সিডও সনদ

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ

ভূমিকা

২৩ থেকে ৩০ ধারা ঃ সিডওর প্রশাসন সংক্রান্ত
সিডও সনদের পুরো বিবরণঃ

নারীর চিরাচরিত ভূমিকার ভিত্তিতে যেসব কুসংস্কার, প্রথা ও অভ্যাস গড়ে উঠেছে সে গুলো দূর করার লক্ষ্যে পুরুষ ও নারীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আচরণের ধরন পরিবর্তন করা;

(খ) মাতৃত্বকে একটি সামাজিক কাজ হিসাবে যথাযথভাবে বিবেচনা এবং সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই মূল বিবেচ্য বিষয়-এ কথা স্মরণ রেখে সন্-ান – সন্-তির লালন – পালন ও
উন্নয়নে পুরুষ ও নারীর ভিন্ন দায়িত্বের স্বীকৃতির বিষয় যাতে পারিবারিক শিক্ষায় অন্-র্ভুক্ত করা হয়, তা নিশ্চিত করা।

ধারা-৬ পতিতা ও দেহব্যবসা

শরীক রাষ্ট্রসমুহ নারীকে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ ব্যবসা এবং দেহব্যবসার আকারে নারীর শোষণ দমন করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়নসহ সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিচ্ছেদ ২

ধারা-৭ ঃ নারীর রাজনৈতিক জীবন ধারা ও অধিকার

শরীক রাষ্ট্রসমূহ দেশের রাজনৈতিক ও জন জীবনে
নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বিশেষকরে, পুরুষের সঙ্গে সমান শর্তে, যেসব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার নিশ্চিত করবে সে গুলো হচ্ছে ;

(ক) সকল নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদান এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংস্থা সমূহের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতায় উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া ;

(খ) সরকারী নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্-বায়নে অংশগ্রহণ এবং সরকারী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া ও সরকারের সকল পর্যায়ে সরকারী কাজকর্ম সম্পাদন ;

(গ) দেশের জনজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থা ও সমিতিসমূহের কাজে অংশগ্রহণ।

ধারা-৮ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ।

শরীক রাষ্ট্রসমূহ পুরুষের সঙ্গে সমান শর্তে এবং কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই নারীর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবং আন্-র্জাতিক সংস্থাসমূহের কাজ-কর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ধারা-৯ নারীর জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব

১। শরীক রাষ্ট্রসমূহ জাতীয়তা অর্জন, পরিবর্তন অথবা তা বজায় রাখতে নারীকে পুরুষের মতই সমান অধিকার প্রদান করবে। রাষ্ট্রসমূহ বিশেষকরে নিশ্চিত করবে যে একজন

বিদেশীদের সঙ্গে বিবাহ অথবা বিবাহ চলাকালে স্বামীর জাতীয়তা পরিবর্তনের ফলে স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে স্ত্রীর জাতীয়তা পরিবর্তিত হবে না, তাঁকে জাতীয়তাহীন করবে না অথবা স্বামীর জাতীয়তা গ্রহণে তাঁকে বাধ্য করা হবে না।

২। শরীক রাষ্ট্রসমূহ নারীকে তাঁর সন্-ান-সন্-তির জাতীয়তার ক্ষেত্রে পুরুষের মতই সমান অধিকার প্রদান করবে।

পরিচ্ছেদ ৩
ধারা-১০ ঃ শিক্ষায় সম-অধিকার

শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, বিশেষকরে পুরুষ ও নারীর
সমতার ভিত্তিতে যেসব বিষয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শরীক রাষ্ট্রসমূহ নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের জন্য

সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সে গুলো হচ্ছেঃ

(ক) কর্মজীবন ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা, পল্লী ও শহর অঞ্চলে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ ও ডিপ্লোমা লাভের সুযোগের জন্য একই শর্তাবলী ; স্কুল-পূর্ব, সাধারন, কারিগরী, পেশাগত ও উচ্চতর কারিগরী শিক্ষা, সেই সাথে সকল ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে এই সমতা নিশ্চিত করা ;

(খ) একই পাঠ্যক্রম, একই পরীক্ষা, একই মানের যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক এবং একইমানের বিদ্যালয় চত্বর সরঞ্জামাদি লাভের সুযোগ প্রদান ;

