General Publications

 
Search  ...a  page
Main Links
 
standing Committee of Forum
 
নারীর কথা-৪

 

সম্পাদকীয়

নারী নির্যাতনের স্বরূপ ও আমাদের বিবেক

যে কথা যায় না বলা

আলোকিত আরতি
আসমা ও তার নারী কল্যাণ সংস্থা
আঁধারে আশার প্রদীপ
আত্মবিশ্বাসী দোলনা
আনোয়ারার সংগ্রাম চলছে
এলাচি কথন
এক নিরলস নারী সংগঠক
এক স্বাবলম্বী নারীর একান্ত কথা
এখন তিনি এলাকার সফল নেত্রী
কিশোরগঞ্জের শিখা: এক লড়াকু সংগ্রামী
জীবন সংগ্রামে জয়ী জাহানারা
জেসমিনের স্বপ্ন: আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ
দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসিমা
রামুর নারী উন্নয়নের প্রতীক
লুৎফা: এক অনুপ্রেরণার নাম
সাজেদা মেম্বার হতে চায়
সাঈদা: অসহায় মানুষের পাশে
সব বাধাই হার মানলো
সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
বাঘিয়ার বাহারজান
নকশিকাঁথা: জীবনের রঙিন ফোঁড়

ইভানের কথা

 

সাহস করেই স্বপ্ন দেখি
সরস্বতী রানী পাল

 

১৯৭১ সাল৷ সারাদেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে৷ অনেকেরই ছোটবেলায় হয়তো মুক্তিযুদ্ধের এমন স্মৃতি আছে যা নেহায়েত কিশোরীবেলার এক স্মৃতি নয়; যে ঘটনাটি চিরকাল মানুষকে প্রেরণা জোগায়৷ বাড্ডার সেলিমা মসির জানালেন, তার শৈশবস্মৃতির কিছু ঘটনা৷ সে সময়ের অভিজ্ঞতাগুলো সম্পর্কে তিনি জানালেন-

‘একাত্তরে আমি ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী৷ ঠিক তার দু বছর আগে আমার বিয়ে হয়৷ ঢাকায় বাবার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতাম৷ মাঝে মধ্যে সিলেটে বেড়াতে আসতাম৷ যুদ্ধের সময় পুরোপুরিই সিলেটে চলে আসি৷ অনিশ্চয়তার সময়েও ঘর-সংসারের ফাঁকে দু সন্তান মানুষ করা আর অবসরে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি৷ ফলে যুদ্ধোত্তর সময়ে কী করব- এমন অনিশ্চিয়তা ছিল না৷’

সেলিমার জন্ম বরগুনা জেলার নাচনাপাড়া গ্রামে ১৯৪৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর৷ বাবা আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা৷ পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইং ক্লাবের প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন৷ মা শামসুন নাহার মাহ্‌মুদ ছিলেন গৃহিণী৷ তিন বোনের মধ্যে সেলিমা ছিলেন সবার বড়৷ দু বোনের একজন সানজিদা খাতুন নিউজিল্যান্ডে, অন্যজন তসলিমা খাতুন আমেরিকা প্রবাসী৷ কিন্তু সেলিমা মসির তার বাবার আদর্শ এবং স্বপ্নকে লালন করে দেশেই কিছু করতে চেয়েছেন৷ আর সেজন্য ছিল তার নিরন্তর চেষ্টা৷

বাবার কর্মস্থল ছিল পাকিস্তানে৷ তাই জন্ম বাংলাদেশে হলেও শৈশব এবং কৈশোরের অনেকটা সময়ই সেলিমার কেটেছে পাকিস্তানের করাচির ড্রিগ রোড এবং মৌরীপুরে৷ এই দু জায়গায় পরিবারের সবার সাথে কলোনিতে অবস্থান করতেন৷ সেখানে সেলিমা উচচ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন৷ তবে সেখানে বাংলা মাধ্যম না থাকায় বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে৷ তার কোনো ভাই ছিল না৷ তাই বাবা আব্দুল কুদ্দুস তার বড় সন্তান সেলিমাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ রূপে গড়তে চেয়েছিলেন৷

