যার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে৷ এখন স্বামীরা রীতিমতো আয়োজন করে
ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্ত্রী হত্যার ঘটনা ঘটান৷ কিন্তু এত কিছুর
পরেও একটি নয় বছরের নিষপাপ কিশোরীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পড়ে আমার
অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে৷ উদ্ধারকারীরা সন্দেহ করেছেন, ঐ শিশুটি
হয়তোবা ধর্ষণের শিকার হয়েছিল৷ এটা খুব নতুন বিষয় নয়৷ শিশুদের
যোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার জন্যে পৃথিবীর মানবাধিকার চেতনা যতই
উচচকিত হোক, এ রকম মর্মন্তুদ ঘটনা কিন্তু প্রায়ই ঘটছে৷ এবং
ভূলুন্ঠিত হচেছ মানবাধিকার৷
শিশুর অধিকার রক্ষা করা আমাদের সবার জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ৷
দীর্ঘদিনের প্রয়াস, কল্যাণকামী সমাজ সচেতনতা নিয়ে গড়ে উঠেছে
কন্যাশিশু দিবস৷ প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর আমরা কন্যাশিশু দিবস
উদযাপন করি৷ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত কন্যাশিশুর জন্য গ্রহণ করা হয়
নানা কার্যক্রম৷ কন্যাশিশুদের অবস্থান নানাভাবে বিন্যস্ত করে
দেখলে দেখা যাবে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিতে শিশু নিপীড়ন নানাভাবে
সক্রিয়৷ পরিবারের ভেতরে এবং বাইরে, সমাজে শ্রমদানে, যৌন নিপীড়নে,
বাল্য বিবাহে, নানাভাবেই শিশুরা নিগৃহীত হয়৷ অর্থনৈতিক কারণে
বাবা মা শিশু কিশোরদের ফুল বিক্রি করতে, বাসা বাড়ির কাজে পাঠায়৷
ছেলেদের হোটেলে বা মোটর মেরামতীর কাজে লাগিয়ে দেয়৷ এভাবে বিরাট
একটা অংশের শ্রমে যুক্ত হয়ে পড়ে শিশুরা৷ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও
জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশ, নেপাল থেকে প্রচুর মেয়ে শিশু পাচার
হয়ে ভারত-পাকিস্তানে চালান হয় এবং এসব পাচার হওয়া শিশুরা বাধ্য
হয় মানবেতর জীবন যাপনে৷ অথবা হারিয়ে যায় চিরকালের মতো৷
এছাড়া দেশের মধ্যেও ইট ভাঙা, কারখানায় কাজ করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ
কাজে ব্যবহৃত হচেছ শিশুরা৷ এদের মধ্যে আবার কন্যা শিশুরা রেহাই
পাচেছ না রাস্তা ঘাটে বখাটেদের হাতে উত্ত্যক্ত হওয়ার হাত থেকে৷
রেহাই পাচেছ না যৌন নিপীড়নের হাত থেকে৷ এসব জানা সত্ত্বেও তার
প্রতিকার যেন অনেকটাই কঠিন৷ বরং অল্প বয়সের মেয়ে শিশুকে
সামাজিক নিরাপত্তার জন্য দ্রুতই বিয়ে দিয়ে দেন পিতা মাতারা৷
শুধু তাই নয়, পাচার হয়ে যাওয়া মেয়ে শিশুকে ফিরে পেয়ে আইনি
সহায়তার অভাবে বিপন্ন বোধ করেন অভিভাবক৷ পুলিশি হেফাজতে বয়স্ক
অপরাধীর সঙ্গে হাজতে থাকাকালীন শিশু কিশোরদের অনেক অমানবিক
আচরণের শিকার হতে হয়৷
বলা বাহুল্য, মেয়ে শিশুর জীবন স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক৷ বিশ্ব
শিশু পরিস্থিতি: ২০০৭ আইএলও কনভেনশন নং ১৮২, জাতীয় শ্রমিক জরিপ
২০০২-২০০৩, বি.বি.এস, শিশু গৃহপরিবার ভিত্তিরেখা জরিপ ২০০৬,