(গ) সহশিক্ষা এবং পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কিত
চিরাচরিত ধারণা দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক অন্য ধরনের শিক্ষা উৎসাহিত করার মাধ্যমে, বিশেষকরে পাঠ্যপুস্-ক ও বিদ্যালয় কর্মসূচি সংশোধন এবং উপযুক্ত শিক্ষা পদ্ধতি

গ্রহণের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে এবং সকল ধরণের শিক্ষায় পুরুষ ও নারীর ভুমিকা সম্পর্কিত চিরাচরিত যে কোন ধারণা দূরীকরণ ;

(ঘ) বৃত্তি এবং অন্যান্য শিক্ষা মঞ্জুরি থেকে লাভবান
হওয়ার একই সুযোগ প্রদান ;

(ঙ) বয়স্ক ও কর্মমূলক শিক্ষা কর্মসূচীসহ শিক্ষা অব্যাহত রাখার কর্মসূচী, বিশেষকরে পুরুষ ও নারীর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান যে কোন দূরত্ব সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রণীত কর্মসূচীসমূহে সুযোগ লাভের একই সুবিধা প্রদান ;

(চ) ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার কমানো এবং যেসব বালিকা ও মহিলা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন, তাদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন ;

(ছ) খোলাধূলা ও শারিরীক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য একই সুযোগ প্রদান ; (জ) পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা উদ্দেশ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য ও পরামর্শসহ নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি।

ধারা-১১ কর্মসংস্থান

১। পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে তাদের একই অধিকার, বিশেষ করে নিম্নে বর্ণিত অধিকার সমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বপ্রকার নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে শরীক রাষ্ট্রসমূহ নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেঃ
(ক) সকল মানুষের মৌলিক কর্মসংস্থানের অধিকার ;
(খ) কর্মে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই বাছাই মান

প্রয়োগসহ একই নিয়োগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার ;
(গ) পেশা ও চাকুরী স্বাধীনভাবে বেছে নেয়ার অধিকার; পদোন্নতি, চাকুরীর নিরাপত্তা এবং চাকুরীর সকল সুবিধা ও শর্ত ভোগ করার অধিকার এবং শিক্ষানবীস হিসাবে প্রশিক্ষণ, উচ্চতর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ গ্রহণের অধিকার;
(ঘ) বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ সমান পারিশ্রমিক, একই মানের কাজের ক্ষেত্রে একই আচরণ, সেই সাথে কাজের মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে
সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার;
(ঙ) বিশেষ করে অবসর গ্রহণ, বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা ও বার্ধক্য এবং কাজ করার অন্যান্য অক্ষমতার ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার এবং সেই সাথে সবেতন ছুটি ভোগের অধিকার;

(চ) সন্-ান জন্মদান প্রক্রিয়া নিরাপদ রাখাসহ স্বাস্থ্য
রক্ষা এবং কাজের পরিবেশে নিরাপত্তার অধিকার।

২। বিবাহ অথবা মাতৃত্বের কারণে নারীর প্রতি বৈষম্য রোধ এবং তাদের কাজ করার কার্যকর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শরীক রাষ্ট্রসমূহ যেসকল বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সেগুলো, হচ্ছেঃ

(ক) গর্ভধারণ অথবা মাতৃত্ব সংক্রান্- ছুটির কারণে
বরখাস্- এবং বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে বরখাস্- করার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা;

(খ) বেতনসহ ছুটি অথবা পূর্বেকার চকুরী , জেষ্ঠতা
অথবা সামাজিক ভাতাদি না হারিয়ে তুলনা যোগ্য সামাজিক সুবিধাদি সহ মাতৃত্ব সংক্রান্- ছুটি প্রবর্তন করা;

(গ) বিশেষ করে একটি শিশু পরিচর্যা সুবিধা
নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের মাধ্যমে,

পিতা মাতাদেরকে তাদের কাজের দায়িত্বের সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্ব সংযুক্ত করে নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়ক সামাজিক সার্ভিসের ব্যবস্থা উৎসাহিত করা;

(ঘ) গর্ভাবস্থায় যে ধরনের কাজ নারীর জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত, গর্ভকালে তাঁদেরকে সে ধরণের কাজ থেকে বিশেষ ভাবে রক্ষার ব্যবস্থা করা।

