আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০১৭ উদ্‌যাপন

বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০১৭ উদ্‌যাপন

‘কন্যাশিশুর জাগরণ, আনবে দেশে উন্নয়ন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্‌যাপিত হলো জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৭। দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:৪৫টায় শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পর্যন- এক র‌্যালি এবং র‌্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যালি উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি- মাননীয় সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনাব সেলিনা হোসেন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং জনাব মার্ক পিয়ার্স, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দি চিলড্রেন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপসি’ত থাকবেন জনাব শাহিন আক্তার ডলি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক জনাব আনজির লিটন।

র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এজন্য দরকার হবে নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন। একইসঙ্গে দরকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূর করে কন্যাশিশুদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কন্যাশিশুদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্যতম বাধা বাল্যবিবাহ। এটি বন্ধে আমরা এ সংক্রান- আইনটির আধুনিকায়ন করেছি। এছাড়া কন্যাশিশুদের কল্যাণে কিশোরী ক্লাব গঠন-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।’

জনাব মার্ক পিয়ার্স বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এদেশে রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীনেত্রী। কিন’ একইসঙ্গে বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহের সমস্যা রয়েছে। এগুলোর অবসান দরকার।’

উপসি’ত কন্যাশিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা এবং স্বপ্ন থেকে বিচ্যুৎ হওয়া যাবে না।’

জনাব সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি, শিশু মানেই মানবশিশু। তার আলাদা কোনো পরিচয়ে বড় হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা যদি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ চাই তাহলে কন্যাশিশুর জাগরণ দরকার, তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ হওয়া দরকার। ছেলেশিশুর মত মেয়েশিশুদেরও একইভাবে আদর-যত্ন দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।’

জনাব শাহিন আক্তার ডলি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি কন্যাশিশু রয়েছে। এই কন্যাশিশুরা আমাদের সম্পদ। জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আমরা এই কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও সচেতন হবো। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কন্যাশিশুদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কন্যাশিশুরা সুযোগ পেলে তারা দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে।’

জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘আমাদের কন্যাশিশুরা বিভিন্নভাবে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়, যার শুরু হয় পরিবার থেকে। অথচ আমাদের কন্যাশিশুরা আকাশ ছুঁতে চায়। আমাদের উচিত হবে তাদের বিকশিত করে তোলার জন্য পরিবেশ তৈরি করা। আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার কল্যাশিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস-বায়ন করছে। আমাদের আশাবাদী হতে চাই। কারণ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার সবাই নারী। আমরা পেয়েছি সেলিনা হোসেন-এর মত নারী কথাসাহিত্যিক। তিনি শুধু আমাদের সেলিনা হোসেন নন, তিনি বিশ্বের সেলিনা হোসেন।’

কন্যাশিশুদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর মিলি শরীফ মনি এবং এটিএন বাংলার ‘অপরাজেয় বাংলা’র উপস’াপক তানজিলা আক্তার মীম।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘কন্যাশিশু-১৩’ প্রকাশনা এবং পোস্টার-এর মোড়ক উন্মোচনও করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

Advertisements