আইএলও, অনুচেছদ ৪, আইএলও সনদ ১৮২ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ৫
থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪ কোটি ২৪ লাখ শিশু রয়েছে৷ এর মধ্যে ৭৪ লাখ
শিশু আয়মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত৷ এদের মধ্যে ৬৪ লাখ শিশু
গ্রামাঞ্চলে এবং ১৫ লাখ শিশু শহরাঞ্চলে বসবাস করে৷ এদের যে
শ্রম দান তার অনেকটাই জনসাধারণের কাছে মূল্যায়িত হয় না৷ শ্রমের
প্রকৃত অথবা পেশা হিসেবেও ধরা হয় না৷ কিন্তু এসব শিশুর রয়েছে
জ্ঞানার্জন ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের আকাঙক্ষা, বিনোদনে
অংশগ্রহণ বা সাংস্কৃতিক গুণাবলি৷
এ বিষয়গুলো বিগত দশকের মাঝামাঝি থেকে নানাভাবে সমাজকর্মীদের
গোচরে আসে৷ সুখের বিষয় এই যে, কর্মজীবী শিশু কিশোর কেন্দ্র
ইউসেপ, সেভ দ্য চিল্ড্রেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ইউনিসেফ,
হার্ড টু রিচ শিক্ষা কেন্দ্র, আইএলও, মহিলা আইনজীবী সমিতি, আইন
সাহায্য পরামর্শ কেন্দ্র প্রভৃতি বেসরকারি সংস্থা এসব অন্যায়
প্রতিকারে এগিয়ে আসে৷ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়৷ পরিবারে
আশ্রয়হীন ভবঘুরে শিশুদের জন্য এবং অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য সেভ
দি চিলড্রেন গড়ে তুলেছে দিনের আশ্রয় কেন্দ্র বা ওয়ান স্টপ
শেল্টার৷
‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ পল্লী এলাকার জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে
বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে কন্যা শিশুদের মূল্যায়নে৷ এছাড়া
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মীকে
উজ্জীবক হিসেবে গড়ে তুলে গ্রাম পর্যায়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে৷
ইউনিসেফ বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সঙ্গে যুক্তভাবে শিক্ষা, পুষ্টি,
স্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি এবং আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট
কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে চলেছে৷
বাংলাদেশ সরকার শিশু কিশোরদের জন্য কিশোর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
পদ্ধতির মধ্য দিয়ে নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করেছে৷ ‘খাদ্যের বিনিময়ে
শিক্ষা, আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান’ ইত্যাদি কার্যক্রম যুক্ত
করেছে কন্যা শিশু বিষয়ে নতুন মাত্রা৷
নানা বিষয়ে দক্ষতাও রয়েছে শিশুদের৷ এদিকে লক্ষ রেখে অনেক
প্রতিষ্ঠান এখন কাজ করছে৷ এক্ষেত্রে কর্মজীবী শিশু কল্যাণ
কেন্দ্র বা ইউসেপ স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে নানা প্রক্রিয়ায়
কাজ করে আসছে৷ বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ও সিটি কর্পোরেশন, ক্যানাডিয়ান ও
সুইডিশ সিডা এবং ইউনিসেফের ১৯টি জাতীয় কমিটি একসঙ্গে কয়েকটি
বিষয় নিশ্চিত করে কাজ করে চলেছে৷ তার মধ্যে রয়েছে ১০ থেকে ১৪
