যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করে পাঁচ মাস বাড়িছাড়া

prothom-alo-logo
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | তারিখ: ২২-০৪-২০১৩
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ গ্রামে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ছয় অভিভাবককে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা পাঁচ মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ওই ছয় অভিভাবক হলেন ডামোশ গ্রামের বোরহান উদ্দিন (৫১), আমিরুল ইসলাম (৪৫), মো. রশিদ (৩৭), মানিক উদ্দিন (২৯), মিজানুর রহমান (৫২) ও আতিয়ার রহমান (৪৫)। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র, অপরাধীদের রক্ষা ও পাল্টা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করছে।জানা গেছে, ডামোশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় ছাত্রী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে গত বছরের ২৮ নভেম্বর বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বেলগাছি গ্রামের তরিকুল ইসলামসহ পাঁচ-ছয়জন তাদের টানাহেঁচড়া, জাপটে ধরা ও দুজনের জামা ছিঁড়ে ফেলে। জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা ছাত্রীদের উদ্ধার ও তরিকুলকে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনজুমান আরা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের পরিদর্শক আবু তাহের ও শিক্ষক আবুল কাশেমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তাঁরা পুলিশি পাহারায় ছাত্রীদের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন ও এক ঘণ্টা দেরিতে পরীক্ষার কক্ষে বসান।


অভিভাবকদের অভিযোগ, অভিযুক্ত লোকদের শাস্তি না দিয়ে ইউএনও বেলগাছি ইউপির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন। চেয়ারম্যানের পরামর্শে অভিভাবকেরা মামলা না করলেও তরিকুলের বাবা আহার আলী ৫ ডিসেম্বর ছয় অভিভাবকের নামে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা করেন। আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মালেক ঘটনাস্থলে না গিয়েই গত ২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেন।


১৬ জানুয়ারি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন আলমডাঙ্গার ইউএনওর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেলগাছি ইউপির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগের কথা জানালে তিনি সম্মতি দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক পক্ষ আদালতে মামলা করে।


অভিভাবকদের পক্ষে সাদ আহম্মেদ ২০ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় তরিকুল (২০), জাহাঙ্গীর আলম (২৪), মনজু (২২), আনু (২১), আমির (২২) ও লিটনকে (২০) আসামি করা হয়। কিন্তু চার মাসেও আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। পরদিন বেলগাছি গ্রামের রবগুল হোসেন অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।


জানতে চাইলে সব কটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস হয়ে গেছে। তদন্তে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথমআলো, ২২ এপ্রিল ২০১৩

Advertisements