২৪ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি: বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবি

 

‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’-তে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। ২৬ নভেম্বর ২০১৬, জাতীয় গণমাধ্যমে তাঁরা এই বিবৃতি দেন। গণমাধ্যমে এই বিবৃতি প্রেরণ ও প্রকাশে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সেলিনা হোসেন, এম এ মুহিত, নাসিমুন আরা হক মিনু, রোকেয়া কবির, আয়েশা খানম, মাহফুজা খানম, রোকেয়া প্রাচী, নাজমা সিদ্দিকী ,সালমা খান, তানিয়া হক, জোবেরা রহমান লিনু, জাকিয়া হাসান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. আমেনা মহসীন, ড. শাহদীন মালিক, বজলুর রশীদ ফিরোজ, ড. আনু মোহাম্মদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, এম হাফিজউদ্দিন খান, সালমা আলী, রাশেদা কে চৌধুরী এবং ড. তোফায়েল আহমেদ।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ বিধান’ রেখে গত ২৪ নভেম্বর ২০১৬ মন্ত্রিসভায় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ পাশ হয়েছে। আমরা মনে করি, ১৮ বছরের কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ রেখে আইনটি সংসদে পাশ করা হলে তা হবে টেকসই উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধক।

আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকারের অনুসমর্থনকৃত জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। এমনকি বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ ও জাতীয় শিশু নীতি-২০১১ তে-ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়েছে। তাই ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক এবং শিশুদের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি।

১৯২৯ সালের আইনে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর রাখা হয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে এসে আইনে ‘বিশেষ বিধান’ রাখা হবে নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বর্তমান সরকারের একটি পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত। তাছাড়া ‘তবে’ বা ‘বিশেষ বিধান’ রেখে কোনো আইন প্রণয়ন করা হলে তা আইনি ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় বলেও আমরা মনে করি।

আমরা মনে করি, আইনে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ‘বিশেষ বিধান’ রাখা হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণের কারণে বাড়বে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার এবং বাড়বে নারী নির্যাতন। সর্বোপরি, বাধাগ্রস্ত হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করা।

তাই, বিয়ের বয়স কমিয়ে নয়, বরং যেসব কারণে (অসচেতনতা, দরিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি) বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয় তা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

পরিশেষে, জাতীয় স্বার্থে ‘বিশেষ বিধান’ না রেখে মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

উপরোক্ত বিবৃতিটি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা ও করণীয় নির্ধারণ

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা (খসড়া) নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ০৯ নভেম্বর ২০১৬, এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উক্ত সভার আয়োজন করে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম।

সভাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর সভাপতি জনাব নাছিমুন আরা হক মিনু। সভায় বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর সহ-সভাপতি জনাব দিল মনোয়ারা মনু, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিপিকা বিশ্বাস-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘সরকার ১৮ এর সাথে শর্ত যুক্ত রেখে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে (খসড়া) পাশ করতে যাচ্ছে। এরফলে আইনটির অপব্যবহার হবে এবং বাল্যবিবাহের পরিমাণ বেড়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনায় (খসড়া) মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স স্পষ্ট করা হয়নি। আমরা মনে করি, বিশেষ প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

জনাব নাছিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ হওয়া উচিত। এরসাথে কোনো শর্ত যুক্ত করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই সরকার যাতে আইনে শর্ত ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখে এজন্য গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সংবাদ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক জনাব সেলিম খান বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা দরকার যে, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হচ্ছে কিনা’। বাল্যবিবাহ বন্ধে তৃণমূলে বিশেষ করে বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভা থেকে ২০ নভেম্বর ২০১৬, সকল গণমাধ্যমের নারী ও শিশু পাতার প্রতিবেদকদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভা থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসে তা হলো:
১. বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা;
২. গণমাধ্যমে ‘টক-শো’ আয়োজন করা;
৩. জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘ভিডিও ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শন করা;
৪. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশ করা;
৫. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে অ্যাডভোকেসি করা;
৬. বাল্যবিবাহ বন্ধে করণীয় নির্ধারণে স্থানীয় পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অ্যাডভোকেসি করা।

