নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপ: বাল্যবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি

dialodge_session_2016

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে এবং নীতি-নির্ধারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো এক সংলাপ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। ০১ অক্টোবর ২০১৬, এফডিসির ৮নং ফ্লোরে (তেজগাঁও, ঢাকা) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি। সম্মানিত আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জনাব ফরিদা ইয়াসমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার,

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, ডিএমপি, এবং জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর স¤পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি। সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

শিশু-কিশোরদের প্রশ্নের মাধ্যমে উঠে আসে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিষয়টি। শিশু-কিশোরেরা আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্ত ছাড়াই ১৮ বছর বহাল রাখার দাবি জানায়।

শিশুদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আগে ৯-১০ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ হত। কিন্তু বর্তমানে গড়ে ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হচ্ছে।’ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাল্যবিবাহের হার আরও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহের মূল কারণ শিক্ষার অভাব ও দারিদ্র্য। এ দু ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বেড়েছে।’ তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সরকারের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবক ও কন্যাশিশুদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিশোরীদের ক্ষমতায়নের জন্য সারাদেশে কিশোরী ক্লাব গঠন করা হচ্ছে। কিশোরী ও নারীরা যাতে উপার্জন করতে পারে এজন্য সেলাই ও বিউটিফিকেশন প্র্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’ এছাড়া শিশু নির্যাতন বন্ধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জনাব ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘নারীdialodge_session2_2016 ও কন্যাশিশুদের নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। ডিএমপিতে উইমেন সাপোর্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে এ ইউনিট থেকে তাকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয়। এছাড়া ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে পাঁচ দিন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও শিশুদের সহায়তা দেয়া হয়।’ নারী ও শিশু নির্যাতনের কোনো সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘আমরা জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম বাল্যবিবাহ বন্ধে সারাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা ৪৭৪টি স্কুলে ‘সেইফ স্কুল ফর গার্লস ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করছি। আমরা মনে করি, বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হলোÑ দরিদ্রতা, যৌতুক ও নিরাপত্তার অভাব।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও শিশু নির্যাতন বন্ধে অনেকগুলো আইন রয়েছে। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। প্রভাবশালীদের কাছে অনেক সময় আইন অসহায় হয়ে যায়।’ শিশুদের দাবির সাথে একমত পোষণ করে তিনি শর্ত ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর বহাল রেখে যুযোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, সংলাপটি ০৭ অক্টোবর ২০১৬, সকাল ১১.১০টায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এটিএন বাংলায়’ প্রদর্শিত হয়।

Advertisements