General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
Recent

 

লতিফা আকন্দ

এম এম আকাশ

সুলতানা কামাল

ড. হালিমা খাতুন
ড. বদি্উল আলম মজুমদার
রফিকুল ইসলাম সরকার
নীলুফার বেগম
ড. আতিউর রহমান
অদিতি ফাল্গুনী
আয়শা খানম
নাছিমা আক্তার জলি
জোবাইদা নাসরিন
তপতী সাহা
জুবাইদা গুলশান আরা
প্রফেসর নুরুল্ আলম
পলাশ চৌধুরী
বেলা নবী
ড. মোস্তাফিজুর রহমান
শাহ আব্দুল হান্নান
দিল মনোয়ারা মনু
সালমা আলী
সেলিনা হোসেন
শাওলী সুমন
শাহেদা ফেরদৌসী মুন্নী

Last Update -23 Oct, 07

 

বুড়াবুড়ি জনপদের তালাকপ্রাপ্ত কিশোরীরা
অদিতি ফাল্গুনী*

 
“বাসর রাইতে হামার স্বামী পালায় গেছে। হামার তো যৌতুক নাই বইলা স্বামী নিয়া না যায়। স্বামীর মুখ দেখি নাই, স্বামীর হাতে একবার পানও খাই নাই।” এই আক্ষেপ আর্জিনা নামে কুড়িগ্রামের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের এক মহিলা দিনমজুরের (বয়স:৩৮)। ষোড়শী আর্জিনার পিতা তার স্বামীকে যৌতুক দিতে পারেন নি বলে বর বিয়ের রাতেই সকল দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করে পালিয়েছিল এবং সারা জীবনেও আর ফিরে আসে নি। একবার বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়ে হিসেবে আর্জিনার আর দ্বিতীয় বিয়ে হয় নি। বাকি জীবনটা তার কাটছে কখনো রাস্-ায় মাটি কাটার কাজ করে, আবার কখনো কৃষি জমিতে দিনমজুরের কাজ করে। চল্লিশ ছুঁই ছুঁই আর্জিনা এখন কিছুটা মানসিক বিভ্রমগ্রস্থ।

উত্তর বাংলার কুড়িগ্রাম জেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন একটি অদ্ভুত জনপদ। এখানকার সাতভিটা ভেল্লিপাড়া গ্রামে প্রায় ষোল/সতের জন কিশোরী আছে যাদের বিয়ে হয়েছে বারো হতে পনেরো বছর বয়স সীমার মধ্যে। ষোল হতে ঊনিশ বছর বয়সে তারা সন্তানসহ কিংবা নিঃসন্তান অবস্থায় স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে পুনরায় ফিরে এসেছে বাবার বাড়িতে। শুধু সাতভিটা ভেল্লিপাড়া নয়, আশেপাশের চার/পাঁচটি গ্রামসহ গোটা তল্লাটেই এমন স্বামী পরিত্যক্ত বা তালাকপ্রাপ্ত কিশোরীর সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়েছে। বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মানুষদের বিশ্বাস, বারো হতে পনেরো বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে না হলে তাদের কুমটা (কুমারী) অপবাদ থেকে যায়। যা মেয়েটির পরিবারের জন্য চূড়ান্- অপমানজনক এবং কোন মেয়ে অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেলে তার অতৃপ্ত আত্মা প্রেত হয়ে জনপদে ঘুরে বেড়ায়। অবিবাহিত মেয়েদের প্রেতাত্মা মানুষকে ভয় দেখায়। যদিও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের অভিভাবকগণ জানেন যে, তাদের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ছ’মাস হতে সর্বোচ্চ দু/তিন বছরের ব্যবধানে তারা পুনরায় বাবার বাড়ি ফিরে আসবে কোলে বাড়তি এক/দুটো সন্তান নিয়ে, তবুও কুমটা অপবাদ তো ঘুচবে। আর এই অপবাদ ঘোচার জন্য কিশোরী মেয়েটির শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে যাক, অকাল মাতৃত্বে শরীর ভেঙ্গে পড়-ক, যৌতুক না দিতে পারার অপরাধে শ্বশুর বাড়িতে সে দৈহিক-মানসিক-পুষ্টিগতভাবে নিগৃহীত হোক- তবুও তো মেয়ের জীবনে একবার হলেও বিয়ে হয়েছে। ২০০৭ সালেও বাংলাদেশের কোন কোন জনপদে এমন বাস্-বতার বিদ্যমানতা আমাদের অবাক করলেও তা মিথ্যে হয়ে যায় না!

“বয়স যতি হবি, মেয়ের ততি খারাপ হবি। ছুটকা বয়সে যৌতুকের জন্য কম পঁয়সা নাগে। হামাদের জমি নদী ভাঙ্গি নিয়ে গেইছে। দু’টা ভাই ছোট। ক্লাস সিক্সে থাকতে হামার বিয়া হইছে। বিয়ার মোহরানা কত বান্দিছলো তা হামি জানি না। স্বামী পরে হামাক তালাক দিছে”- ষোড়শী শিউলি বললো। তার বিয়ে হয়েছিল আরো দুই বছর আগে। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতে যৌতুক দিতে না পারার অপরাধে সে আজ তালাকপ্রাপ্ত।


 

 

 

 


 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net