৩। এই ধারায় বর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে রক্ষামূলক
আইন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের
আলোকে সময় সময় পর্যলোচনা করা হবে
এবং প্রয়োজনমত সংশোধন, বাতিল অথবা
সম্প্রসারণ করা হবে।

ধারা-১২ঃ স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও পরিবার পরিকল্পনা

১। পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে, পরিবার
পরিকল্পনা সম্পর্কিত সার্ভিসসহ স্বাস্থ্য

পরিচর্যামূলক সার্ভিস পাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শরীক রাষ্ট্রসমূহ, স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
২। এই ধারার অনুচ্ছেদ ১-এর বিধান ছাড়াও শরীক রাষ্ট্রসমূহ, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বিনামূলে সার্ভিস প্রদান ক’রে, সেই সাথে গর্ভাবস্থায় ও শিশুকে মায়ের দুগ্ধদান চলাকালে পর্যাপ্ত পুষ্টির ব্যবস্থা করে গর্ভাকাল, সন্-ান জন্মদানের ঠিক আগে এবং সন্-ান জন্মদানের পরে মহিলাদের উপযুক্ত সার্ভিস প্রদানে নিশ্চিত করবে।

ধারা-১৩ ঃ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা

শরীক রাষ্ট্রসমূহ , পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে, একই অধিকার, বিশেষকরে নিম্নলিখিত অধিকার সমূহ, নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও
সামাজিক জীবনের অপরাপর ক্ষেত্রে নারীর প্রতি

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ

বৈষম্য দূর করার জন সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
(ক) পারিবারিক কল্যাণের অধিকার ;

(খ) ব্যাংক ঋণ, বন্ধক ও অন্যান্য আর্থিক ঋণ গ্রহণের অধিকার;

(গ) বিনোদনমূলক কর্মকান্ড, খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সকল বিষয়ে অংশগ্রহণের অধিকার।

ধারা-১৪ ঃ গ্রামীণ নারী

১। শরীক রাষ্ট্রসমূহ , পল্লী এলাকার মহিলারা যেসব বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো এবং দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের যেসব কাজ উপার্জন হিসাবে গণ্য করা হয় না সেসব কাজ এবং পরিবারের । অর্থনৈতিক কার্যক্রমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ যেসব ভূমিকা পালন করেন,

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ

সেগুলো বিবেচনা করবে, এর পল্লী এলাকার নারীদের জন্য এই সনদের বিধান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২। শরীক রাষ্ট্রসমূহ, পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে , পল্লী উন্নয়ন কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও তা থেকে তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, পল্লী এলাকায় নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বিশেষ করে, এসব নারীর জন্য নিম্ন লিখিত অধিকারসমূহ নিশ্চিত করবেঃ

(ক) সকল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ ও
বাস্-বায়নে অংশগ্রহণ করা;

(খ) পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তথ্য পরামর্শ ও সেবা লাভসহ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা সুবিধা লাভের সুযোগ পাওয়া;

(গ) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী থেকে সরাসরি লাভবান হওয়া;

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ

(ঘ) উপযোগী শিক্ষা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণসহ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সকল ধরণের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা এবং সেইসাথে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, তাঁদের কারিগরী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল সামাজিক ও সম্প্রসারণ সার্ভিসের সুবিধা লাভ করা;

(ঙ) কর্মসংস্থান অথবা স্ব-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধালাভের সমান সুযোগ পাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ব-সাহায্য গ্রুপ ও সমবায় সংগঠিত করা;

(চ) সকল সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা;

(ছ) কৃষি ঋণ ও অন্যান্য ঋণ, বাজারজাতকরণ সুবিধা ও উপযুক্ত প্রযুক্তি লাভের সুযোগ পওয়া এবং ভূমি ও কৃষি সংস্কার ও সেই সাথে ভূমি পুনরবন্টন স্কীমের ক্ষেত্রে সমান অধিকার লাভ করা;

(জ) বিশেষ-করে গৃহায়ন, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহণ ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে
বসবাস সুবিধা ভোগ করা।

পরিচ্ছেদ ৪

ধারা-১৫ ঃ আইন সমতা

১। শরীক রাষ্ট্রসমুহ আইনের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষকে সমকক্ষ হিসাবে বিবেচনা করবে।