রাজধানী-সহ সারাদেশে গণসমাবেশ: ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮, বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়- এমন ‘বিশেষ বিধান’ রেখে ২৪ নভেম্বর ২০১৬ মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’। উক্ত আইনের ১৯ ধারায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে যেকোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে হতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮-এর নিচে কত বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে, আইনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। সরকার সংসদের পরবর্তী কোনো অধিবেশনে উপরোক্ত বিধান রেখেই আইনটি পাশ করতে যাচ্ছে।
আইনের ১৯ ধারার অপব্যবহার হবে এবং দেশে বাড়বে বাল্যবিবাহের হার। তাই আইনে ‘১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’- এমন দাবিতে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে সারাদেশে গণসমাবেশ, র‌্যালি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

১৮ জানুয়ারি ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া একই দিন জেলা পর্যায়েও (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, যশোর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ) পালিত হয় মানববন্ধন, গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে ছাত্র-শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস’ার প্রতিনিধি-সহ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। Continue reading “রাজধানী-সহ সারাদেশে গণসমাবেশ: ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৮’র সাথে কোনো শর্ত নয়’”

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের দাবীতে চকরিয়ায় কর্মশালা

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, কক্সবাজার জলোর চকরয়িা উপজেলায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগতিায় চকরয়িা উপজলো প্রশাসন,  জাতীয় কন্যাশশিু এডভোকসেি ফোরাম এর আয়োজনে অনুষ্টতি হয় ‘বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ও বাল্যববিাহ বন্ধে জাতীয় র্কমপরকিল্পনা নর্ধিারণ ও বাস্তবায়ন’ র্শীষক র্কমশালা।
চকরয়িা মহলিা ডগ্রিী কলজে মলিনায়তন হলে অনুষ্ঠতি র্কমশালাটি সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এতে উপস্থতি ছলিনে চকরয়িা উপজলো নর্বিাহী র্কমর্কতা জনাব সাহদেুল ইসলাম, চকরয়িা উপজলো চয়োরম্যান জনাব জাফর আলম, চকরয়িা উপজলো স্বাস্থ্য কমপ্লক্সেরে ও আব্দুস সালাম, চকরিয়া থানার প্রতনিধিি এস.আই দবেব্রত রায়, চকরয়িা মহলিা কলজেরে অধ্যক্ষ মনজুর আলম, উপজলো মহলিা আওয়ামী লীগরে সভাপতি উম্মে কুলসুম মনিু, দি হাঙ্গার প্রজক্টে বাংলাদশেরে সিনিয়র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) সাইফ উদ্দিন আহমেদ, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে সভাপতি আব্দুল মজদি, চকরয়িা প্রসে ক্লাবরে যুগ্ন-সম্পাদক বশিষ্টি সাংবাদকি মছিবাউল হক প্রমূখ।
কর্মশালায় চকরিয়া আবাসিক ডিগ্রী মহিলা কলেজসহ চকরিয়ার বিভিন্ন কলেজের প্রায় এক হাজার ছাত্রী অংশ নেয়। আলোচকগণ র্কমশালায় ছাত্রীদরে উদ্দশ্যেে গুরুত্ব সহকারে নয়োর জন্য মন্ত্রসিভায় সদ্য অনুমোদতি খসড়া বাল্যববিাহ নরিোধ আইন ২০১৬ বরিুদ্ধে সোচ্ছার হওয়ার জন্য তাগদি দেয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ তে কন্যাশিশুর বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থাকছে তবে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এর আইনের খসড়ায় বিশেষ ক্ষেত্রে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোন কন্যার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে উল্লেখ থাকছে। এই সিদ্ধান্তে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সকল গোত্রের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিবাহ নিরোধের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এ কন্যাশিশুর ন্যূনতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর রাখার দাবী জানানো হচ্ছে। কারণ জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ (সি আর সি) ও বাংলাদেশের প্রচলিত শিশু আইনে বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাকে শিশু বলা হয়েছে এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ শর্তে এই বয়স শিথিল করা হলে প্রচলিত আইনের সাথে তা হবে সাংঘর্ষিক। Continue reading “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশের দাবীতে চকরিয়ায় কর্মশালা”

কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক

 

girlchild_rtable‘বাল্যবিবাহের হারের দিক থেকে বাংলাদেশ লজ্জাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করা হলে তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি লজ্জাজনক বিষয় হবে’ মন্তব্য করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি ২০ নভেম্বর ২০১৬, সকাল ১০.০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘আইনে কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর আয়োজনে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উক্ত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দেশের সকল সচেতন মানুষই মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর বহাল রাখা উচিত বলে মনে করেন। কিন্তু যারা কুম্ভকূর্ণ তাদের ঘুম কীভাবে ভাঙ্গবে?’ তিনি বলেন, ‘অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তারা অপরিপক্ক শরীরে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তাদের অনেকে অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয়। অন্যদিকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে মেয়েদের বিকশিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা শিক্ষিত ও স্বাস্থ্যবান হয় এবং উপার্জনের সুযোগ পায়, যে উপার্জন তারা পরিবারের কল্যাণে ব্যয় করে।’ Continue reading “কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক”

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে
র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন
rallyশিশুকন্যার বিয়ে বন্ধ করি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ি’ – এই স্ল্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্‌যাপিত হলো জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৬। দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৩০টায় শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পর্যন- এক র‌্যালি এবং র‌্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র‌্যালি উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এম.পি.। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি- মাননীয় সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনাব ড. বদিউল আলম মজুমদার- সভাপতি, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এবং সেভ দি চিলড্রেন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব মার্ক পিয়ার্স। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর সাবেক পরিচালক জনাব ফালগুনী হামিদ এবং ইউনিসেফ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যাডওয়ার্ড বেইবেডার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক জনাব মোশাররফ হোসেন। Continue reading “জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন”

নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপ: বাল্যবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি

dialodge_session_2016

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে এবং নীতি-নির্ধারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো এক সংলাপ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। ০১ অক্টোবর ২০১৬, এফডিসির ৮নং ফ্লোরে (তেজগাঁও, ঢাকা) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব নাছিমা বেগম এনডিসি। সম্মানিত আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জনাব ফরিদা ইয়াসমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার, Continue reading “নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপ: বাল্যবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি”

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০১৬ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০১৬ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও শিশু একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সহযোগিতায়  গত ২৪ সেপ্টেম্বর???????????????????????????????????? চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোট ৬৮৫ জন শিশু প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এদের মধ্য থেকে ১৬ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

 

????????????????????????????????????

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

ngcaf_anti_terrosist_humanchainজঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি–সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এবং নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর উদ্যোগে গত ১৬ জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০.৩০টা থেকে ১১.৩০টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফোরাম সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজমুদার, ড. তোফায়েল আহমেদ, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জনাব জাকির হোসেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাসদ (রব) এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, হুমায়ূন কবির হিরু, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জনাব দিলীপ কুমার সরকার, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি, জনাব শাহজাহান মন্টু, রঘুনাথ রাহা, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, আবুল হাসনাত, মোহাম্মদ সেলিম, জনাব মাহবুব আক্তার, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন প্রমুখ। Continue reading “জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান”

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন

র‌্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আন-র্জাতিক নারী দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন

????????????????????????????????????

‘২০৩০ এর অঙ্গীকার, নারী-পুরুষের সমতার’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে উদ্‌যাপিত হলো আন-র্জাতিক নারী দিবস-২০১৬। এ উপলক্ষে ০৯ মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮.৩০টায় টিএসসি মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ঢাকা পর্যন- এক র‌্যালি এবং র‌্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় শিশু একাডেমী-এর অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন ড. মিজানুর রহমান- চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন জনাব মোশাররফ হোসেন- পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ঢাকা এবং অধ্যাপক ইফ্‌ফাত আরা নার্গিস- সহ-সমপাদক, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও সাবেক মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস’াপনা একাডেমী (নায়েম)। Continue reading “আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৬ উদ্‌যাপন”