২/২, ব্লক-এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৮৮০-২-৮৮০-২-৯১১

প্রবন্ধ

সুরক্ষিত থাকুক আমাদের কন্যারা

করোনাভাইরাস ও সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে প্রায় স্থবির হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর আসছে, ভারী হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। শুধু তাই নয়, জীবনের সঙ্গে মানুষের জীবিকাও আজ হুমকির সম্মুখীন। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও এর বাইরে নয়। আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির যাত্রা কিছুটা হলেও থমকে দাঁড়িয়েছে, সেই সঙ্গে থমকে দাঁড়িয়েছে নারী-পুরুষের সম্মিলিত অর্জন। করোনাভাইরাসের এই কালে বেড়েছে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা। কারখানায় কর্মরত নারীর জীবন ও জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে; সংকটে পড়েছে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য-শিক্ষা-স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা। হুমকির মুখে পড়েছে নারীর ক্ষুুদ্র উদ্যোগগুলো। এখন পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গন খোলেনি, ফলে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে, একইসঙ্গে বাড়ছে বাল্যবিয়ে। সর্বোপরি করোনা মহামারি থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণের হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এই রকম এক দুর্যোগকালে কন্যাশিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামীর সমৃদ্ধ ও সমতার বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ বছর আমরা পালন করছি জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০। এবারের প্রতিপাদ্য হলো :’আমাদের সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’। বিস্তারিত পড়ুন, দৈনিক সমকাল

করোনাকালে নারী ও শিশু- নাছিমা আক্তার জলি

৬ এপ্রিল ২০২০: করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯! ভয়াবহ এক সংক্রমণ ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যাকে ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত করোনার সংক্রমণে সারাবিশ্বে ৬০ হাজার ১১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, সংক্রমিত হয়েছে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ জন। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশও আজ নিরাপদ নয়। রাজধানী শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামÑ সব এলাকাতেই রয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি (একটি জাতীয় দৈনিক, ৪ এপ্রিল ২০২০)। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৮৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

আমরা মনে করি, এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে দেশে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের নারী ও শিশুরা। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা মনে করি, যে কোনো মহামারীই নারী ও শিশুদের জন্য বিপদ ডেকে আনে, তাদের আরও পেছনে ফেলে দেয়।

আমরা মনে করি, তাৎক্ষণিকভাবে এবং শুধু সরকারের একার পক্ষে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই এই বিপর্যয় এড়াতে সম্মিলিতভাবে সমাজের সব সচেতন নাগরিকের এগিয়ে আসতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে নিজের গ্রামের, নিজের এলাকার, নিজের দেশের। তবে সামর্থ্যরে বিবেচনায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব সরকারের। তাই সরকারের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করুন এবং কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করুন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়াসহ আরও নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রভাব পড়ছে আমাদের শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে। তাই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সেবামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এবং করোনা ভাইরাস কীভাবে শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে, সেটি সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য তাদের সম্পৃক্ত করে কাউন্সেলিং কর্মসূচি শুরু করা দরকার। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা যাতে করোনা ভাইরাসের কারণে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং সুরক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করা দরকার।

আমাদের জানামতে, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে প্রচুর নারী গৃহকর্মী ও পোশাক শিল্পে কর্মরত কয়েক লাখ নারী সাময়িকভাবে তাদের চাকরি হারিয়েছেন। তাই এই সময় নারী গৃহকর্মী, দিনমজুর ও হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে খাদ্যদ্রব্য জোগান ও তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার এবং এই খাদ্যদ্রব্য ও আর্থিক সহায়তা যাতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যথাযথ ভুক্তভোগীরা পায়, তাও নিশ্চিত করা দরকার।

