“যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষার জন্য সমন্বিত খসড়া আইন, ২০১৮” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র দায়ের করা এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। ইতিমধ্যে প্রায় এক দশক অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে নারী ও শিশুর প্রতি সর্বক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ব্যাপকতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে এবং সর্বক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৯ জুন (শনিবার) ২০১৮, সকাল ১০:৩০টায়, ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান সম্মেলন কক্ষে ‘সকল ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষার জন্য খসড়া আইন, ২০১৮’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি -এর যৌথ উদ্যোগে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স প্রকল্প-এর সহায়তায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ছয়জন জেলা জজ, তিনজন পাবলিক প্রসিকিউটর, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বারোজন সিনিয়র আইনজীবী এবং বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত আইনজীবিসহ বেশকিছু প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘সুজন’ সম্পাদক ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার।

সভার শুরুতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১৮’ শীর্ষক একটা খসড়া আইন উত্থাপন করেন ‘বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র পরিচালক তৌহিদা খন্দকার। এরপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে আগত আইনজীবি ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

সূচনা বক্তব্যে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একটি সমাজ কতটা সভ্য তা নির্ভর করে সে দেশের অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠী কতটা ভালো আছে, তার ওপর। আমরা দেখি, আমাদের সমাজে নারীরা এখনো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং তারা বিভিন্ন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার। তাদের ওপর সবচেয়ে বড় নির্যাতন হলো যৌন নির্যাতন। আমরা মনে করি, তাদের প্রতি নির্যাতন রোধে প্রথমত একটি সমন্বিত আইন হওয়া দরকার।’

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ‘যৌন হয়রানি এখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে, পথে, ঘাটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্র সর্বত্রই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা এবং আদালতের নির্দেশনা না জানা অথবা জানলেও তা না মানার কারণে কমছে না যৌন হয়রানির ঘটনা। বর্তমানে যৌন হয়রানি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি এখন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সমস্যাটিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। এক হিসেবে দেখা যায়, বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রতি দশ জন নারীর মধ্যে নয়জন নারীই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন হয়রানি শিকার হন। হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ নয় বছর পরেও কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও সকল ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন অপরিহার্য।’

সভার শেষ পর্যায়ে সভা থেকে পাওয়া সুপারিশসমূহ সংযোজন বিয়োজন করে একটি সমন্বিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরির জন্য একজন জেলা বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস কমিটির সাথে সকল ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সভা

তারিখঃ ২০ নভেম্বর, ২০১৭
স্থানঃ আইপিডি মিলনায়তন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন

যৌথ আয়োজনঃ পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম
সহযোগিতায়ঃ গার্লস অ্যাডভোকেসি এ্যালায়েন্স, প্ল্যান ইন্ট্যারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথিঃ জনাব মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া, এমপি
মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
সভাপতিঃ জনাব মীর শওকাত আলী বাদশা, এমপি
মাননীয় সভাপতি, পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

স্বাগত বক্তব্য ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনঃ ড. বদিউল আলম মজুমদার, সভাপতি- জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট
স্বাগত মন্তব্য উপস্থাপনঃ জনাব সৌম্য ব্রত গুহ, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্ট্যারন্যাশনাল বাংলাদেশ

অন্যান্য অতিথিঃ পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস এর সদস্য ১১ জন সংসদ সদস্য, ফোরাম কার্যনির্বাহী সদস্য ও ফোরাম এর কেন্দ্রিয় সদস্য এবং সিভিল সোসাইটি সদস্য।

সভার উদ্দেশ্যঃ
বাংলাদেশে নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উন্মুক্ত স্থানে চলাফেরার সামগ্রিক (হাট-বাজার, রাস্তা ও পরিবহণ) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যৌন হয়রানির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতাসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক যৌনহয়রানি প্রতিরোধে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের যৌক্তিকতা উপস্থাপন। যা, এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে অবর্তমান।

মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনঃ
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধের শিরোনাম হলঃ
– বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান
– যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ
– হাইকোর্টের নির্দেশনা কি
– যৌন হয়রানির পরিস্থিতি পর্যালোচনা
– যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন ও নির্দেশনার সীমাবদ্ধতা
– যৌন হয়রানি বন্ধে চাই পূর্ণাঙ্গ আইন

পূর্ণাঙ্গ আইন কেন জরুরীঃ
যৌন হয়রানি বিষয়ে একটি সমন্বিত আইন নারী ও কন্যাশিশুদের সকল ক্ষেত্রে চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, কন্যাশিশু ও নারীদের অভিগম্যতা বৃদ্ধি পাবে, নারী শিক্ষা নিশ্চিত হবে, কন্যাশিশুদের লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ হ্রাস পাবে, কন্যাশিশু ও নারীরা আয়মূলক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হবে। এসডিজি অর্জনে এই আইন সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