২। শরীক রাষ্ট্র সমূহ বিভিন্ন নাগরিক বিষয়ে নারীকে পুরুষের বৈধ ক্ষমতার অনুরূপ ক্ষমতা প্রদান করবে এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য একই সুযোগ দেবে। বিশেষকরে রাষ্ট্রসমূহ নারীকে চুক্তি সম্পাদনে ও সম্পত্তি দেখাশোনায় সমান অধিকার দেবে এবং আদালত ও ট্রাইবুনালে কার্যক্রমের সকল স্-রে তাঁদের সঙ্গে সমান আচরণ করবে।

৩। শরীক রাষ্ট্রসমূহ নারীর বৈধ ক্ষমতা সংকুচিত করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন ভিত্তিক সকল চুক্তি

ও যে কোনো ধরণের ব্যক্তিগত দলিল বাতিল করবে।

৪। শরীক রাষ্ট্রসমূহ সকল নাগরিকের চলাচল এবং আবাসস্থল ও বসতি স্থাপন বেছে নেয়ার ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা পুরুষ ও নারীকে মান অধিকার দেবে।

ধারা- ১৬: বিবাহ ও পারিবারিক আইন

শরীক রাষ্ট্রসমূহ, বিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ করবে এবং পুরুষ নারীর সমতার ভিত্তিতে বিশেষ করে যেসব বিষয় নিশ্চিত করবে, সেগুলো হচ্ছে ঃ
(ক) বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার জন্য একই অধিকার;
(খ)স্বাধীনভাবে স্বামী/স্ত্রী হিসাবে সঙ্গী বেছে নেয়ার এবং তাদের স্বাধীন ও পূর্ণ সম্মতিতে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার জন্য একই অধিকার;

(গ) বিবাহ এবং এর বিচ্ছেদ কালে একই অধিকার ও দায়িত্ব ;

(ঘ) তাঁদের বৈবাহিক অবস্থা নির্বিশেষে, তাদের সন্-ান-সন্-তির বিষয়ে, পিতা- মাতা হিসাবে একই অধিকার ও দায়িত্ব ; সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ;

(ঙ) তাঁদের সন্-ান সংখ্যা কত হবে ও সন্-ান জন্মদানে কতটা বিরতি দেয়া হবে সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে ও দায়িত্বের সঙ্গে সিদ্ধান্- গ্রহণ এবং বিভিন্ন অধিকার প্রয়োগে সক্ষমতা অর্জনের জন্য তথ্য, শিক্ষা ও উপায় লাভের একই অধিকার ;

(চ) অভিভাবকত্ব, প্রতিপালকত্ব, ট্রাস্টিশীপ ও পোষ্য সন্-ান গ্রহণ অথবা অনুরূপ ক্ষেত্রে, যেখানে জাতীয় আইনে এসব ধারণা বিরাজমান, একই অধিকার ও দায়িত্ব; সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ;
(ছ) পারিবারিক নাম, পেশা অথবা বৃত্তি পছন্দের অধিকারসহ স্বামী অথবা স্ত্রী হিসাবে সমান অধিকার;

(জ) বিনামূল্যে অথবা মূল্যের বিনিময়ে সম্পত্তির মালিকানা, তা অর্জন, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, ভোগ ও নিষপত্তির ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের একই অধিকার।

২। শিশুকালে বাগদান ও শিশু বিবাহের কোনো আইনগত কার্যকারিতা থাকবে না এবং বিবাহের একটি সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ ও সরকারী রেজিষ্ট্রিতে বিবাহ রেজিষ্ট্রিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করার করার জন্য আইন প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিচ্ছেদ ৫
ধারা-১৭ ঃ সিডও ঈঊউঅড) কর্মপন্থা ও দায়িত্ব বিষয়ক ধারা

