নীতি নির্ধারকদের কাছে ছোট ছোট শিশুদের অধিকার সম্পর্কিত প্রশ্ন নিয়ে উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত

????????????????????????????????????

নীতি-নির্ধারক এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত সংলাপ। শিশু অধিকার সপ্তাহ ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৫ উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৩০টায় এফডিসির ৮নং ফ্লোরে এ উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, উন্নয়ন সেবা সংগঠন, ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, ইসলামিক রিলিফ ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

উক্ত সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার জনাব কৃষ্ণ পদ রায় পিপিএম। উন্মুক্ত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি।

মেহের আফরোজ চুমকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘কোনো শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না এবং না খেয়ে মরবে না- এটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ‘শিশু গড়বে সোনার দেশ, যদি সে পায় পরিবেশ’। বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ শিশুদেরকে সোনার দেশ দেয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনও ৩৫ লাখ শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আমাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে এবং এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে শিশুর প্রতি কোনো বৈষম্য করা যাবে না।’ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের মৌলিক অধিকারসমূহ যথা; শিক্ষা, পুষ্টি, খাদ্য ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে, কোনভাবেই তাদের মৌলিক অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ তিনি শিশুর প্রতি সকল প্রকারের সহিংসতা বন্ধ করার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সবকিছু মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, গুম, অপহরণ ও শিশু নির্যাতন ইত্যাদি সম্পর্কে গণমাধ্যমে সূত্রে জানা মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। কারণ এগুলো রোধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ তবে শিশুর প্রতি সকল সহিংসতা ও বঞ্চনা রোধ করা শুধু সরকারেরই দায়িত্ব নয়, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

জনাব সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না বলে বলা আছে। কিন্তু আমরা এখনো শিশুর অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হতে পারিনি। সকল শিশুর নিরাপত্তা প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিশুদের অন্ন্‌, বস্ত্র ও বাসস্থানের ন্যায় মৌলিক চাহিদাসমূহ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে এ দায়িত্ব সরকারের। তাই সকলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সরকারকে যথাযথভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

জনাব কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তথাপি শিশু নির্যাতন বিষয়ক মামলাগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এর সাথে পুলিশ প্রশাসনের কোন লোকও জড়িত থাকে তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে প্রতিষ্ঠানেরই হোক না কেন, বা জনপ্রতিনিধিই হোক না কেন তার পরিচয় সে অপরাধী। শিশু নির্যাতন রোধে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা জেন্ডার ও শিশু অধিকার  বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছি। আমরা নারী ও শিশুবান্ধব ডেস্ক খুলেছি।’

শুভেচ্ছা বক্তব্যে নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘শিশুরা আগামীর ভবিষ্যত। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ করে দেয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত হলে আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

Advertisements