সভায় আইনটি প্রনয়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আরও বেশকিছু সুপারিশ উপস্থাপনঃ
– যৌন হয়ারনি প্রতিরোধে শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া থেকে বিরত থাকা;
– আইনের অষ্পতটা, ভয়ে মামলা না করা, ক্রটিপূর্ণ তদন্ত বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সামাজিক ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততাসহ নানা কারণে যৌন নির্যাতন বন্ধ হচ্ছেনা। বিচারিক প্রক্রিয়ার সকল পুরুষতান্ত্রিক ফাঁক বা মানসিকতা বন্ধ করা;
– সমাজকে সুস্থ করতে, শিক্ষা, শ্রদ্ধা, সম্মান সর্বোপরি মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে। স্কুলের পাশাপাশি পরিবার থেকেও সন্তানদেরকে নারীদের সম্মান করা শেখাতে হবে।
– গণমাধ্যমকে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি কাজ করতে হবে
– আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও যৌন হয়রানি মোকাবেলায় সক্ষম ও সংবেদনশীল করে তোলার পাশাপাশি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সভার তাৎক্ষনিক ফলাফলঃ
– সংসদ সদস্যগনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া। সদস্যগণ প্রত্যেকে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় যৌন হয়রানী বন্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রতিটি স্টেকহোল্ডারকে জোড়ালো ভূমিকা পালনে বাধ্য করবেন।
– পূর্ণাঙ্গ যৌনহয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ণ যে অত্যন্ত জরুরী – উপস্থিত সংসদ সদস্যগণ প্রত্যেকে তা অনুধাবন করে বক্তব্য দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ আইন প্রনয়নের দাবী সংসদ সদস্যগন আগামী জানুয়ারী মাসের শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
– অতি দ্রুত এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্যে প্রধান অতিথি মাননীয় ডেপুটি স্পিকার পরামর্শ প্রদান করেন এবং ককাস এর সভাপতিকে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী কমিটির সদস্য ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কর্মরত সক্রিয় সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা আয়োজনের আহবান জানান।
-খসড়া আ্ইনটি সংসদে উপস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে তা পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি মাননীয় ডেপুটি স্পিকারএর কাছ থেকে পাওয়া।

অতি দ্রুত আইনটি পাশ করানোর লক্ষ্যে প্রধান অতিথি কর্তৃক প্রয়োজনীয় পরামর্শঃ
– অতিদ্রুত সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যেমন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশকিছু মন্ত্রণালয় এবং এ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু সংসদীয় কমিটির প্রধানদের সমন্বয়ে একটি ফলপ্রসূ সভা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সংসদীয় ককাস অন চাইল্ড রাইটস কমিটির সভাপতি এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামকে পরামর্শ প্রদান।
– কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইনটি পাশ করা যাবে, তা উক্ত সভা থেকে বের করে আনা।
– অতি দ্রুত পাশ করানোর লক্ষ্যে আইনের একটি খসড়া তৈরি করা, প্রয়োজনে ২০১০ সালে আইন কমিশনে দাখিলকৃত খসড়াটি (রিপোর্ট নং ১০০ ও ১০১) সংশোধন ও সংযোজন করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরী এবং আগামী জানুয়ারী ২০১৮ এর সংসদ অধিবেশনে পাশ করানের জন্য উপস্থাপনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ।

সর্বোপরি, প্রধান অতিথি মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, অদ্যকার সভার সভাপতি ও পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস কমিটির চেয়ারপার্সনকে উদ্দেশ্য করে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আগামী জানুয়ারী ২০১৮ এর শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই আইনটি উত্থাপিত হলে, পাশ করানোর শতভাগ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

পরবর্তী করণীয়ঃ
– একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া আইন তৈরি করা
– আগামী শীতকালীন সংসদ অধিবেশনের সময় খসড়া পূর্ণাঙ্গ আইনটি হস্তান্তর করা
– পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস এর চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বান করা এবং সেখানে খসড়া আইনটি উপস্থাপন করা
– সভা থেকে সকল ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইনটি সংসদে উত্থাপনের উপযোগী করা এবং কোন মন্ত্রণালয়ের অধিনে আইনটি হবে, তা সভা থেকে নির্দিষ্ট করা।
– সংসদ সদস্যগণ স্ব স্ব নির্বাচনি এলাকায় যৌন হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান এর সমন্বয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সে বিষয়ে ফোরাম তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করা।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গোলটেবিল বৈঠক: ‘আইনের প্রয়োগ ও দরিদ্রতা নিরসন কমাবে বাল্যবিবাহের হার’

district-wise-roundtable__barishalকোনো শর্ত ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর বহাল রেখে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬’ পাশ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূলে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উক্ত গোলটেবিল বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয় এমন একটি গোলটেবিল বৈঠক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কাজী হোসনেয়ারা এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জনাব মেহের আফরোজ মিতা। Continue reading “জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গোলটেবিল বৈঠক: ‘আইনের প্রয়োগ ও দরিদ্রতা নিরসন কমাবে বাল্যবিবাহের হার’”