১৯৬৮ সালে বাবা পূর্ব পাকিস্তানে বদলি হয়ে আসেন৷ পরিবারের সাথে সেলিমা মসির আবার চলে আসেন ঢাকার বাড্ডায়৷ এ সময়ে পারিবারিক সম্মতিতে তিনি বিয়ে করেন৷ পাত্র মসির উদ্দীন৷ করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা ছাত্র৷ জীবন চলার পথে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করবে বলে বিয়েতে সেলিমার দ্বিমতের অবকাশ ছিল না৷ স্বামীর কর্মস্থল ছিল সিলেটের শাহ্‌জী বাজারের সাথে৷ তাই বিয়ের পর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন৷ শুরু হয় তাদের সংসার জীবন৷ এ সময় প্রসঙ্গে সেলিমা মসির বলেন, ‘সংসার জীবনের দু বছর বেশ ভালোই কাটে৷ সাংসারিক কর্ম করেও ঘুরতে যাওয়ার সময় থাকত হাতে৷ ঘরে বসে অবসরে পড়াশোনা করারও অবারিত সুযোগ ছিল৷’ কিন্তু তার উচচ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের সনদপত্র পাকিস্তান থেকে আনা হয়নি৷ তাই সেলিমা তার বাবার সাথে যোগাযোগ করে সনদপত্র আনানোর ব্যবস্থা করেন৷ এ ব্যাপারে তার স্বামীর পূর্ণ সহযোগিতা এবং বাবার সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কারণেই পুনরায় পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় বলে জানালেন সেলিমা মসির৷

উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন সেলিমা৷ কিন্তু সেটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উত্তাল সময়৷ তাই খুব বেশি দিন ক্লাস করা সম্ভব হয়নি৷ ক’দিন পরেই ফিরে যান সিলেটে৷ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সংসার ও সন্তান প্রতিপালনের পাশাপাশি চলে তার অর্নাস ও মাস্টার্সের পড়া৷ ১৯৮০ সাল৷ পড়াশুনা শেষ করেছেন সেলিমা মসির৷ সংসারও গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকটাই৷ তাই নিজের তাগিদবোধ থেকে ঘরে বসেই কিছু করা কিংবা স্বেচছাশ্রম দিতে চাইলেন৷ সুযোগও মিলে যায়৷ বাড্ডায় ‘টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ ভড়ৎ ড়িসবহ্থ- এ স্বেচছাসেবী হিসেবে কাজের সুযোগ মেলে৷ করিৎকর্মা সেলিমা মসির মাত্র অল্প ক’দিনেই ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’র বাড্ডা এলাকার উক্ত প্রজেক্টের মূল দায়িত্ব পালন করেন৷ সেখানে প্রতিদিন দু ঘন্টার (দুপুর ২.০০ থেকে বিকেল ৪.০০) দায়িত্ব পালন করতেন তিনি৷ প্রজেক্টে ছিল মূলত চারটি সেকশন৷ শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা, তাঁত বুনন, সুঁচিকর্ম এই চারটি বিভাগে ১৫ জন করে মোট ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিল৷ ছয় মাস অন্তর নতুন প্রশিক্ষণার্থীর টিম আসত৷ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের (প্রজেক্টের পক্ষ থেকে) প্রতিদিন ২ টাকা ফি প্রদান করা হতো৷ এছাড়া তাদের কর্ম-মূল্যায়নের ভিত্তিতে আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হতো৷

প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থী যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠতে সক্ষম হন সেই জন্য সেলিমা মসিরের নিরন্তর প্রচেষ্টা ছিল৷ প্রজেক্টের আওতায় দায়িত্ব পালনের সময় নারীদের স্বনির্ভর করার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেছেন৷ পাশাপাশি নিশ্চিত করেছেন শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক শিক্ষাসহ মৌলিক অধিকারসমূহ৷ দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় এই স্বেচছাশ্রমের কাজটি করতে গিয়ে তিনি নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন৷ কিন্তু সেলিমা মসির কাজগুলো চালু রেখেছেন নিজের মনোবল আর সাহসের গুণে৷ তার ভাষায়, ‘নানাজন নানা কথা বলতেন৷ স্বেচছাশ্রমের বিষয়টি কেউ বিশ্বাসই করতেন না৷ কিন্তু অতি শৈশবে বাবার কাছ থেকেই শিখেছি পরোপকারে কিছু সময় উৎসর্গ করতে হয়৷ সমাজ থেকে নেওয়া এবং দেওয়া দুই-ই সমানভাবে মানুষের জীবনে প্রযোজ্য৷’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, আর সম্মানকে বড় করে দেখেছি; যা একজন পরিপূর্ণ মানুষ রূপে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে৷’

স্বেচছাশ্রমের এ পর্যায়ে সেলিমা মসির রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন৷ সমাজসেবার মানসিকতা থেকেই তিনি রাজনীতি করেছেন বলে জানালেন৷ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি এলাকায় নাগরিক সচেতনতা বিষয়ে তার আন্দোলনের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন৷ ফলে বাড্ডায় তার নানামুখি কার্যক্রমের বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে৷ এ সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘স্বেচছাশ্রমের ভিত্তিকে নানা কাজের সাফল্যে সকলকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টির জন্য একদিন চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে পাঠান৷ সেদিন মহিলা কমিশনারের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তার মৌখিক সিদ্ধান্তটি আমাকে বিস্মিত করে!’

দু দিন পরের ঘটনা৷ দৈনিক পত্রিকায় মহিলা কমিশনার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত নিজের নামটি দেখতে পেয়ে সেলিমা মসিরের মনে হয়- ‘অনেকে চেষ্টা করে, শত তদবির করেও যে সুযোগটি সবাই পায় না, আমি তা অতি সহজেই পেয়েছি৷’ বিশ্বাস না হলেও বিষয়টি সত্যি৷ তাই বিশ্বাসের সাথে বেড়ে যায় দায়িত্ব ও এলাকায় কাজের পরিধি৷ গুলশান থানাধীন মহাখালী, গুলশান (১,২), বনানী, শাহ্‌জাদপুর, বাড্ডা, রামপুরা (আংশিক) ছিল তার দায়িত্ব পালনের এলাকা৷ তিনি দীর্ঘ আট বছর এ দায়িত্ব পালন করেছেন৷ এ সময়ে তিনি মানবাধিকার, পারিবারিক নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, বিবাহ-বিচেছদ, তালাক, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত প্রভৃতি বিষয়ে বিচারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন৷ এ সময়ে তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল গুলশান-বাড্ডা লিঙ্ক রোডের কাঁচা সড়ক পাকা করা৷

মহিলা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হলেও দায়িত্বশীল সেলিমা মসিরের চলমান কাজগুলো শেষ হয় না৷ তাই চলমান থাকে তার স্বেচছাশ্রম৷ এলাকায় সমাজসেবার সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিই মূলত অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে৷ এ সময়ে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এন ইসলাম তপন চৌধুরীর (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা কমিটি, সুজন) সাথে কথা হয় উজ্জীবক প্রশিক্ষণ বিষয়ে৷ ২০০৬ সালে লালমাটিয়া ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’- এ অনুষ্ঠিত ১০০০তম ব্যাচে সেলিমা মসির উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ মানুষ কীভাবে যে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তা বুঝতে সক্ষম হন তিনি এই প্রশিক্ষণে৷ এছাড়া যৌথ চিন্তার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত সমাধানের বিষয়টিও জানতে পারেন তিনি৷ তার ভাষায়, ‘প্রশিক্ষণ জানার পরিধি বাড়িয়ে তুলেছে আগের চেয়ে বহুগুণ৷ সবচেয়ে বড় কথা- নিজে আত্মনির্ভরশীল ছিলাম, কিন্তু অন্যকে আত্মনির্ভরশীল করার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলাম৷’

