আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন বিলোপ দিবস
উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
নারীর প্রতি সকল
প্রকার সহিংসতার অবসান চাই” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন বিলোপ দিবস
উপলক্ষে আজ জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে এক
মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়৷
সকাল ১১:০০টায় হাইকোর্টের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জাতীয়
কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক
মহাপরিচালক প্রফেসর তাওহীদা ফারুকী৷
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য বিধান চন্দ্র পাল-এর
পরিচালনায় এ কর্মসূচিতে
একাত্মতা
প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সেলফ স্যালভেশনের ড. মোঃ মেহের-ই-খোদা,
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার
জলি, এএসডি’র প্রতিনিধি শাহীনা আক্তার, বিকশিত নারী
নেটওয়ার্কের নারী নেত্রী মিলি জাকারিয়া, সুরভি’র শহিদুল আলম,
নারী মৈত্রীর প্রতিনিধি রিতা ফারিহা, হিড বাংলাদেশের লিনা
জাম্বিল, ডাব্লিউএসিসি’র রেজিয়া খন্দকার, মরিয়ম সুলতানা নয়ন
প্রমুখ৷ এছাড়া মানববন্ধনে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, সাউথ
এশিয়ান পার্টনারশীপ সেন্টার, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, পদক্ষেপ
মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, এএসএফ, টিএমএসএস ও মৌসুমি সংস্থাসহ
বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে৷
ড. বদিউল আলম মজুমদার দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন,
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং তাদের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হলে
সবার আগে প্রয়োজন যুগ যুগ ধরে পুরুষতান্ত্রিকতার নেপথ্যে লালিত
নারীর প্রতি বিরাজমান নেতিবাচক মনোভাবের অবসান৷ নারীর অগ্রগতিকে
সহায়তার লক্ষ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার গুরুত্ব
উল্লেখ করে বলেন, এজন্য আমাদের সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে৷
প্রফেসর তাওহীদা ফারুকী তার বক্তব্যে বলেন, নারীর সহিংসতা
প্রতিরোধে যে সকল আইন রয়েছে সেগুলোকে কার্যকর করতে হবে৷ আর
এজন্য নারীদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন ও সোচচার হওয়ার আহবান
জানান তিনি৷
জনাব নাছিমা আক্তার জলি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
সর্বক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমানভাবে অবদান রেখেছে৷
কিন্তু দক্ষিণ এশিয়াসহ আমাদের দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা দিন
দিন যেন বেড়েই চলেছে৷ তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পুরুষসহ
সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই
সহিংসতাকে নির্মুল করা সম্ভব হতে পারে৷
মানববন্ধনে সম্মিলিতভাবে কিছু দাবিও উত্থাপন করা হয়৷ এ সকল
দাবিসমূহের মধ্যে সিডও’র পূর্ণ বাস্-বায়ন করা; জাতীয় নারী
উন্নয়ন নীতি ২০০৮-এর পূর্ণ বাস্-বায়ন করা; নারী ও শিশু
নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর পারিবারিক নির্যাতনকে
শাস্-িযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা; নারী পাচার, এসিড নিক্ষেপ,
উত্ত্যক্ততা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি ব্যবস্থা করা; সম্পত্তিতে নারীর
সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইন সংস্কার
করার দাবি অন্যতম৷