২৪ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি: বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবি

 

‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’-তে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। ২৬ নভেম্বর ২০১৬, জাতীয় গণমাধ্যমে তাঁরা এই বিবৃতি দেন। গণমাধ্যমে এই বিবৃতি প্রেরণ ও প্রকাশে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সেলিনা হোসেন, এম এ মুহিত, নাসিমুন আরা হক মিনু, রোকেয়া কবির, আয়েশা খানম, মাহফুজা খানম, রোকেয়া প্রাচী, নাজমা সিদ্দিকী ,সালমা খান, তানিয়া হক, জোবেরা রহমান লিনু, জাকিয়া হাসান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. আমেনা মহসীন, ড. শাহদীন মালিক, বজলুর রশীদ ফিরোজ, ড. আনু মোহাম্মদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, এম হাফিজউদ্দিন খান, সালমা আলী, রাশেদা কে চৌধুরী এবং ড. তোফায়েল আহমেদ।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ বিধান’ রেখে গত ২৪ নভেম্বর ২০১৬ মন্ত্রিসভায় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ পাশ হয়েছে। আমরা মনে করি, ১৮ বছরের কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ রেখে আইনটি সংসদে পাশ করা হলে তা হবে টেকসই উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধক।

আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকারের অনুসমর্থনকৃত জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। এমনকি বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ ও জাতীয় শিশু নীতি-২০১১ তে-ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়েছে। তাই ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক এবং শিশুদের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি।

১৯২৯ সালের আইনে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর রাখা হয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে এসে আইনে ‘বিশেষ বিধান’ রাখা হবে নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বর্তমান সরকারের একটি পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত। তাছাড়া ‘তবে’ বা ‘বিশেষ বিধান’ রেখে কোনো আইন প্রণয়ন করা হলে তা আইনি ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় বলেও আমরা মনে করি।

আমরা মনে করি, আইনে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ রাখা হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণের কারণে বাড়বে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার এবং বাড়বে নারী নির্যাতন। সর্বোপরি, বাধাগ্রস্ত হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করা।

তাই, বিয়ের বয়স কমিয়ে নয়, বরং যেসব কারণে (অসচেতনতা, দরিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি) বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয় তা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

পরিশেষে, জাতীয় স্বার্থে ‘বিশেষ বিধান’ না রেখে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

উপরোক্ত বিবৃতিটি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা ও করণীয় নির্ধারণ

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা (খসড়া) নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ০৯ নভেম্বর ২০১৬, এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উক্ত সভার আয়োজন করে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম।

সভাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর সভাপতি জনাব নাছিমুন আরা হক মিনু। সভায় বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর সহ-সভাপতি জনাব দিল মনোয়ারা মনু, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিপিকা বিশ্বাস-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘সরকার ১৮ এর সাথে শর্ত যুক্ত রেখে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে (খসড়া) পাশ করতে যাচ্ছে। এরফলে আইনটির অপব্যবহার হবে এবং বাল্যবিবাহের পরিমাণ বেড়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনায় (খসড়া) মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স স্পষ্ট করা হয়নি। আমরা মনে করি, বিশেষ প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

জনাব নাছিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ হওয়া উচিত। এরসাথে কোনো শর্ত যুক্ত করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই সরকার যাতে আইনে শর্ত ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখে এজন্য গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সংবাদ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক জনাব সেলিম খান বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা দরকার যে, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হচ্ছে কিনা’। বাল্যবিবাহ বন্ধে তৃণমূলে বিশেষ করে বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভা থেকে ২০ নভেম্বর ২০১৬, সকল গণমাধ্যমের নারী ও শিশু পাতার প্রতিবেদকদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভা থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসে তা হলো:
১. বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা;
২. গণমাধ্যমে ‘টক-শো’ আয়োজন করা;
৩. জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘ভিডিও ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শন করা;
৪. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশ করা;
৫. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে অ্যাডভোকেসি করা;
৬. বাল্যবিবাহ বন্ধে করণীয় নির্ধারণে স্থানীয় পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অ্যাডভোকেসি করা।

রাজধানী-সহ সারাদেশে গণসমাবেশ: ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮, বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়- এমন ‘বিশেষ বিধান’ রেখে ২৪ নভেম্বর ২০১৬ মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’। উক্ত আইনের ১৯ ধারায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে যেকোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে হতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮-এর নিচে কত বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে, আইনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। সরকার সংসদের পরবর্তী কোনো অধিবেশনে উপরোক্ত বিধান রেখেই আইনটি পাশ করতে যাচ্ছে।
আইনের ১৯ ধারার অপব্যবহার হবে এবং দেশে বাড়বে বাল্যবিবাহের হার। তাই আইনে ‘১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’- এমন দাবিতে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে সারাদেশে গণসমাবেশ, র‌্যালি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

১৮ জানুয়ারি ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া একই দিন জেলা পর্যায়েও (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, যশোর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ) পালিত হয় মানববন্ধন, গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে ছাত্র-শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস’ার প্রতিনিধি-সহ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। Continue reading “রাজধানী-সহ সারাদেশে গণসমাবেশ: ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’”

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের দাবীতে চকরিয়ায় কর্মশালা

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, কক্সবাজার জলোর চকরয়িা উপজেলায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগতিায় চকরয়িা উপজলো প্রশাসন,  জাতীয় কন্যাশশিু এডভোকসেি ফোরাম এর আয়োজনে অনুষ্টতি হয় ‘বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ও বাল্যববিাহ বন্ধে জাতীয় র্কমপরকিল্পনা নর্ধিারণ ও বাস্তবায়ন’ র্শীষক র্কমশালা।
চকরয়িা মহলিা ডগ্রিী কলজে মলিনায়তন হলে অনুষ্ঠতি র্কমশালাটি সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এতে উপস্থতি ছলিনে চকরয়িা উপজলো নর্বিাহী র্কমর্কতা জনাব সাহদেুল ইসলাম, চকরয়িা উপজলো চয়োরম্যান জনাব জাফর আলম, চকরয়িা উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লক্সেরে ও আব্দুস সালাম, চকরিয়া থানার প্রতনিধিি এস.আই দবেব্রত রায়, চকরয়িা মহলিা কলজেরে অধ্যক্ষ মনজুর আলম, উপজলো মহলিা আওয়ামী লীগরে সভাপতি উম্মে কুলসুম মনিু, দি হাঙ্গার প্রজক্টে বাংলাদশেরে সিনিয়র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) সাইফ উদ্দিন আহমেদ, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে সভাপতি আব্দুল মজদি, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে যুগ্ন-সম্পাদক বশিষ্টি সাংবাদকি মছিবাউল হক প্রমূখ।
কর্মশালায় চকরিয়া আবাসিক ডিগ্রী মহিলা কলেজসহ চকরিয়ার বিভিন্ন কলেজের প্রায় এক হাজার ছাত্রী অংশ নেয়। আলোচকগণ র্কমশালায় ছাত্রীদরে উদ্দশ্যেে গুরুত্ব সহকারে নয়োর জন্য মন্ত্রসিভায় সদ্য অনুমোদতি খসড়া বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ২০১৬ বরিুদ্ধে সোচ্ছার হওয়ার জন্য তাগদি দেয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ তে কন্যাশিশুর বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থাকছে তবে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এর আইনের খসড়ায় বিশেষ ক্ষেত্রে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোন কন্যার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে উল্লেখ থাকছে। এই সিদ্ধান্তে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সকল গোত্রের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিবাহ নিরোধের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এ কন্যাশিশুর ন্যূনতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর রাখার দাবী জানানো হচ্ছে। কারণ জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ (সি আর সি) ও বাংলাদেশের প্রচলিত শিশু আইনে বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাকে শিশু বলা হয়েছে এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ শর্তে এই বয়স শিথিল করা হলে প্রচলিত আইনের সাথে তা হবে সাংঘর্ষিক। Continue reading “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের দাবীতে চকরিয়ায় কর্মশালা”

কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক

 

girlchild_rtable‘বাল্যবিবাহের হারের দিক থেকে বাংলাদেশ লজ্জাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করা হলে তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি লজ্জাজনক বিষয় হবে’ মন্তব্য করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি ২০ নভেম্বর ২০১৬, সকাল ১০.০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘আইনে কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর আয়োজনে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উক্ত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দেশের সকল সচেতন মানুষই মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর বহাল রাখা উচিত বলে মনে করেন। কিন্তু যারা কুম্ভকূর্ণ তাদের ঘুম কীভাবে ভাঙ্গবে?’ তিনি বলেন, ‘অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তারা অপরিপক্ক শরীরে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তাদের অনেকে অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয়। অন্যদিকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে মেয়েদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা শিক্ষিত ও স্বাস্থ্যবান হয় এবং উপার্জনের সুযোগ পায়, যে উপার্জন তারা পরিবারের কল্যাণে ব্যয় করে।’ Continue reading “কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক”

নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপ: বাল্যবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি

dialodge_session_2016

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে এবং নীতি-নির্ধারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো এক সংলাপ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। ০১ অক্টোবর ২০১৬, এফডিসির ৮নং ফ্লোরে (তেজগাঁও, ঢাকা) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি। সম্মানিত আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জনাব ফরিদা ইয়াসমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার, Continue reading “নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপ: বাল্যবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি”