পারিবারিক কবরস্থানেও ঠাঁই হলো না পিংকির

26-12-12
logo-ittefaq
গ্রাম কমিটির ফতোয়া
ইত্তেফাক রিপোর্ট

গ্রাম কমিটির ফতোয়ার কারণে পারিবারিক কবরস্থানেও ঠাঁই হলো না সাদিয়া আক্তার পিংকি’র। সোমবার গভীর রাতে বসতবাড়ির পুকুরপাড়ে গোপনে দাফন করা হয় মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যাকারী এই স্কুলছাত্রীকে। গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মান্ডার বাসায় সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বুরুন্দী গ্রামে পিংকি’র পিতা বাবুল মিয়ার পৈত্রিক নিবাস। পিংকির মৃত্যুর পর গ্রামের কমিটির নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, আত্মহত্যা করায় তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে না। এই লাশের কোন জানাজাও হবে না। যদি লাশের কেউ জানাজা পড়ায় তাহলে তাকে একঘরে করে রাখা হবে। পরে বাধ্য হয়ে গভীর রাতে বাড়ির পিছনে পুকুরপাড়ে জঙ্গলের মধ্যে মাটি খুঁড়ে পিংকি’র লাশ দাফন করা হয়। গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পিংকি’র দূর সম্পর্কের দাদা ইলিয়াস আলী জানাজার নামাজ পড়ান। এ কারণে বাবুল মিয়ার বাবা ওয়াদুদ মিয়া এখন গ্রামে অনেকটা একঘরে হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে পিংকি’র বাবা বাবুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, গোপনে জানাজা করে লাশ দাফন করার খবর প্রকাশ হওয়ায় গ্রাম কমিটি তার বাবা ও চাচাকে একঘরে করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ফোন করে তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। তারা এখন আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে পিংকিকে হারিয়ে তার মা পাখি বেগম পাগলপ্রায়। আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করবে এই আশায় দিনভর তিনি মুগদা থানার সামনে বসে থাকছেন।

ধরা পড়েনি দুই আসামি

স্কুলছাত্রী পিংকির আত্মহননে প্ররোচনার অভিযোগে মুগদা থানায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি পাখি ও পান্না এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা দায়েরের পর দুই দিন চলে গেলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই কামরুজ্জামান দাবি করেছেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সম্ভাব্য স্থানে অভিযানও চালানো হচ্ছে। পিংকিকে অপহরণের সহযোগিতা করার অভিযোগে হানিফ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিহত পিংকি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। গত ২৮ নভেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে পিংকিকে অপহরণ করে স্থানীয় বখাটে যুবক রনি। পরে এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণ মামলা হলে পুলিশ সেই দিনই তাকে উদ্ধার ও রনিকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার পর থেকে রনির পরিবার পিংকি ও তার পরিবারকে প্রায়ই হুমকি দিতো। এই মামলায় আদালত রনিকে জামিন না দেয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে রবিবার সন্ধ্যায় রনির বোনসহ কয়েকজন স্বজন পিংকির বাসায় গিয়ে পিংকি এবং তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ অপমান সইতে না পেরে তখনই পিংকি নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, ২৬ ডিসেম্বর ২০১২

Advertisements