২/২, ব্লক-এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৮৮০-২-৮৮০-২-৯১১

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উদ্‌যাপন

র‌্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উদ্‌যাপন

‘নারী-পুরুষের সমভাবনা, নতুন দিনের সূচনা’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে উদ্‌যাপিত হলো আন-র্জাতিক নারী দিবস-২০১৯। এ উপলক্ষে আজ ০৮ মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮.৩০টায় রমনা পার্কের অস-াচল গেট থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন পর্যন- এক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-এর সেমিনার রুমে (রমনা, ঢাকা) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালির উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন জনাব আয়শা খানম, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন জনাব শাহীন আক্তার ডলি, সহ সভাপতি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও নির্বাহী পরিচালক, নারীমৈত্রী। আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য দেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব দিলীপ কুমার সরকার এবং অপরাজেয় বাংলা-এর কর্মকর্তা শিরীন আক্তার।

অনুষ্ঠানে জনাব নাসিমুন আরা হক মিনু (সভাপতি, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র) এবং জনাব শাহনাজ মুন্নীকে (প্রধান বার্তা সমপাদক, নিউজ টুয়েন্টিফোর) সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘নারীর কথা-১৪’ নামক একটি প্রকাশনা ও আন-র্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

উপসি’ত কন্যাশিশুদের উদ্দেশ্যে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সকল বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে তোমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। নারীদের মধ্যে যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন তাদেরকে অনুকরণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের এগিয়ে যাওয়ার পথের সকল বাধা সরিয়ে দেয়া। তবে কন্যাশিশুদেরকেও জেগে উঠতে হবে, নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে হবে।’ এ সময় তিনি উপসি’ত কন্যাশিশুদের অনুভূতি শোনেন।

আয়শা খানম বলেন, ‘আমাদের নারীরা আজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। নারীরা চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন, তারা এভারেস্ট জয় করছেন। নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। নারীদের আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য এবং নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের অনুধাবন করতে হবে যে, নারীর অধিকার আন্দোলন মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’ তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে আমাদের দৃষ্টি নিবন্ধ করতে হবে। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছেলে শিশু ও পুরুষদেরকে সমপৃক্ত করতে হবে। আমাদের সবাইকে একসাথে মিলে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য, নতুন দিনের সূচনা করার জন্য নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সূচনা বক্তব্যে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘মজুরি বৈষম্যের প্রতিবাদে ১৮৫৭ সালে নারীরা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। সেই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন-র্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করা হয়। কিন’ আজও নারীরা মজুরি বৈষম্য-সহ বিভিন্ন বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও এখনো তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারীর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য বন্ধ করতে হবে, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।’

জনাব শাহীন আক্তার ডলি বলেন, ‘নারীদের উন্নয়নে বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পেক্েষপের কারণে নারীদের অবস’ার উন্নতি ঘটছে, যদিও তা আশানুরূপ নয়। কিন’ একইসঙ্গে নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। কিন’ নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে আমরা জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবো না। আমরা যদি সম-ভাবনা নিয়ে নারী-পুরুষ একসাথে এগিয়ে যেতে পারি তবেই জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।’

শাহনাজ মুন্নী বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে, আমার বাবা-মা আমাকে লেখাপড়া করা এবং বিকশিত হওয়ার হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন। কিন’ আমাদের সমাজে কন্যাশিশুদের অনেকেই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আমাদের কন্যাশিশুদের সামনে থাকে অনেক বাধা। তাই কন্যাশিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য সেই বাধাগুলোকে সরিয়ে দিতে হবে, কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’ কন্যাশিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে, নিজেদেরকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’

নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘সব শিশুই মানব শিশু। একজন কন্যাশিশুর আসল পরিচয় সে মানব শিশু। তাই কন্যাশিশুদের প্রতি কোনো বঞ্চনা ও বৈষম্য করা যাবে না, তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য, একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, মেয়েদের বেশি প্রয়োজন আতমবিশ্বাস। মেয়েরা আত্‌মবিশ্বাসী হলে কোনো বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না এছাড়া মেয়েদের বিকশিত করে তোলার ক্ষেত্রে পুরুষদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »