রাজশাহীতে গত বছর ৩৭৫ নারী ও ১৮৬ শিশু নির্যাতিত

logo-ittefaq
রাজশাহী অফিস
রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়েছে। গত বছর রাজশাহীতে ৩৭৫টি নারী এবং ১৮৬টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালে ২৭৬টি, ২০১০ সালে ২০৫টি, ২০০৯ সালে ২২৫টি ও ২০০৮ সালে ৩২৯টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ২০১১ সালে ১৫৯টি, ২০১০ সালে ১৪০টি, ২০০৯ সালে ১২০টি ও ২০০৮ সালে ২৪২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গত বছর রাজশাহীতে নারী পাচারের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ১টি শিশু পাচারের শিকার হয়। এদিকে শিশু অপহরণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গতবছর ২১টি শিশু ও ৫টি নারী অপহরণ, ২৮টি নারী ও ৫০টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২৮ নারী ও ২০ শিশু। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মোহনপুরে সাংবাদিক সোহেল, কেশরহাটে এস.এম মামুন, নগরীতে ফটোসাংবাদিক কবির তুহিন, পারিতোষ চৌধুরী আদিত্য, আব্দুল্লাহ ইকবাল, সৈয়দ মাসুদ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। বছর শেষে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ছড়ায়। রাজশাহীতে নারী, শিশু ও সাংবাদিক নির্যাতন বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডির নির্বাহী পরিচালক সালিমা সারোয়ার।

গত বছরের ১৭ জানুয়ারি নগরীর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাদিমুজ্জামান সাদকে পিকনিকের কথা বলে তার কয়েক সহপাঠী অপহরণ ও হত্যা করে। ২৫ জানুয়ারি সেপটিক ট্যাংক থেকে র্যাব ও পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নভেম্বরে সাদ হত্যা মামলার রায়ে স্বস্তি ফিরে। ২০১১ সালে পুত্রের হাতে রাজশাহী সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হত্যার পর গতবছর সাদ হত্যার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ছড়ায়। এছাড়া স্বামীর হাতে স্ত্রী নিলুফার হত্যা, বিয়ের ৬ মাসের মধ্যে যৌতুকের দাবিতে সাথী ইয়াসমীনকে পুড়িয়ে হত্যা এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা মুরাদ কর্তৃক গৃহকর্মী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছিল বছরজুড়ে আলোচিত। চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর সীমান্তের পদ্মা নদীতে বিএসএফ কর্তৃক স্পিডবোট তুলে দিয়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার বাবর আলী এবং পবা উপজেলার হরিপুরের চরমাঝারদিয়া সীমান্তে গরুর রাখাল সুজনকে বিএসএফ মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া সীমান্ত থেকে ৪ জেলে ও ২ কৃষক বিএসএফ কর্তৃক অপহূত হয়।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, ২ জানুয়ারি, ২০১৩
Advertisements