আমরা জানি, এখন আমাদের নারীদের একটি বড় সংখ্যা একই সঙ্গে ঘর সামলান এবং শিশুদের দেখাশোনা করেন। আমাদের আশঙ্কা যে, করোনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিপুলসংখ্যক নারী তাদের চাকরি হারাবেন। কারণ যেসব পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন, তাদের একজনকে ঘরে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক স্বার্থে নারীদেরই চাকরি ছাড়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সার্স, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু ও ইবোলার মতো মহামারীগুলোর গবেষণার ফল বলছে, মহামারী-পরবর্তী প্রভাব নারীদের ওপরই বেশি পড়ে। পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা গেছে, মহামারীর পর পুরুষরা আগের আয় দ্রুত বজায় রাখতে পেরেছেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে মহামারী-পূর্ববর্তী আয়ে ফিরতে অনেক সময় লেগেছে (একটি জাতীয় দৈনিক, ২৯ মার্চ ২০২০)। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটা ঘটুক, তা আমরা চাই না।

আমরা মনে করি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা ও তাদেরকে তাদের পুরনো ভূমিকায় ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে। পারিবারিক পর্যায়ে করোনাকালে এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে পুরুষেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে নারীর পাশে থাকা, কাজ শেয়ার করা এবং সংকট নিরসনের পর নারীদের মনস্তাত্ত্বিক সহযোগিতা করার।

আমরা বিশ^াস করতে চাই, আমরা সবাই সচেতন হলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, বিত্তবানরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে এবং রাষ্ট্র ও সরকার দায়িত্ব নিলে আমরা করোনা ভাইরাসের এই বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হব। আর তা সম্ভব হলে ভালো থাকব আমরা সবাই, ভালো থাকবে, সুরক্ষিত থাকবে আমাদের নারী ও শিশুরা।

নাছিমা আক্তার জলি : পরিচালক, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট ও সম্পাদক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম

প্রবন্ধটি আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়: http://www.dainikamadershomoy.com/post/250061

গ্রামগুলোকে ভাইরাসমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ – ড. বদিউল আলম মজুমদার

এবারকার স্বাধীনতা দিবস আমরা ভিন্নভাবে পালন করলাম। এই পালনে কোনোরূপ অনুষ্ঠান–আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এবার ঘরে বসে আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে এ গুরুত্বপূর্ণ দিনটি নীরবে আমরা পালন করলাম। এর ফলে এবার সুযোগ হলো আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা একাগ্রচিত্তে স্মরণ করতে এবং তা নিয়ে ভাবতে। স্মরণ করতে সেই ‘সকল মহান আদর্শ (যেগুলো) আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’। আরও স্মরণ করতে যে তাঁদের এই আত্মত্যাগের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ সৃষ্টি, ‘যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিল সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে’ (বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা)। প্রসঙ্গত, মৌলিক মানবাধিকারের মধ্যে জীবনের বা বেঁচে থাকার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

চারদিকের সুনসান নীরবতা মধ্যে এবারকার স্বাধীনতা দিবসে ব্যক্তিগতভাবে আমার সুযোগ হয়েছে আমার নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার এ টি এম জাফর আলম, চিশতী হেলালুর রহমান, আরজ আলী (যাঁরা ইকবাল হল ছাত্র সংসদে আমার সহকর্মী ছিলেন) এবং শামসুল আলম চৌধুরীর (যিনি আমার ফুফাতো ভাই ও সহপাঠী ছিলেন) আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার। একই সঙ্গে উপলব্ধি করার যে, যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁরা নিঃশর্ত ও নিঃস্বার্থভাবে প্রাণ দিয়েছেন, তা আজ বহুলাংশে অপূর্ণই রয়ে গেছে। আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা তাদের এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি। এ ছাড়া সুযোগ হয়েছে ভাবতে এবং নিজেকে প্রশ্ন করতে, এ ব্যর্থতার দায়মুক্ত হতে আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের কি কোনো কিছু করণীয় আছে?