১। সিডও সনদের বাস্-বায়নের অর্জিত অগ্রগতি বিবেচনার জন্য, সনদ কার্যকর হতে শুরু হওয়ার সময় নৈতিক প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন এবং সনদে বর্ণিত ক্ষেত্রে দক্ষতা সম্পন্ন ১৮ জন এবং শরীক পয়ঁত্রিশতম রাষ্ট্রকর্তৃক সনদ অনুমোদিত অথবা সমর্থিত হওয়ার পর ২৩ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ সম্পর্কিত একটি কমিটি (এর পর কমিটি নামে অভিহিত) গঠন করা হবে। শরীক রাষ্ট্রসমূহ তাদের নাগরিকদের মধ্যে থেকে বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করবে, যারা ব্যক্তি যোগ্যতায় কাজ করবেন এবং তাঁদের নির্বাচনের সময় ন্যায্য ভৌগলিক এলাকা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও বিভিন্ন পর্যায়ের সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব ও সেই সাথে মূল আইনগত পদ্ধতিসমূহ বিবেচনা করা হবে।

২। শরীক রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে গোপন ব্যালটের শাধ্যমে কমিটি সদস্য নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি শরীক রাষ্ট্র তার নাগরিকের মধ্য থেকে একজনকে মনোনীত করতে পারবে।

৩। এই সনদ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ছয়মাস পর প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি নির্বাচনের তারিখের অন্-তঃ তিন মাস আগে জাতিসংঘ মহা-সচিব দুই মাসের মধ্যে মনোনয়ন পেশ করার আহবান জানিয়ে শরীক রাষ্ট্রসর্মূহের কাছে পত্র দেবেন। মহা-সচিব, মনোনীত ব্যক্তিদের নামের অদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন যাতে এসব প্রার্থীকে মনোনয়নদানকারী রাষ্ট্রসমূহের নাম উল্লেখ থাকবে এবং এই তালিকা তিনি শরীক রাষ্ট্র সমূহের কাছে পাঠাবেন।

৪। মহা-সচিব কর্তৃক জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আহুত শরীক রাষ্ট্রসমূহের এক বৈঠকে কমিটির সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঐ

বৈঠকে কমিটির জন্য নির্বাচিত সদস্য হবেন তাঁরাই যারা চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহের উপস্থিতি প্রতিনিধিদের সর্বাধিক সংখ্যক ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন। বৈঠকের কোরাম গঠনের জন্য সনদে শরীক রাষ্ট্রসমূহের দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধির উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে।

৫। কমিটির সদস্যরা চার বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবেন। অবশ্য প্রথম নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে নয় জনের মেয়াদ দুই বছর পর শেষ হয়ে যাবে; প্রথম নির্বাচনের পরপরই কমিটির চেয়ারম্যান লটারীর মাধ্যমে এই নয় জন সদস্যের নাম বাছাই করবেন।

৬। পয়ঁত্রিশতম অনুমোদন অথবা সমর্থনের পর এই ধারার ২, ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে কমিটির অতিরিক্ত পাঁচ জন সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে নির্বাচিত অতিরিক্ত সদস্যদের মধ্যে দুই জনের মেয়াদ

দুই বছর পর শেষ হবে, কমিটির চেয়াম্যান লটারীর মাধ্যমে এই দুই জন সদস্যের নাম বাছাই করবেন।

৭। অনিয়মিত শূন্যতা পূরণের জন্য, শরীক যে রাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ কমিটিরসদস্য হিসাবে কাজ করা থেকে বিরত রয়েছেন, সেই রাষ্ট্র, কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে, তার নাগরিকদের মধ্য থেকে অপর একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করবে।

৮। কমিটির দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ পরিষদের আরোপ করা শর্তে কমিটির সদস্যগণ, সাধারণ পরিষদের অনূমোদন নিয়ে, জাতিসংঘের তহবিল থেকে বেতন বা ভাতা গ্রহণ করবেন।

৯। জাতিসংঘ মহা-সচিব এই সনদের অধীনে কমিটির কার্যক্রম কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মচারী ও সুযোগ-সুদিধার ব্যবস্থা করবেন।

ধারা-১৮ ঃ সিডও (ঈঊউঅড) সংশ্লিষ্ট সরকারী ব্যবস্থাপনা সমূহ

১। শরীক রাষ্ট্রসমূহ, এই সনদের বিধানসমূহ কার্যকর করতে আইনগত, বিচার বিভাগীয়, প্রশাসনিক ও অন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সে
সম্পর্কে এবং এ ব্যাপারেঅর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে একটি রিপোর্ট কমিটির বিবেচনার জন্য মহাসচিবের কাছে পেশ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং তা পেশ করা হবে ঃ

(ক) সনদে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের অন্-র্ভুক্ত হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে; এবং

