| Main Links |
| |
|
standing Committee of Forum |
| |
|
Recent |
|
|
|
|
সিডও কমিটির ২৫ বছর ও বাংলাদেশ
সুলতানা কামাল* |
|
|
সিডও (এসইডিএডব্লিউ-নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ
সংক্রান্- জাতিসংঘের সনদ) কমিটি ২৫ বছর পূর্ণ করল। ২৩ সদস্য
বিশিষ্ট এই কমিটি জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্রগুলো সিডও বাস্-বায়নে
কোন অবস্থানে আছে তার পরিবীক্ষণ করে থাকে। এ কাজটি তারা করে
রাষ্ট্রগুলো বাধ্যতামূলকভাবে যে পিরিয়ডিক প্রতিবেদন দাখিল করে
তার মাধ্যমে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কমিটি তাদের সমাপনী
মন্-ব্য দিয়ে যেসকল রাষ্ট্র সিডওর পূর্নাঙ্গ বাস্-বায়ন করছে না
বা করতে পারছে না তাদের যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
এ কথা গর্বের সঙ্গে বলা যায় যে, সিডও কমিটিতে বাংলাদেশ অত্যন্-
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এই কমিটি এমন একটি কমিটি,
যেখানে পৃথিবীর সকল সদস্যরাষ্ট্রের মধ্য থেকে সদস্য নির্বাচন
করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সালমা খান (যিনি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায়
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত) সিডওর চেয়ার পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন
করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের ফেরদাউস আরা বেগম সদস্যপদে আসীন
আছেন। আমি তাঁদের কমিটির ২৫ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানাই।
তাদের মাধ্যমে সস্পূর্ণ কমিটিকেও আমাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
পৌঁছে দিতে চাই।
এবার আসি বাংলাদেশে সিডও-এর বাস্-বায়ন প্রশ্নে। সিডও সনদ আমরা
পাই ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব রকম বৈষম্য দূরীকরণের
একটি দলিল হিসেবে। ১৯৮১ সালে সিডও কার্যকর হতে শুরু করে
বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডওতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু ধারা ২ ও ১৬-এর
তিনটি উপধারায় আপত্তি দিয়ে পূর্ণ অনুসমর্থন করা থেকে বিরত থাকে।
১৯৯৭ সালে ১৬-র দুটি ধারায় আপত্তি তুলে নিলে বর্তমানে শুধু ২ ও
৬ (১) (গ)-তে আপত্তি বহাল থেকে গেছে। আজ পর্যন্- বাংলাদেশ সিডও
কমিটির কাছে পাঁচটি পিরিয়ডিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ২০০৯
সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশকে ষষ্ঠ ও সপ্তম প্রতিবেদন দাখিল করতে
হবে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে স্পষ্ট ভাষায় সিডওর পূর্ণ
বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে। এবং এবারের প্রতিবেদনে পঞ্চম
প্রতিবেদন সম্পর্কে সিডও কমিটি যে মন্-ব্য দিয়েছে তার সদুত্তর
থাকতে হবে। তাই কাজটি সরল হলেও সহজ নয়। এখানেই বাংলাদেশের
প্রেক্ষিতের কথা প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য
থাকবে না এবং এই মর্মে জাতীয় আইন পরিবর্তিত হবে, এ ব্যাপারে
সিদ্ধান্- নিয়ে তা কার্যকর করতে এত সময়, এত কৈফিয়ত, এত
অজুহাতের প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্-বতা হলো তা হচ্ছে,
আমরা নারী-আন্দোলনের পক্ষে সেই সূচনাকাল থেকেই সরকার পরম্পরায়
সিডও-এর পূর্ণ বাস্-বায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য প্রয়োজনীয়
তথ্য সংগ্রহ, মতামতের জরিপ এবং যেসকল পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা
চিহ্নিত করে দেওয়ার কাজগুলোও সমাধা করার যথাসাধ্য উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রতিটি সরকারি পিরিয়ডিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি ছায়া প্রতিবেদনও
তৈরি করেছি এবং সিডও কমিটির অধিবেশনে উপস্থিত থেকে তা উপস্থাপন
করেছি। একটি সময় এ বিষয়ে সরকারের অত্যন্- প্রশংসনীয় একটি উদ্যম
ছিল, যার মাধ্যমে নারী অধিকার সংক্রান্ত
বিষয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা যেত।
নিকট-অতীতে সেটিও আর হচ্ছে না। আমরা সবাই বুঝতে পারি এটি
রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়।
খুবই অধুনা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুনভাবে
আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট নারী অধিকার সংগঠন ও