এবারের স্বাধীনতা দিবসে আমার আরও উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে যে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ আজ এক মহাদুর্যোগের মুখোমুখি। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আমরা জাতি হিসেবে এক জীবন–মরণের সমস্যায় নিপতিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের চারটি স্তর রয়েছে। প্রথমত, যখন সংক্রমণ বিদেশ থেকে আনা হয় এবং এর প্রকোপ একটি বিচ্ছিন্ন–বিক্ষিপ্ত ঘটনা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সংক্রমণ। অর্থাৎ এ স্তরে সংক্রমণের উৎস জানা এবং তা চিহ্নিত করা সম্ভব যেমন পরিবার কিংবা কোনো সুনির্দিষ্ট সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ। তৃতীয়ত, সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমণ, যা ঘটে যখন সংক্রমণের উৎস অজানা এবং অনেক জায়গায় সংক্রমণ দৃশ্যমান। এ স্তরে সারা দেশে সংক্রমণের পরিমাণ এত ব্যাপক যে যেকোনো সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে না এসেও কিংবা সংক্রমণে জর্জরিত কোনো ভিন্ন দেশে না গিয়েও সংক্রমিত হওয়া সম্ভব। ফলে এ স্তরে দেশব্যাপী জ্যামিতিক হারে দাবানলের মতো সংক্রমণের বিস্তার ঘটে, যা বেশ কয়েকটি দেশে (যেমন: ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রে) বর্তমানে আমরা লক্ষ করছি। চতুর্থত, যখন সংক্রমণ মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে এবং ব্যাপক হারে মৃত্যু ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করেছে এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক ব্যক্তি এ ভাইরাস বহন করছে, যদিও পরীক্ষার অভাবে তা চিহ্নিত হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে, আরও অনেক ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে এটি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। অর্থাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণের করণে ব্যাপক মৃত্যু এড়াতে সম্ভবত দুই–তিন সপ্তাহের বেশি সময় আমাদের হাতে নেই বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। আর আমরা সবাই দল–মত, ধর্ম–বর্ণ ও সামাজিক অবস্থাননির্বিশেষে এ মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছি।

করোনাভাইরাসের কারণে আজ আমাদের সবার জীবনই শুধু ঝুঁকির মুখে নয়, অনেকের জীবিকাও হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমাদের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে রপ্তানির তৈরি পোশাক ও জনশক্তি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। করোনাভাইরাসের সারা পৃথিবীতে ব্যাপকভাবে বিস্তারের কারণে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনীতিতে যে মন্দাবস্থার সৃষ্টি হবে, তার প্রভাব আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। ফলে অনেকে জীবিকার উৎস হারাতে ও বেকার হয়ে যেতে পারেন। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তাঁদের কেউ কেউ, যাঁরা দিন আনে দিন খান, না খেয়ে মৃত্যুবরণও করতে পারেন।

সম্ভাব্য এ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিঃসন্দেহে শঙ্কার কারণ, তবে তার চেয়ে বড় ভয় হলো করোনাভাইরাস থেকে আশু মৃত্যুর ঝুঁকি। এই মৃত্যু রোধে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নাগরিকদেরও মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদেরও আজ গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। আমরা আমাদের বীর সেনানীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি। আর তা করার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের এবং নিজেদের আপনজনের জীবনও রক্ষা পাবে। কারণ, আমার প্রতিবেশী যদি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়, তা আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

তাই আজ যদি আমরা আমাদের নিজের গ্রামকে করোনাভাইরাসমুক্ত করার শপথ নিয়ে কার্যক্রম হাতে নিই, তাহলে অন্য গ্রামবাসীর পাশাপাশি আমাদের নিজের এবং নিজেদের পরিবারের জীবন রক্ষার সম্ভাবনাও প্রশস্ত হবে। অর্থাৎ নিজের গ্রামকে করোনাভাইরাসমুক্ত করার কাজের সঙ্গে প্রত্যেকের নিজের এবং নিজের আপনজনের বেঁচে থাকার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থও জড়িত।

