জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৭

র‌্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৭ উদ্‌যাপন

‘সম-অধিকার নিশ্চিত করি, নারীবান্ধব বিশ্ব গড়ি’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে উদ্‌যাপিত হলো আন-র্জাতিক নারী দিবস-২০১৭। এ উপলক্ষে আজ ০৯ মার্চ, ২০১৭ সকাল ৮.৩০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে (শাহবাগ, ঢাকা) থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (রমনা) পর্যন- এক র‌্যালি এবং র‌্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট-এর অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

র‌্যালির উদ্বোধন ঘোষণা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন নারীমৈত্রী-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠক জনাব তাজিমা হোসেন মজুমদার এবং আইসিডিডিআরবি-এর জেন্ডার অ্যান্ড ডাইভারসিটি স্পেশালিস্ট জনাব ফারজানা শাহজাদ মজিদ। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস’ান ৭২তম। আমাদের নারীরা আজ সর্বক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখছে। আমাদের কর্তব্য হবে নারীদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সমাজের সকল নারী-পুরুষকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে না পারলে আমরা এগুতে পারবো না। আশার কথা হলো, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে গত দু বছরে ৬২ শতাংশ থেকে বাল্যবিবাহের হার ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারলে আমরা বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম হবো।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের নারীরা এগুলোও তাদের প্রতি নির্যাতন বন্ধ হয়নি। তাই নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’ নারীরা এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন-ব্য করেন তিনি।

শাহীন আক্তার ডলি বলেন, ‘আমাদের নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কিন’ নারীর প্রতি এখনো মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। তাই নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।’

ওয়াহিদা বানু বলেন, ‘ছেলে বা মেয়ে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়। নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরিন এভারেস্ট জয় করে প্রমাণ করেছে নারীরা দুর্বল নয়।’ উপসি’ত কন্যাশিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে, সাহসী হতে হবে এবং কোনোক্রমেই বাল্যবিবাহ করা যাবে না’।

তাজিমা হোসেন মজুমদার বলেন, ‘নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তবে অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের সংগঠিত হতে হবে, দক্ষ হতে হবে এবং পুরুষকে নারীর সহযাত্রী হতে হবে।’

নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীরা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করছে। তারা চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হয়ে ট্রেন ও বিমান চালাচ্ছে। তারা ক্রিকেট ও ফুটবল খেলে পদক ছিনিয়ে আনছে। আজ আমাদের নারীরা প্রমাণ করেছে যে, তারা দুর্বল নয়। কিন’ আমাদের নারীরা এখনো পূর্ণ অধিকার পায়নি, তারা কম মজুরি পায়। নারীর ন্যায্য ও সম-অধিকার নিশ্চিত না হলে শুধু নারীরাই নয়, জাতি হিসেবেই আমরা পিছিয়ে যাবো।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম ট্রেন চালক জনাব সালমা খাতুন-কে চ্যালেঞ্জিং পেশা গ্রহণ করায় এবং জনাব মঞ্জু সমাদ্দার-কে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘নারীর কথা-১২’ নামক একটি জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

Advertisements