বছর বয়সী শহরের এক লাখ ২০ হাজার কর্মজীবী মেয়ে এবং ৮০ হাজার
কর্মজীবী ছেলেকে প্রচলিত শিক্ষা গ্রেড তিন ও পাঁচ সমমানের ৪০
মাসের মৌলিক শিক্ষা প্রদান৷ বারো হাজার মেয়ে ও আট হাজার ছেলেকে
জীবিকা অর্জনের কাজে প্রশিক্ষণের সুযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
করে দেওয়া৷ এছাড়া এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শিশুশ্রম
নীতিমালা শক্তিশালী করা, শিক্ষকদের মধ্যে শিশুবান্ধব পরিবেশ
তৈরি করার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং এসব বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে
একটি করে মনিটরিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা৷
(উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়)
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্য, পুষ্টি
বিষয়ে শিশু কল্যাণ ফেডারেশন, প্ল্যান-বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের
সহযোগিতায় ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে৷ এর ফলে শিশু
বিশেষ করে কন্যা শিশুদের বিষয়ে বহু অজানা তথ্য সমাজের গোচরে
এসেছে৷ পূর্বের অনেক ঘাটতি পূরণ করা পরিবার অবকাঠামোর
পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে৷ নির্যাতিত মেয়ে শিশুদের সেবা
প্রদান ও পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে একটি ফরেনসিক
ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে৷ মহিলা আইনজীবী সমিতি নির্যাতিত বা
অপহৃত শিশু, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা
দিচেছ৷
এ পৃথিবীতে নারী আন্দোলনের বিশাল ধারা সৃষ্টি হয়েছে৷
বাংলাদেশের রয়েছে জাতীয় শিশুবিষয়ক নীতি৷ এসবই আশা ও আনন্দের কথা৷
এ বিষয়ে
Amnesty International
বলে-
South Asia’s children represent one quarter of the world’s
children- what happens to them is important for children
globally”
এই কথা মাথায় রেখেই আমরা দেখছি the
governments of south Asia have made a commitment to uphold
the united nations convention on the rights of the child (CRC)
and have strengthened their commitment through the South
Asian Association for Regional Cooperation (SAARC). The
SAARC countries signed two important conventions on
combating in trafficking women and children and treat this
as criminal offense of a serious nature.” [Kathmandu .11
Janunary 2002]
সার্ক দেশসমূহের এ দৃঢ় সিদ্ধান্তকে পৃথিবীর সব
দেশ সম্মান জানায়৷
এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের চিন্তা চেতনাকে শিশু জগতের
উপযুক্ত করে তোলার৷ লক্ষ করা যায়, ২০০৭ সালের জাতীয় বাজেটে শিশু
পরিবার, সেবা হোম, প্রতিবন্ধী শিশু সহায়তার জন্য সরকার ব্যাপক
কর্মসূচি গ্রহণ করেছে৷ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী
অধিকার বিষয়ক সনদে স্বাক্ষর করেছে৷ শিশুদেরকে মলিনতামুক্ত
সুস্থ জীবনের অধিকার দিতে হবে৷ এ বিশ্বকে শিশুদের বাসযোগ্য করে