নিজের গ্রামকে ‘করোনাভাইরাসমুক্ত গ্রাম’ করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণ, বঙ্গবন্ধুর ডাকে, যাঁর যা কিছু ছিল, তা নিয়ে শত্রুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মোকাবিলা করেছিলেন। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। আজ মানুষের জীবন রক্ষার্থেও করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর বিস্তার রোধ করতে হলেও গ্রামের সব মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা গ্রামে বসবাস করছে না, তাদেরও গ্রামে অবস্থান করা স্বজনদের জীবন রক্ষার্থে এ কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।

করোনাভাইরাসমুক্ত গ্রাম সৃষ্টি করতে হলে গ্রামবাসীদের একক এবং সম্মিলিতভাবে দুটি কাজ করতে হবে। প্রথম কাজটি হবে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য সবাইকে সচেতন করা, যার অন্তর্ভুক্ত হবে ঘন ঘন হাত ধোয়া, পারস্পরিক দূরত্ব রক্ষা করা, হাঁচি–কাশি দেওয়ার সময় নাক–মুখ ঢাকা, বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলাসহ বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। একই সঙ্গে একটি প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে যাঁরা এরই মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন না হলে, তাদের ঘরে স্বতন্ত্র করে রাখা। আমরা নাগরিকেরা ইচ্ছা করলে এবং প্রত্যয়ী হলে এ কাজটি সহজেই করা সম্ভব হবে এবং অনেক সম্ভাব্য মৃত্যু ঠেকানো যাবে, যার মধ্যে আমরা নিজেরা এবং আমাদের আপনজনেরাও অন্তর্ভুক্ত।

তাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য আজ আমাদের নাগরিকদের প্রত্যয় হতে পারে: ‘সবাই মিলে শপথ করি, করোনাভাইরাসমুক্ত গ্রাম গড়ি’, যা জাতির জন্য একটি বিরাট বিপর্যয় রোধে সহায়ক হবে।

আমি নিশ্চিত যে সারা দেশের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে আমরা গ্রামে গ্রামে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আবারও দুর্গ গড়ে তুলতে পারব, যা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়স্বল্পতার কারণে অত্যন্ত জরুরিও। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত স্বেচ্ছাব্রতীরা আমাদের কর্ম এলাকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রামে এ কাজটি করার ইতিমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে ‘সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিকে’র সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছেন। এ কাজে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসার এবং মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সচেতন নাগরিককে আমি সনির্বন্ধ আহ্বান জানাই।

বদিউল আলম মজুমদার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক।

https://www.prothomalo.com/opinion/article/1647333/%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C?fbclid=IwAR3xKc4bMzgK14gMKO_ReYcA9-0hg0yBoESFNJ7V31lVcFf6W-2dSQv2Fgc

Complacency, not panic, is the real danger

Badiul Alam Majumdar

The World Health Organization (WHO) has declared the spread of coronavirus a global pandemic. Over 14,000 people have died and nearly 350,000 have been infected, although there is uncertainty about the numbers as many of those infected may not show symptoms. Also, many countries are not testing aggressively and may be hiding the real figures. Nevertheless, coronavirus infections have been increasing worldwide, doubling in some countries overnight, although China and South Korea claim to have arrested its spread.

Another reason for the panic is the way coronavirus works. The virus enters the body through the eyes, mouth and nose, infecting and hijacking the cells your body is made of. While for a lot of people the infection will not become serious and manifest as mild respiratory problems, the fact that it is highly contagious has created mass panic across the world. In the worst case situations, people with severe respiratory problems are being put on ventilators, without which they will die.

However, the tendency to deny the seriousness of the virus’ spread, which we have seen globally, is probably the greatest danger we are facing now. Even when its spread turned serious and a dead body was seen lying on the street of China’s Wuhan province in late January, we felt that the problem belonged to a distant land and would not affect us. When the virus started spreading in our neighbouring countries, we were also in denial. That is the reason why the Italian authorities and the US President took no serious actions against the spread of coronavirus, rather claiming that everything was under control.