(খ) তারপর প্রতি চার বছর অন্-র এবং কমিটি যখনই অনুরোদ করবে, সেই সময়।

২। রিপোর্টে এই সনদের অধীনে প্রত্যামিত মাত্রায় দায়িত্ব পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিষয়াদি ও অসুবিধাসমূহের উল্লেখ থাকতে পারে।

ধারা-১৯ ঃ সিডও (ঈঊউঅড) কার্যপ্রণালী বিধি

১। কমিটি নিজেই তার কার্যপ্রণালী বিধি প্রণয়ন করবে।

২। কমিটি দুই বছর মেয়াদের জন্য তার কর্মকর্তা নির্বাচন করবে।

ধারা-২০ ঃ সিডও (ঈঊউঅড) কার্যপ্রণালী বিধি

১। কমিটি এই সনদের ১৮ ধারা অনুসারে পেশকৃত রিপোর্ট সমূহ বিবেচনার জন্য সাধারণতঃ বছরে একবার অনধিক দুই সপ্তাহের জন্য বৈঠকে মিলিত হবে।

২। কমিটির বৈঠকসমূহ সাধারণতঃ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অথবা কমিটি নির্ধারিত অন্য যে কোনো সুবিধাজনক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা-২১ জাতিসংঘের নিকট সিডও (ঈঊউঅড) সংক্রান্- বার্ষিক অগ্রগতির রিপোর্ট

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ

১। কমিটি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে তার কার্যক্রম সম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করবে এবং শরীক রাষ্ট্রসমূহের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্ট ও তথ্য পরীক্ষার ভিত্তিতে পরামর্শ ও সাধারণ সুপারিশ প্রদান করতে পারবে। এ ধরনের পরামর্শ ও সাধারন সুপারিশ এবং সেই সাথে শরীক রাষ্ট্রসমূহের কোনো মন্-ব্য থাকলে, তা কমিটির রিপোর্টে অন্-র্ভূক্ত করা হবে।

২। মহা-সচিব নারীর অবস্থান সম্পর্কিত কমিশনের অবগতির জন্য কমিটির রিপোর্ট তার কাছে পাঠাবেন।

ধারা-২২ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা ও সিডও (ঈঊউঅড)

এই সনদের যেসব বিধান বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহের কর্মপরিধির আওতায় পড়ে, সেগুলোর বাস্-বায়ন বিবেচনার ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে

যেসব ক্ষেত্রে সনদের বাস্-বায়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহের কর্মপরিধির আওতায় পড়ে, সেগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সংস্থাসমূহকে রিপোর্ট করার জন্য কমিটি আহবান জানাতে পারবে।

পরিচ্ছেদ ৬
ধারা-২৩ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্-

এই সনদের কোনো কিছুই পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতা অর্জনের লক্ষ্যে অধিক উপযোগী এমন কোন বিধানের জন্য অন্-রায় সৃষ্টি করবে না, যে বিধান অন্-র্ভূক্ত থাকেতে পারে ঃ
(ক) শরীক একটি দেশের আইনে; অথবা

(খ) ঐ দেশের জন্য কার্যকর অন্য যে কোনো আন্-র্জাতিক সনদ, চুক্তি অথবা সমঝোতায়।

ধারা-২৪ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্-

শরীক রাষ্ট্রসমূহ এই সনদে স্বীকৃত অধিকার সমূহের পূর্ণ বাস্-বায়ন অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে

প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ধারা-২৫ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্-

১। এই সনদ সকল রাষ্ট্র কর্তৃক স্বাক্ষরের জন্য খোলা থাকবে।

২। জাতিসংঘ মহা-সচিব এই সনদের রক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন।

৩। এই সনদ অনুমোদন সাপেক্ষ। অনুমোদনের দলিলপত্রাদি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে জমা রাখা হবে।
৪। এই চুক্তি সকল রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থনের জন্য খোলা থাকবে। জাতিসংঘ মহা-সচিবের কাছে সমর্থনের একটি দলিল জমা দেয়ার মাধ্যমে সমর্থন কার্যকর হবে।

ধারা-২৬ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্-

১। যেকোন শরীক রাষ্ট্র যে কোনো সময় জাতিসংঘ মহাসচিবকে সম্বোধন করে লিখিত

নোটিশের মাধ্যমে বর্তমান সনদ সংশোধনের অনুরোধ জানাতে পারবে।

২। এ ধরনের অনুরোধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন হবে কি না জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সে সম্পর্কে সিদ্ধান্- গ্রহণ করবে।