তুলতে হবে-এই হলো সকল জাতির সম্মিলিত অঙ্গীকার৷ সে অঙ্গীকার
রক্ষা করা সহজ নয়৷ এও একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি৷ সারা বিশ্ব যত
উন্নত হয়েছে ততই বেড়েছে তার জটিলতা৷
যুদ্ধে, দারিদ্র্যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, জীবাণু সংক্রমণে,
মারণাস্ত্রের ভয়াবহ প্রতিযোগিতার মাঝখানে শিশুরা বড় অসহায়৷
অতর্কিত আক্রমণে মুছে যায় তার শৈশব, স্বপ্ন, স্নেহভরা আশ্রয়৷
তারই সুরক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে হবে৷ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে
পৌঁছে দিতে হবে শিশুর জন্য কল্যাণ চিন্তা৷ প্রচার মাধ্যম ও
প্রচারণা, গ্রামীণ সমাজের অজ্ঞ জনপদে পৌঁছাতে হবে জ্ঞানের আলো৷
এ কথা সত্যি যে আমাদের অর্জন নিতান্ত নগণ্য নয়, তবু নির্মম
সত্য এই যে, সমাজ কখনও কখনও সঙ্কীর্ণ ধর্মান্ধতায় এবং
নিষ্ঠুরতায় ভয়াবহ হয়ে ওঠে৷ অনেক স্নেহে, অনেক মমতায় যে শিশু ঘরে
আসে, তার প্রতি আপনজনেরাই হয়ে ওঠে উদাসীন, কখনও বা নির্মম৷
প্রয়োজনে তাকে দিয়ে পশুর আচরণ করিয়ে নেয়৷ কন্যা শিশুর অধিকার
অর্থ শুধু মায়ের নয়, গোটা সমাজের পুরো মানবাধিকারের বিষয়৷ এ
সত্য অনুভবের জন্য সজাগ কর্মপদ্ধতির পথ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই৷
এতে পদে পদে বাধা আসে অনভিজ্ঞতার কারণে৷ মানুষকে সচেতন করে
তোলার কঠিন কাজটি সম্পন্ন করে তবেই শিশু অধিকারের প্রতি
নিবিষ্ট হওয়া সম্ভব৷ মনে রাখা প্রয়োজন, আজকের শিশুরাই আগামীর
ভবিষ্যত৷
শেষ করবার আগে একটি ছোট্ট ঘটনা উল্লেখ করতে চাই৷ আমার গাড়ির
জানালার কাছে এসে হাত পেতে ছিলো ছোট্ট হাসিখুশী একটি বালিকা৷
কোলে ঝুলছে তার শিশু ভাইটি৷ বললাম, ‘তুই এই বাচচা নিয়ে রাস্তায়
কেন? ও বললো, আমার মা তিন বাসায় কাজ করে৷ তাই আমাকে ঘরের কাজ,
কোলের ভাইয়ের দেখাশোনা-সব করতে হয়৷’ ‘স্কুলে যাস না? জানতে চাই
আমি৷ ‘হ্যাঁ’- ঘাড় হেলিয়ে হাসি মুখে জবাব দেয়৷ বিনা বেতনের
প্রাথমিক স্কুলে সে পড়ছে৷ তবে এখন আর যাওয়া সম্ভব হয় না৷ আমি
জিজ্ঞেস করতেই সে গড় গড় করে ইংরেজি বাংলায় সংখ্যা, অক্ষর
চমৎকার নির্ভুল বলে যায়৷ আমি একেবারে মুগ্ধ৷ কিছু টাকা এতক্ষণে
ওর হাতে দেই আমি৷ বলি, ‘তুই এত ভালো পড়া বলেছিস, তার পুরস্কার৷
মাকে বলিস অন্তত সপ্তাহে দুটো দিন যেন তোকে পড়তে যেতে দেয়৷ এখন
দৌড়ে গিয়ে কিছু খেয়ে নে৷’ একটু পরে সে খাবার কিনে তৃপ্তি করে
খায়, তার মুখে খুশির হাসি৷
সত্যিই শিশুটি ক্ষুধার্ত ছিলো৷ ছোট্ট ভাইটাকে যত্নে কোলে ধরে
রাখে সে৷ আমার বুকের ভেতরটা ব্যথা করে ওঠে৷ না, কোনো
সমানাধিকারের স্লোগান আমার মনে জাগে না৷ আমি শুধু ভাবি, কত
স্বল্পে শিশুটির মুখে হাসি ফোটানো যায়৷ কতটুকুই বা ওর দাবি?
একটু চেষ্টা করলেই তো আমরা গড়ে তুলতে পারি সুন্দর এক শিশুজগৎ৷
এজন্যই বলতে চাই, একটি শিশুর মুখের হাসির জন্য অনেক দূর যাওয়া
যায়৷ আজ এই হাসিটুকু থেকে মানব সমাজকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো
নেই৷
|
|