সেলিমা তার জীবনের শুরু থেকেই বহুবিধ কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন৷ কাজও করেছেন অনেক৷ কিন্তু উজ্জীবক প্রশিক্ষণে তিনি তার অনেক কাজের একটি গুছানো রূপরেখা পেয়েছেন বলে মনে করেন৷ প্রশিক্ষণের পর প্রতিটি কাজ এবং দায়িত্ব পালনের পূর্বে একটি কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন৷ এটি তার চলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন৷ প্রশিক্ষণের পরে শুরু হয় তার আরেক পথ চলা৷ এলাকায় শিশুর শিক্ষা নিশ্চিতকরণে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন ‘আবাবিল একাডেমি’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷

পবিত্র কোরানে বর্ণিত একটি পাখির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে৷ এই প্রতিষ্ঠানের নীতি হলো ‘সত্য ক্ষুদ্র হলেও বৃহৎ অন্যায়কে ধবংস করতে পারে৷’ সেই সত্যকে ধারণ করে সেলিমা মসির শিক্ষার আলোকবর্তিকা তুলে ধরেন৷ মাত্র কুড়ি জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেছিলেন তার শিক্ষা কার্যক্রম৷ বর্তমানে দশ জন শিক্ষিকা এবং ২০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এর সম্প্রসারিত কার্যক্রম চলছে৷ পাশাপাশি চলছে আর্ট, সঙ্গীত, নৃত্য এবং কম্পিউটার বিষয়ে হাতেকলমে শিক্ষা৷ এছাড়া ভবিষ্যতে বাংলার সাথে ইংরেজি মাধ্যম করা এবং স্কুলটিকে মাধ্যমিক শ্রেণিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে৷ মনোগত দিক আরো শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্য ও শিক্ষিকাকে উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দেন৷ নিজ উদ্যোগে এলাকায় ২টি উজ্জীবক প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেছেন৷ এছাড়া স্বেচছাশ্রমের দৃঢ় মানসিকতা থেকে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের নানামুখী কার্যক্রমে৷

সেলিমা মসির ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালের ভয়াবহ বন্যায় এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিতকরণে গঠন করেছিলেন বিশেষ রিলিফ ক্যাম্প৷ সময়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় বাড্ডা এলাকায় সেলিমা মসিরের নেতৃত্বে স্থানীয় উজ্জীবকগণ বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন৷ সে সময়ে সেলিমা মসির তার সাধ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন৷ বন্যার্তদের সহযোগিতার লক্ষ্যে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অর্থ, পুরনো কাপড়, খাবার সংগ্রহ করেন৷ সংগৃহীত অর্থের নগদ বিশ হাজার টাকা, নয় বস্তা পুরাতন কাপড় এবং ত্রিশ কেজি চাউল দি হাঙ্গার প্রজেক্টে জমা দেন৷ ১১১৯তম ব্যাচের উজ্জীবকদের সহায়তায় ২১নং বাড্ডার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটির সাথে তিনি সম্পৃক্ত করেছিলেন এলাকার রিয়াজুল ইসলাম, রিয়া, রাজু, নাসরীন, হাসান, সোহেলী, মহসিন, মঈনউদ্দীন, শফিক, মিলা, চায়না, লিপু, বেবী, সালমা, সেলিনাসহ আরও অনেককেই৷

স্বেচছাশ্রমের কার্যক্রমকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে তার কাজগুলো ছিল:

নারী নেতৃত্ব বিকাশ শীর্ষক অনুবর্তনের (ফলোআপ) অর্জন :
 

 

Kvh©µg

¯’vb

2007

AskMÖnYKvixi msL¨v

 

 

