বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের দাবীতে চকরিয়ায় কর্মশালা

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, কক্সবাজার জলোর চকরয়িা উপজেলায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগতিায় চকরয়িা উপজলো প্রশাসন,  জাতীয় কন্যাশশিু এডভোকসেি ফোরাম এর আয়োজনে অনুষ্টতি হয় ‘বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ও বাল্যববিাহ বন্ধে জাতীয় র্কমপরকিল্পনা নর্ধিারণ ও বাস্তবায়ন’ র্শীষক র্কমশালা।
চকরয়িা মহলিা ডগ্রিী কলজে মলিনায়তন হলে অনুষ্ঠতি র্কমশালাটি সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এতে উপস্থতি ছলিনে চকরয়িা উপজলো নর্বিাহী র্কমর্কতা জনাব সাহদেুল ইসলাম, চকরয়িা উপজলো চয়োরম্যান জনাব জাফর আলম, চকরয়িা উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লক্সেরে ও আব্দুস সালাম, চকরিয়া থানার প্রতনিধিি এস.আই দবেব্রত রায়, চকরয়িা মহলিা কলজেরে অধ্যক্ষ মনজুর আলম, উপজলো মহলিা আওয়ামী লীগরে সভাপতি উম্মে কুলসুম মনিু, দি হাঙ্গার প্রজক্টে বাংলাদশেরে সিনিয়র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) সাইফ উদ্দিন আহমেদ, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে সভাপতি আব্দুল মজদি, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে যুগ্ন-সম্পাদক বশিষ্টি সাংবাদকি মছিবাউল হক প্রমূখ।
কর্মশালায় চকরিয়া আবাসিক ডিগ্রী মহিলা কলেজসহ চকরিয়ার বিভিন্ন কলেজের প্রায় এক হাজার ছাত্রী অংশ নেয়। আলোচকগণ র্কমশালায় ছাত্রীদরে উদ্দশ্যেে গুরুত্ব সহকারে নয়োর জন্য মন্ত্রসিভায় সদ্য অনুমোদতি খসড়া বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ২০১৬ বরিুদ্ধে সোচ্ছার হওয়ার জন্য তাগদি দেয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ তে কন্যাশিশুর বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থাকছে তবে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এর আইনের খসড়ায় বিশেষ ক্ষেত্রে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোন কন্যার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে উল্লেখ থাকছে। এই সিদ্ধান্তে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সকল গোত্রের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিবাহ নিরোধের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এ কন্যাশিশুর ন্যূনতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর রাখার দাবী জানানো হচ্ছে। কারণ জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ (সি আর সি) ও বাংলাদেশের প্রচলিত শিশু আইনে বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাকে শিশু বলা হয়েছে এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ শর্তে এই বয়স শিথিল করা হলে প্রচলিত আইনের সাথে তা হবে সাংঘর্ষিক।
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পক্ষ থেকে সাইফ উদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার গৃহীত পদক্ষেপের কারণে অনেক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে। কিন্তু এই শর্তটি আইনের মধ্যে থাকলে তা হবে একটি পশ্চাদমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যখন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সরকার, প্রশাসন, নারী সমাজ, উন্নয়ন সংগঠন, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সকলের দীর্ঘদিনের যৌথ ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল, তৃনমূল প্রশাসনও এ ব্যাপারে তৎপর। এরকম একটি পর্যায়ে কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স নূন্যতম ১৮ রেখে আবার কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে আইনে এটি শিথিল করে আইনত: বৈধতা দেয়া হলে তা হবে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায়।

এ প্রেক্ষিতে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এ কোন রকম শর্ত বা বিশেষ ধারা ছাড়াই কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে সভায়। এছাড়া বিয়ের বয়স কমিয়ে নয়, বরং যেসব কারণে (অসচেতনতা, দরিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি) বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয় তা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ ব্যতীতও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকার কর্তৃক একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী, যাতে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা উল্লেখ থাকবে। অতিথিগণ আরো বলেন, এই আইনের নবতর সংযোজন ও বিশেষ প্রেক্ষাপট বাল্যবিবাহকে বৈধ করবে। সাধারণ মানুষ সাধারণত আইন আদালত বিমুখ। তাই আইনে কোনো সুযোগ রাখা সমীচীন হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সাহদেুল ইসলাম জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। চকরিয়ায় এ কর্মশালা আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বাল্যবিবাহকে ‘না’ এই শ্লোগান দিয়ে তিনি নিজেও চকরিয়াকে বাল্যবিবাহমুক্ত করার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে চকরিয়াকে বাল্যবিবাহমুক্ত করা হবে। বর্তমানে চকরিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষকে সচেতন করার কাজ চলছে বলে সকলকে অবহিত করেন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাজীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে বলে জানান। ইউনিয়নের মানুষদের এ ব্যাপারে সচেতন করার কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে বলে জানান। চকরিয়ায় এখনো ৭০% – ৮০% মামলা নারী নির্যাতন বিষয়ক হয় বলে জানান তিনি। তিনি সকলকে তার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার দেন এবং চকরিয়ায় নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সে ব্যাপারে সমাধানের জন্য ততক্ষনাৎ তাকে যাতে ফোন করে জানানো হয় তার অনুরোধ করেন। চকরিয়ার মেয়েরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, পড়াশুনার পাশাপাশি আয়-রোজগার করতে পারে সে জন্য চকরিয়ার ছাত্রীদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন বলে সকলকে জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব জাফর আলম, বলেন, শিক্ষা মানুষের ম্যেলিক অধিকার। সরকার ইতোমধ্যে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য বৃত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। আজকের মেয়েরাই হবে আগামী দিনের ভবিষ্যত এ কথা বলে তিনি জানান, চকরিয়ার ১০০% মেয়েই যাতে শিক্ষিত হয় তার জন্য উদ্যোগ নেবেন।

চকরিয়া উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লক্সেরে আব্দুস সালাম জানান, চকরিয়া প্রশাসন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেষ্ট। ছাত্রীদের পুষ্টির সমস্যা সমাধানে সকলকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করার জন্য চকরিয়া প্রশাসনকে অনুরোধ করেন তিনি।

চকরয়িা থানার প্রতনিধিি এস.আই দবেব্রত রায় ছাত্রীদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহবান জানান। নিজের জীবনকে সুন্তরভাবে গড়ার তাগিদ দেন। কোনো সমস্যায় পড়লে থানাকে জানানোর পরামর্শ দেন।

ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীরা অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করে। পরিবারে নির্যাতিত হয়, অত্যাচারিত হয়। অনেকে মৃত্যুবরণ করে। মাম্মী বলেন, আমরা মেয়েরা এই বিষয়টিকে নিজের মধ্যে ধারন করতে হবে। একটা মেয়ের মধ্যে উচ্চাশা থাকলে বাকীরা সহায়তা করবেই। তাই আমাদের মেয়েদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে হবে।

চকরয়িা মহলিা কলজেরে অধ্যক্ষ মনজুর আলম নিজ উদ্যোগে বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য তার কলেজের ছাত্রী প্রিয়া মণিকে তার কলেজে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়াশুনা করার ঘোষণা দেন। তিনি কর্মশালায় আাগত ছাত্রীদেরকে বাল্যবিয়ে না করার শপথ পাঠ করান।

Advertisements