ব্যক্তিদের সঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম পিরিয়ডিকাল প্রতিবেদনটি
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করার জন্য। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও
কর্মকর্তারা এজন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন। এ উপলক্ষে
আয়োজিত সভার শুরুতে যে কথাটি উচ্চারিত হয়েছিল, সিডও কমিটির ২৫
বছর পূর্তি উপলক্ষে সে কথাটি নিয়ে একটু এগিয়ে যেতে চাই।
কথাটি উচ্চারিত হয়েছিল এভাবে যে, মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়
সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের নারীদের মন্ত্রণালয় হোক এবং এই
মন্ত্রণালয়ের কন্ঠই বাংলাদেশের নারীদের কন্ঠ হোক। সে অনুযায়ী
এই মন্ত্রণালয় যেন নারীদের আশা-আকাঙক্ষা ও দাবি যথাযথভাবে
সরকারের কাছে তুলে ধরে। এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিতভাবে
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও নারী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে
আলাপ-আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা।
এ কথার সূত্র ধরেই বলি, আমরা চাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন
সত্যিকার অর্থে যাদের জন্য মন্ত্রণালয় তাদেরই হয়ে ওঠে।
অনুরূপভাবে বলতে চাই, পাট মন্ত্রণালয় যেন পাটচাষিদেরই
প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, শ্রম মন্ত্রণালয় প্রতিনিধিত্ব করে
শ্রমিকদের, শিক্ষকেরা দেখতে পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাঁদেরই
আশা-আকাঙক্ষার প্রতিফলন। মন্ত্রণালয়গুলো যেন হয়ে ওঠে সরকারের
মধ্যে জনগণের প্রতিনিধি- জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতিভূ নয়।
এতদিন ধরে, দুঃখজনক হলেও সত্য, মন্ত্রণালয়গুলো যেন কিছু গোষ্ঠী,
কিছু মানুষের স্বার্থ উদ্ধারের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নীতি নির্ধারিত হয়েছে কিন্তু যাঁদের জন্য
নীতি নির্ধারিত হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার কোনো সুযোগ
থেকেছে এমনটি দেখা যায় নি। নীতি নির্ধারণ নানা বিবেচনা অথবা
বাধ্যবাধকতায় হয়ে থাকে, সে কথা সবারই জানা। তারপরও কোনো গৃহীত
নীতির কারণে যদি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর কোনো রকম নেতিবাচক
প্রভাব আসে, সে বিষয়ে কোনো আগাম সতর্কতা বা ব্যবস্থাপনার
উদাহরণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ করার কথা ছিল
জনগণ যে ভিত্তিতে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল তার সঙ্গে সংগতি রেখে।
অভিজ্ঞতায় দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা চলে গেছে জনগণের
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ ভাবধারার শ্রেণি, গোষ্ঠী, দল অথবা
ব্যক্তির সুবিধায়। নারী নীতি বদলিয়ে ফেলা হয়েছে সমতার দাবি
উপেক্ষা করে, পাটকলের পর পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে শ্রমিকের
রুটি-রুজির ব্যবস্থা না করে, শিক্ষাঙ্গণ ব্যবহৃত হয়েছে দলের
সমর্থকের পেশি শক্তিশালী করতে, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পদ বৃদ্ধি
করার সুযোগ করে দিয়েছে শিল্পপতির, অথচ একটির পর একটি দরিদ্র
মানুষের জন্য তৈরি প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে।
এভাবে প্রতিটা মন্ত্রণালয় ধরে হাজারটা উদাহরণ তুলে ধরা যায়। আজ
রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যম ও উদ্যোগে এদিকটায় দৃষ্টি দিতে ভুলে
গেলে সরকারের বড় একটা কার্যকারিতা থেকেই জাতি বঞ্চিত হবে এবং
বর্তমান সরকার তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এ ধরনের উদাহরণ রেখে
যেতে পারে। সিডও বিশেষভাবে নারীদের প্রতি সব রকম বৈষম্য
বিলাপের সনদ বটে, তবে এর প্রেক্ষাপটে রয়েছে সকল মানুষের সমান
মর্যাদা ও অধিকারের অঙ্গীকার। আজকের দিনে প্রার্থনা, সেই
অঙ্গীকার শক্তিশালী ও বাস্-বায়িত হোক সবার সম্মিলিত উদ্যোগে।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৭
|
|
|
|
|
|
National
Girl Child Advocacy Forum |
|
|
Contact Us
3/7 Asad Avenue Mohammodpur,
Dhaka-1207
Ph-(880-2) 8112622, (880-2) 8127975,
Fax-(880-2) 8116812, E-mail-thpb@bangla.net |
|