General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
Recent

 

লতিফা আকন্দ

এম এম আকাশ

সুলতানা কামাল

ড. হালিমা খাতুন
ড. বদি্উল আলম মজুমদার
রফিকুল ইসলাম সরকার
নীলুফার বেগম
ড. আতিউর রহমান
অদিতি ফাল্গুনী
আয়শা খানম
নাছিমা আক্তার জলি
জোবাইদা নাসরিন
তপতী সাহা
জুবাইদা গুলশান আরা
প্রফেসর নুরুল্ আলম
পলাশ চৌধুরী
বেলা নবী
ড. মোস্তাফিজুর রহমান
শাহ আব্দুল হান্নান
দিল মনোয়ারা মনু
সালমা আলী
সেলিনা হোসেন
শাওলী সুমন
শাহেদা ফেরদৌসী মুন্নী

Last Update -23 Oct, 07

 

আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হবে
পলাশ চৌধুরী*

 

 

কেবল কন্যাশিশু হওয়ার অপরাধে শিশু বাবলীকে জন্মের পরপরই এসিড খাইয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল বাবলীর পিতা। আমরা বলি, অন্ধকার কেটে গেছে। নতুন শতকের দুনিয়ায় জীবনযাপন করছি। কিন্তু বাবলীর ঘটনা তো এই সেদিনের। অন্ধকার থেকে আলোর মতো ফুটে উঠছে বাবলী, সে এখন স্কুলে যায়। আধো আধো করে ছড়া বলে : কে মেরেছে? কে মেরেছে? বাবা মেরেছে, বাবার হাতে এসিড ছিল ছুড় মেরেছে কাকে মেরেছে? কাকে মেরেছে ? মেয়েকে মেরেছে, মেয়ে হওয়ার অপরাধে এসিড মেরেছে। এসিড সহিংসতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। বিশেষ করে, কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতনের চিত্র নতুন কিছু নয়। ২০০২ সালে যখন এসিড সহিংসতার মাত্রা বেড়ে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ হয়েছিল; সে সময় শিশুদের ওপর এসিড সহিংসতা কম থাকলেও ক্রমেই বেড়ে চলে। ২০০৫ সালে প্রায় ৩২ জন কন্যাশিশু (১৮ বছরের নীচে) এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়। আজকের যে কন্যাশিশু আগামী দিনে তিনিই নারী। কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা নারী নির্যাতনেরই প্রাক-রূপ। অতি সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাকিনা আক্তার এসিড নিক্ষেপ এবং অপহরণের হুমকির কারণে প্রায় দেড় মাস স্কুলে যেতে পারে নি। পরিবারের অন্যান্যের ওপর ঈর্ষা-প্রতিশোধ পরায়ণতার শিকার হচ্ছে শিশুরাও। বাবার কোলে থেকেও চার বছরের কন্যাশিশু বরিশালের তাসলিমা রেহাই পায় নি এসিড সহিংসতার হাত থেকে।

নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের
সবার নীচে, সবার পিছে সর্বহারাদের মাঝে সেই নারীরা প্রতিনিয়ত সহিংসতার শিকার হয়ে চলেছেন! আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি-জনমত গঠনের ফলে কিছুটা পরিবর্তন হলেও এখনো নারীর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হ্রাস পেয়েছে বলা যাবে না। তবে, এই উন্নয়ন প্রচেষ্টায়, জনমত গঠনে বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে এসিড সহিংসতা কিছুটা হলেও কমছে বলে মনে করি। এই প্রচার-প্রচারণা ব্যাপকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে আরো বেশি করে। কারণ প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ।

আদর্শ পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘না’ বলবেন
আমরা মনে করি, বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন পুরুষেরা। দেখা গেছে, নারী-শিশু নির্যাতনের অধিকাংশই ঘটছে পুরুষদের দ্বারা। এখানে মনে রাখতে হবে সকল পুরুষই নারী নির্যাতন করেন না। কিছু সংখ্যক পুরুষ যারা নারী নির্যাতন করেন বা করেছেন তাদের কেউ বাধা দেন নি কখনো। আমরা খুঁজছি সেইসব আদর্শ পুরুষদের যারা এসিড সহিংসতা সহ সকল ধরনের নারী-শিশু ও পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘না’ বলবেন। আমরা জানি, প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মহল্লায় এমন আদর্শ পুরুষ রয়েছেন। হয়তো তাদের সবাইকে আমরা চিনি না। তাদের এগিয়ে আসাটা আজ খুব জরুরি।

