প্রতিবাদী নারী গণসমাবেশ

বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার এই ৪২ বছর ধরে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান প্রত্যক্ষ ও পরোnari somabeshক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যভাবে বলা যায়, এদেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘোরাতে বিরাট ভূমিকা রাখছে নারী শ্রমিকবৃন্দ। প্রায় ৪ লক্ষ পোষাক শ্রমিকের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকই নারী। ৮০ ভাগ নারী শ্রমিকের মধ্যে আবার প্রায় ৫০ ভাগ হচ্ছে দেশের প্রত্যন- অঞ্চলের। যাদের পরিশ্রমে উৎপাদিত সামগ্রী দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসে। কিন’, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারী সমাজ তথা সকল বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ গভীর উদ্ধেগ এবং উৎকন্ঠিত। মুষ্টিমেয় সামপ্রদায়িক সংগঠন, দল ও ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে নারীর অধিকার খর্ব করার ঘৃণ্য যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা নারীর অধিকার ও অবস্থান সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী।

হেফাজতে ইসলাম নামে একটি মৌলবাদী সংগঠণ নারী জাতিকে তথা বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবী উত্থাপন করেছে- যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিবেকবর্জিত। তারা ঘরে বাইরে নারীর অবদানকে অস্বীকার করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস’ করতে চাচ্ছে। এসকল ধর্মান্ধ, উগ্র, কুচক্রী, মৌলবাদী গোষ্ঠীর দাবীসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে গত ১১ মে, ২০১৩ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় ১০০০টি সংগঠণের প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষয়ীত্রি এবং উপাচার্যবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দসহ প্রায় ১৫০০০ অংশগ্রহণকারীর অংশগ্রহণে এক প্রতিবাদী নারী গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এই প্রতিবাদী নারী গণসমাবেশের অন্যতম উদ্দ্যোক্তা। সমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবী সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয় এবং জোড় দাবী জানানো হয় যে, জাতীয় স্বার্থে, জাতীর অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য নারীর বিরুদ্ধে সকল যড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরণের সহিংসতা বন্ধ করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শাসি- নিশ্চিত করতে হবে। হীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীর মানবাধিকার খর্ব করার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ও অপতৎপরতার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া নিতে হবে। এবং অসামপ্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে শোক প্রস-াব পড়া হয় এবং দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Advertisements