 

bvix

cyi“l

†gvU

gZwewbgq mfv: mvgvwRK m‡PZbZv

Avevwej GKv‡Wgx ga¨evÇv

3 AvM÷

15

7

22

eb¨vZ©‡`i mvn‡h¨i Rb¨ ÎvY msMÖn

evÇv

21 AvM÷

13

8

21

ÎvY n¯—vš—i

nv½vi cÖ‡R±-evsjv‡`k

12 AvM÷

-

-

-

AwffveK mgv‡ek: ÔAvgv‡`i mgv‡R Kb¨vwkïi †jLvcovi w`‡K g‡bv‡hvM KgÕ

Avevwej GKv‡Wgx

R-120, ga¨evÇv

5 b‡f¤^i

15

10

25

Av‡jvPbv mfv: cwievi cwiKíbvq bvix-cyi“‡li AskMÖnY

Avevwej GKv‡Wgx

R-120, ga¨evÇv

5 b‡f¤^i

9

15

24

 
 

এছাড়া সেলিমা মসির ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’- এর বাড্ডা থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন৷ সেই সাথে যুক্ত আছেন বর্তমানে ‘নাসফ-নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’- এর বাড্ডার ২১নং ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বে (২০০৫-২০০৮), ‘শেকড় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উপদেষ্টা হিসেবে দু বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করছেন৷

অর্পিত দায়িত্বকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও নিশ্চিত করতে গিয়ে সেলিমা মসিরকে বহু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ তার ভাষায়, ‘সকল বাধাকে অতিক্রম করেই এগিয়ে গিয়েছি৷’ আরও বলেন, ‘স্বেচছাশ্রম দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব- এলাকায় এই দৃষ্টান্তটি প্রতিষ্ঠিত করেছি৷ যতদিন বেঁচে আছি ততোদিন মানব কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব৷
মূলত মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ বা অনুপ্রেরণা সেলিমা মসির পেয়েছেন তার বাবার কাছ থেকেই৷ ‘বাবা সব সময়ই চাইতেন দেশের জন্য কিছু করতে৷ আর সেই ইচছাপূরণ করতে চাইতেন তার সন্তানদের মধ্য দিয়েই৷ বড় সন্তান হিসেবে সেই ইচছাপূরণ যেন অলিখিতভাবে আমার কাঁধেই এসে পড়ে৷ সন্তানকে গড়ে তোলার আদর্শগুলো শুধু বুলি আওড়ানো নয়, কাজেও পরিণত করে দেখাতেন৷ সেই বাস্তবতার স্বপ্নকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমার নিরন্তর ছুটে চলা৷’

‘ঘরে মূল্যায়ন করে সবাই- এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া৷’ এ প্রসঙ্গে বড় মেয়ে মাসুমা খানের (কানাডা প্রবাসী) কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কমিশনারের দায়িত্ব পালন কালে অন্য সন্তানদের সে দেখাশুনা করতো৷ অস্থির সময়ে ঘরে ফিরে আমাকে খুব বেশি ভাবতে হত না৷’ এটি ছিল তার এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা৷ এছাড়া পুত্র জলিল উদ্দীন, সালাউদ্দীন এবং মেয়ে মাহবুবা খানসহ (প্রত্যেকেই বর্তমানে উচচ শিক্ষা গ্রহণ করে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত) পরিবারের সবাই খুব সহযোগী৷

আর এ সকল কথাই অবসরে ভাবতে ভালো লাগে সেলিমা মসিরের৷ তাই পরিবার এবং সমাজে পরিপূর্ণরূপে দায়িত্ব পালন করে যেতে যান তিনি৷ ফলে প্রতিনিয়ত সাহস করেই স্বপ্ন দেখেন৷ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন চলার পথে তিনি তার বাবাকেই দেখতে পান৷ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন লালন করেন তিনি৷ অনেকের সাথে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেও এগিয়ে গেছেন অনেকটাই৷ তাই সেলিমা মসির বলেন, ‘সাহস করেই স্বপ্ন দেখি...৷’

 

 
 

National Girl Child Advocacy Forum

 

Contact Us

3/7 Asad Avenue Mohammodpur, Dhaka-1207

Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975, Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net