আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১২

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের নারীদিবস পালন
গত ৮ মার্চ-২০১২ দেশব্যাপি আন-র্জাতিক নারীদিবস-২০১২ উদযাপন করা হয়। “গ্রামীণ নারীকে ক্ষমতায়িত করি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ি”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ১০ মার্চ-২০১২ কেন্দ্রিয়ভাবে নারীদিবস পালন করে। দিবসের কর্মসূচির মধ্যে ছিলো র‌্যালি, সমাবেশ, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকাল ৩:৩০ মিনিটে শাহ্‌বাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয় এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন ঘোষণা করেন। র‌্যালির শুরুতে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বলেন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশে কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করতে হলে তাদের শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন সংগঠণ এর প্রতিনিধি এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ র‌্যালিতে প্রায় ১৪০০ অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন।
র‌্যালি শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সমবেতভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং সঞ্চালানা করেন জনাব দিলীপ কুমার সরকার। এরপর ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’ গানের মধ্য দিয়ে ইফফাত আরা নার্গিস এর নেতৃত্বে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় । এরপর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য উপস’াপন করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি। তিনি বলেন, নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের সমবেত প্রচেষ্টা দরকার। তার বক্তব্যে সরকারের প্রতি নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কয়েকটি দাবি উপসি’ত সকলের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ওয়াইডাব্লিউসিএ‘র ভারপ্রাপ্ত জাতীয় সাধারণ সম্পাদিকা জনাব হেলেন মনিষা সরকার বলেন নারীদের মূল উন্নয়ন ধারা থেকে বঞ্চিত করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। অর্থনীতিতে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি না দিলে এই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির পরিচালক জনাব তৌহিদা খন্দকার বলেন, ৯০ শতকের পর থেকে নারীরাই দেশ শাসন করে আসছে। যদিও নারীদের সমঅধিকার এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী জনাব রোকেয়া প্রাচী বলেন, শৈশবকাল থেকেই নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যহীনতা শিক্ষা দিতে হবে শিশুদের। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শুধু অঙ্গীকারবদ্ধ হলেই হবে না তাকে বাস-বে রূপ দিতে হবে।
নারীবিষয়ক বিভিন্ন দাবী সম্বলিত ঘোষণা পাঠ করেন সাংবাদিক জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার। ঘোষণার প্রতি সমবেতভাবে সংহতি প্রকাশ করে উপসি’ত সকল অতিথিবৃন্দ তাদের একাত্বতা জানান। সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা দু‘জন সম্মানিত নারীকে এবছর জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম সম্মাননা প্রদান করে। সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদ্বয় হলেন মাতৃভাষা রক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন সফল লড়াকু সৈনিক হিসেবে জাতির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতস্বরুপ ড. হালিমা খাতুন এবং একজন সফল জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী সিটি কর্পোরেশন মেয়র হিসেবে নারী ক্ষমতায়ণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ক্রেষ্ট, বই, নারীদিবস উপলক্ষে প্রকাশিত পোষ্টার বাঁধাই ও ফুল দিয়ে তাদের সম্মান জানান ফোরাম সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ফোরাম সহযোগি সংগঠণ সিসিডিবি‘র কর্মসূচি প্রধান জনাব সিলভাস্টার হালদার। নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র জনাব রোকসানা হায়াৎ আইভী ব্যস-তার কারণে না আসতে পারায় তার প্রতিনিধি ১৮ নং ওয়ার্ডের কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন। সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ভাষাসৈনিক ড. হালিমা খাতুন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, নারীরা যুদ্ধ করতে করতে আজ একটা অবস’ানে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বেদনাবিদুর কন্ঠে বলেন, আজও নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। সমাজের প্রতিটি স’ানে নারীকে ধাক্কা খেয়ে চলতে হচ্ছে। আমাদের এই অবস’া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সকলকে সবার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, তবেই সমাজ সুন্দর থেকে সুন্দরতম হবে। তিনি নারীদিবসের চেতনায় সকলকে উজ্জীবিত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জীবনযুদ্ধে সংগ্রাম করে চলা বেশকয়েকজন নারীর সফলতার কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত প্রকাশনা ‘নারীর কথা-৭’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন।
গান, নাচ, গণসচেতনতামূলক নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।
নারী দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিসমূহ ফলপ্রসূ ও সফল করতে যেসকল সংগঠণ অঙ্গাঙ্গীভাবে কাজ করে গেছে, তারা হলো- নারী মৈত্রী, এআইডিএফ, অর্ণব হীড ফাউন্ডেশন, ইউএসসি কানাডা-বাংলাদেশ, উদ্দীপন, একশনএইড বাংলাদেশ, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন, এসিসট্যান্স ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি), বাংলাদেশ ওয়াই.ডাব্লিউ.সি.এ., ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ, কৈননীয়া, কারিতাস-বাংলাদেশ, টিএমএসএস, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, সিসিডিবি, অপরাজেয় বাংলাদেশ, দি প্রিপ ট্রাস্ট, প্ল্ল্যান বাংলাদেশ, ইসলামিক বিলিফ বাংলাদেশ, পুষ্পনদী, দারিদ্র সমাজ সংঘ, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, উদ্দিপন, ভূইয়া ফাউন্ডেশন, মায়ের ডাক, মুসলিম এইড-ইউকে, রাইট এন্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আর, এস,সি), সিসিডিবি, সেলফ স্যালভেশন বাংলাদেশ, স্টেপস্‌ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, এসকেপিআর, স্যাপ-বাংলাদেশ, সুরভি, হীড বাংলাদেশ, বেকার কল্যাণ সংস’া (বেকস), চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, লাইফ সেন্টার, গুডনেইবারস, অঙ্কুর, এ্যাসাপ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশসহ ফোরামের সকল সদস্য ও সহযোগি সংগঠণ। ব্যক্তিগত সদস্যগণের মধ্যে ছিলেন ড. হালিমা খাতুন, অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, জনাব তাজিমা হোসেন মজুমদার, জনাব ওয়াহিদা বানু, জনাব মুস-ফা রহমান, জনাব রফিকুল ইসলাম সরকার, জনাব এরিক আর্থার থিপথর্প, জনাব বিলকিছ নাহার, জনাব লায়লা সাজিদসহ ফোরামের সকল ব্যক্তিগত সদস্য। এছাড়াও ফোরামের সহযোগি সংগঠণসমূহের মধ্যে ছিল ইউসেপ বাংলাদেশ, ইন্টারভিটা, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন, রিক, বাউশী, পিএসটিসি, জেসাসসহ বেশকিছু সংগঠণ। স্কুল ও কলেজসমুহের মধ্যে অংশগ্রহণ করে মোহাম্ম্‌দপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও স্কুল, ধানমন্ডি গভ: বয়েজ হাইস্কুল, বেগম বদরুন্নেছা মহিলা কলেজসহ অনেক স্কুল ও কলেজ, যারা কর্মসুচিসমুহে অংশগ্রহণ করে দিবস পালন সফলভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সৈয়দা আহসানা জামান

Advertisements