এতক্ষণ আমরা যে পুরুষের কথা বললাম তারা শুধু শারীরিকভাবে যে পুরুষ তারাই নন। যে নারী শারীরিকভাবে নারী কিন্তু পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ তিনিও এই তালিকায় পড়বেন। অর্থাৎ আমাদের অবস্থান পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে। অনেকেই জানেন, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন এসিড সহিংসতার বিরুদ্ধে ৮ মার্চ আন্-র্জাতিক নারী দিবসে পুরুষদের সমাবেশ ওর্ যালি আয়োজন করে থাকে। দেশের শীর্ষ পুরুষেরা এসে এই সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন। এই আয়োজন দেশে বিদেশে সমাদৃত হয়েছে।

এসিড সহিংসতার বর্তমান চিত্র
এসিড সহিংসতায় এই বছর (২০০৭) জুলাই মাস পর্যন্- ১৫ জন অনূধর্বর্ ১৮ বছর বয়সী কন্যাশিশু আক্রান্- হয়েছেন। একই সময়ে ছেলে শিশু আক্রান্- হয়েছেন ৫ জন। পরিসংখ্যানে প্রায় তিনগুণ কন্যাশিশু এসিড সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টি আমাদের সতর্ক ইঙ্গিত বহন করে। পরবর্তীতে নারীদের ওপর এসিড নিক্ষেপের হারও প্রায় তদ্রূুপ। একই সময়ে নারী আক্রান্- হয়েছেন ৭৬ জন এবং পুরুষ আক্রান্- হয়েছেন ৩০ জন। আমরা চাই, নারী-পুরুষ যে-ই হোক আর একটি মুখও যেন এসিডে ঝলসে না যায় । কিন্তু এসিড নিক্ষেপের ধরণ-প্রকৃতি দেখে বোঝা যায়, নারীর ওপরই যত রোষ। সাম্প্র্রতিক পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, এসিড নিক্ষেপের অন্যতম কারণ জমি-জমা সংক্রান্- বিরোধ; বাংলাদেশে কতটুকু জমির মালিক নারী? উত্তর সবারই জানা। তবুও জমি সংক্রান্- বিরোধে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে, অনৈতিক প্রস্-াব প্রত্যাখানে নারীকেই গুণতে হচ্ছে মাশুল; ক্ষত নিয়ে, জীবন দিয়ে।

এসিড সহিংসতায় আক্রান্-রা যখন ‘সারভাইভার’
এসিড ‘ভিকটিম’ আর ‘সারভাইভার’-দু’টি শব্দ আমরা অনেক সময় গুলিয়ে ফেলি। যিনি জীবনের সকল যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে, সমাজের তথাকথিত উৎসুক দৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করে, নিজ যোগ্যতায় সমাজের মূলধারায় আমাদের সঙ্গে একই ছন্দে কাজ করে চলেছেন সারভাইভার তিনিই। একজন সারভাইভার মনে করেন, জীবনের সকল কিছু শেষ হয়ে যায় নি, জীবনের মানেটা সবার জন্য একই হতে হবে তাও নয়। নিজের জীবন নিজেকেই সাজাতে হবে। আমরা গত বছর এসিড সারভাইভারদের জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করেছিলাম। প্রায় একশ’ সারভাইভার এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এখানে তারা প্রাণ খুলে গেয়েছিলেন গান, নেচেছিলেন আর বলেছিলেন অনেক না বলা কথা। একজন সারভাইভার বলেছিলেন, এখানে এসে নিজেকে একবারও মনে হয় নি আমি এসিড আক্রান্-, আমি সৌন্দর্যহীন। আমরা এমনি সময়ের সন্ধানে আছি, যখন সারভাইভারদের মনের সৌন্দর্য দেখার মতো চোখ আমাদের তৈরি হবে।

প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা
এসিড সহিংসতায় আক্রান্-ের পরিমাণ গত বছরগুলোর তুলনায় কমছে। কিন্তু আমাদের আত্মতৃপ্তির কোন সুযোগ নেই। আজ শুধু নারী-পুরুষই নয় আমাদের শিশুরাও আক্রান্- হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। যতক্ষণ আমাদের সমাজে ন্যূনতম একটি এসিড সহিংসতার ঘটনা ঘটবে ততক্ষণ চলবে আমাদের প্রাণপণ লড়াই। আমাদের সন্-ানদের বাচাঁতে হবে, এটি কারো একার কাজ নয়, এটি হতে হবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net