But the situation has started to take a turn for the worse. Experts are now predicting that 40 to 60 percent of Americans may get infected. A study by the Imperial College in UK found that the spread of coronavirus, if not contained, could kill as many as 2.2 million Americans and over 500,000 Britons. German Chancellor Angela Merkel warned that 70 percent of Germans will be infected by the coronavirus. Such spread could cause a worldwide humanitarian disaster of unprecedented proportions.

Bangladesh is under greater risk. The reasons include our high population density, the return of our expatriate workers from countries where coronavirus has already spread, our relatively poor health infrastructure (limited hospital beds, ventilators, ICUs etc.), limited supply of diagnostic kits and protective gear for health professionals, and widespread lack of awareness about the virus and how it is spread. We can see the result in the negligent treatment this week of a 24-year old college student who recently returned from Canada. She died due to neglect and prejudice, even though she was not infected by coronavirus. In addition, only a handful of the many Bangladeshis who recently returned from abroad are under quarantine. 

Coronavirus is not only threatening lives, but also the livelihoods of millions of people worldwide. Global stock markets and shares have plunged and leading economists have spoken of how the coronavirus crisis is pushing the world economy into a deep recession. In the meantime, the activities of many service sector industries—including airlines, hotels and restaurants—have come to a standstill.

All rich countries have already taken important steps to prevent their economies from nosediving. France, for example, has gone on a war-footing to combat the emergency created by the unprecedented spread of coronavirus. The US government is contemplating a package of assistance amounting to over a billion US dollars to assist its citizens and bailout businesses. The British government has also planned to spend 330 billion pounds in similar assistance. Other countries, rich and poor, are trying to mobilise resources for similar aid packages.

In Bangladesh, we are at serious risk, but our preparations appear to be grossly inadequate. We are afraid that many Bangladeshis, irrespective of their political affiliations, will lose their lives. Our economy will also face a catastrophic nosedive. Due to coronavirus, already readymade garments orders worth USD 1.5 billion have been cancelled or postponed. Many garment factories may go bankrupt, sparking mass unemployment. It is predicted that about 500,000 people associated with the travel and tourism industries may lose their jobs. All our economic indicators, except for remittances, are already on a downward trend. With the return of many overseas workers because of the worldwide economic decline, this will not only accelerate corona related deaths, but may also trigger a disastrous decline in remittances. With declines in remittance, coupled with big borrowers who may default on their loans due to the global economic downturn, our banking sector may take a ruinous plunge. 

Clearly, our economy is in serious danger. We have already faced monumental challenges such as plundering due to corruption and cronyism, as well as poisonous confrontational politics. Now, we are afraid that this health-related disaster could throw us into an abyss, if not addressed immediately. We ask the government to declare a nationwide lockdown to stop further spread of the infection, and put into place a stimulus package to prevent potential economic meltdown.

When the alarm is sounded on the eve of a calamity, it is easy to dismiss it as an overreaction. In hindsight, however, complacency, not panic, is often the real danger. With a potential catastrophe on the horizon, we must also be on the side of caution. We hope that our government will show courage and wisdom in taking the audacious steps necessary to address the impending danger.

Dr Badiul Alam Majumdar is Secretary at SHUJAN: Citizens for Good Governance.

করোনার কালে নারীর প্রতি সহিংসতায় উদ্বেগ

নাছিমা আক্তার জলি
১৫ এপ্রিল ২০২০ ২০:৩৯ |

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড–১৯)! জনস হপকিন্স বিশ্ব বিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করোনার সংক্রমণে সারা বিশ্বে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮১২ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে, সংক্রমিত হয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৬ জন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ১২৩১ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, যেকোনো মহামারি বা জাতীয় দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের নারী ও শিশুরা। মহামারিই তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনে, তাদের আরও পেছনে ফেলে দেয়। একইসঙ্গে মহামারির সময় বেড়ে যায় নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি যৌন নিপীড়ন ও বাল্যবিবাহের ঘটনাও। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ যেন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমরা জানি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ সারা দেশের মানুষকে নিজ নিজ গৃহে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। এই সময় নিজ গৃহে নারী ও কন্যাশিশু বেশি সুরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, সারা দেশে বেড়েছে নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত ৯টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৮টি। এর বাইরে যৌন নিপীড়নের অপরাধে মামলা হয়েছে ৬টি। আর অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫টি।

অর্থাৎ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য গৃহে অবস্থানের এই সময় নারী ও শিশু নির্যাতন অনেক গুণ বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময় গত ৪ এপ্রিল ২০২০ তিনজন ভুক্তভোগী নারী এবং প্রতিদিনই দুই থেকে চারজন ভুক্তভোগী নারী ও শিশু ওসিসিতে সেবা নিতে আসছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ ধর্ষণের শিকার, কেউ আবার যৌন নিপীড়নের শিকার। আবার এই অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক ভুক্তভোগী ঘরের বাইরে যেতে না পারায় থানায় অভিযোগও করতে পারছে না।

আমরা উপরোক্ত তথ্যচিত্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা মনে করি, সংকটময় অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের মনযোগ অন্যদিকে থাকায় অপরাধীদের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। তাই নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রোধে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো এবং কোথাও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভুক্তভোগীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দরকার বলে আমরা মনে করি।

ভয়াবহ করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব যখন মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য লড়াই করছে, তখন এই পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংতায় আমরা উদ্বিগ্ন। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও কন্যাশিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নারী ধর্ষণের শিকার, যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনি ব্যবস্থাগ্রহণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ সাপেক্ষে আশু কার্যকর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের নিকট বিশেষ দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ধর্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সংহিসতার ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষভাবে সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য সকল নাগরিককের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে আমরা নারীর স্বাস্থ্যসেবা ও নারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতেরও দাবি জানাই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মহামারির আকার যখন ব্যাপক হয়, তখন সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সেই রোগটি সামলাতে। তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৌলিক অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রক্রিয়া গুরুত্ব হারায়। তাই করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে যেন আমাদের পুরো স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে না পড়ে এবং আমাদের হাসপাতালগুলো যেন প্রসবকালীন জটিলতাসহ অন্যান্য অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হওয়া নারীকেও সঠিক সেবা দিতে পারে তাও নিশ্চিত করা দরকার। গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, করোনা আতঙ্কের কারণে গ্রামাঞ্চলে অনেক গর্ভবতী নারী ও প্রসূতি নারী কমিউনিটি ক্লিনিকে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। আমরা মনে করি, কমিউনিটি ক্লিনিকে নারীরা যাতে স্বাস্থ্যসেবা পান তার জন্য সরকারি বিশেষ ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা থাকা দরকার।

আমাদের জানামতে, করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে প্রচুর নারী গৃহকর্মী ও পোশাক শিল্পে কর্মরত কয়েক লাখ নারী সাময়িকভাবে তাদের চাকরি হারিয়েছেন। তাই এই সময় নারী গৃহকর্মী, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষদের জন্য বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে খাদ্য–দ্রব্য যোগান ও তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার এবং এই খাদ্য–দ্রব্য ও আর্থিক সহায়তা যাতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যথাযথ ব্যক্তিরা পায় তাও নিশ্চিত করা দরকার।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আমরা সবাই সচেতন হলে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং রাষ্ট্র ও সরকার দায়িত্ব নিলে আমরা করোনাভাইরাসের এই বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবো। একইসঙ্গে পরিবার প্রধান সচেতন হলে এবং প্রশাসন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করলে ভালো ও সুরক্ষিত থাকবে আমাদের নারী ও শিশুরা।

http://www.dainikamadershomoy.com/post/251675

নাছিমা আক্তার জলি : পরিচালক, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং সম্পাদক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম

Translate »