ধারা-২৭ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন
সংক্রান্-

১। অনুমোদন অথবা সমর্থনের ২০তম দলিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে জমা দেয়ার তারিখের পর ত্রিশতম দিন থেকে এই সনদ কার্যকর হওয়া শুরু হবে।

২। অনুমোদন অথবা সমর্থনের ২০তম দলিল জমা- দেয়ার পর এই সনদ অনুমোন অথবা সমর্থনকারী প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে, স্ব স্ব অনুমোদন অথবা সমর্থনের নিজস্ব দলিল জমা দেয়ার তারিখের পর ত্রিশতম দিন থেকে সনদটি সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য কার্যকর হবে।

ধারা-২৮ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্ত
১। জাতিসংঘ মহা-সচিব অনুমোদন অথবা সমর্থনের সময় রাষ্ট্রসমূহ যেসব মতামত প্রদান করে, তা গ্রহণ করবেন এবং সকল রাষ্ট্রের মধ্যে তা বিতরণ করবেন।

২। বর্তমান সনদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিরোধী বক্তব্য দানের অনুমতি দেয়া হবে না।
৩। প্রদত্ত মতামত জাতিসংঘ মহা-সচিবকে সম্বোধন করে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে যেকোনো সময় প্রত্যাহর করা যেতে পারে এবং মহা-সচিব তখন সকল রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন। এ ধরনের নোটিশ যেদিন গ্রহণ করা হবে, সেদিন থেকে তা গণ্য হবে।

ধারা-২৯ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্ত

১। এই সনদের ব্যাখ্যা অথবা প্রয়োগের ব্যাপারে শরীক দুই বা ততোধিক রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো মতবিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষপত্তি করা না গেলে তাদের একজনের অনুরোধে বিষয়টি সালিশির জন্য পেশ করা হবে। সালিশির জন্য অনুরোধ জানানোর তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহ সালিশি আয়োজনের প্রশ্নে একমত হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের যে কোনো একটি রাষ্ট্র আদালতের বিধি অনুসারে অনুরোধের মাধ্যমে মতবিরোধের বিষয়টি ন্যায় বিচার সংক্রান্- আন্-র্জাতিক আদালতে পেশ করতে পারবে।

২। প্রতিটি শরীক রাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষর, অনুমোদন অথবা সমর্থন করার সময় ঘোষণা করতে পারবে যে সে এই ধারার ১ অনুচ্ছেদ

দ্বারা আবদ্ধ বলে বিবেচনা করে না । এই মর্মে মত প্রদানকারী কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সনদে শরীক অপর রাষ্ট্রসমূহ ঐ অনুচ্ছেদ দ্বারা হবে না।

৩। কোনো শরীক রাষ্ট্র এই ধারার ২ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো মতামত প্রদান করলে যে কোনো সময় সেই মতামত জাতিসংঘ মহা-সচিবের কাছে নোটিশ দানের মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে পারবে।

ধারা-৩০ ঃ সিডও (ঈঊউঅড) প্রশাসন সংক্রান্ত

সিডও সনদ, যার আরবী, চীনা, ইংরাজী, ফরাসী, রুশ ও স্পেনীয় সংস্করণ সমান গ্রহণযোগ্য, জাতিসংঘ মহা-সচিবের কাছে জমা রাখা হবে।

এই দলিলে যা কিছূ লেখা আছে, তা প্রত্যায়ন পূর্বক যথাযথভাবে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত হয়ে নিম্ন স্বাক্ষরকারী এই সনদে স্বাক্ষর করেছে।

বাংলা ভাষায় প্রকাশ
ইউনিসেফ

প্রচ্ছদ ছবি
শেহজাদ নুরানী

প্রচ্ছদ
নাজমুল আমিন

অনুবাদ
মো: মোতাহারুল হক

পুন : মুদ্রণে
আল-ইয়াকুব প্রেস, ২৬৪ মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

পুণ:মুদ্রণ সহযোগিতায়
মহিলাউন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধি ও
তথ্যাদি সমৃদ্ধিকরণ প্রকল্প:
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s