২/২, ব্লক-এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৮৮০-২-৮৮০-২-৯১১

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উদযাপন

সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন

‘নারীর সম-অধিকার, সম-সুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে পালিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬। এই উপলক্ষে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. জুবাইদা রহমান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ-এর কমিশনার ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, অপরাজেয় বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু এবং ওয়াইডব্লিউসিএ-এর ন্যাশনাল সেক্রেটারি হেলেন মনীষা সরকার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর ড. বদিউল আলম মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন গুল-ই-জান্নাত জেনী এবং আমিনুল ইসলাম সুজন।

অনুষ্ঠানে দু’জন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এবং ভূতপূর্ব নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন শিরিন পারভীন হক।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় শুধু ¯œাতক পর্যন্ত নয়, ¯œাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত কীভাবে বিনামূল্যে মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা যাবে, তাদের স্বাস্থ্য কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা যাবেÑ এসব হচ্ছে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, ‘একজন নাগরিকের যেসব অধিকার থাকা উচিত, নারীদেরও একই অধিকার থাকা উচিত। সকল মানুষের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের সম্মানবোধ থাকতে হবে। একজন মানুষের যে স্বকীয়তা, সম্মান ও মর্যাদা আছে, তার প্রতি যদি আমরা সম্মান প্রদর্শন করি, তাহলে সমাজে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না, নারীদের অধিকার নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরুষতন্ত্র আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমার ধারণা এটা দ্রুত কেটে যাবে। আজকে ২০ শতাংশ থেকে মেডিকেলে ৬৩ শতাংশ ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। কারো দয়া-দাক্ষিণ্যে নয়, তারা তাদের মেধা দিয়ে ভর্তি হয়েছে। আমি আশা করি, নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণে সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কিন্তু ১৮ কোটির মানুষের দেশে সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হবে না। সেজন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নারীর প্রতি নিগ্রহ, নারীকে নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়টি আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। বিশেষত আমাদের পুরুষদের মধ্যে। আমরা প্রতিনিয়ত পুরুষতন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জুলাই সনদে জাতীয় নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ নারীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে দলগুলো একমত হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল কাছাকাছি পরিমাণ মনোনয়ন দিলেও অনেক দল এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে পুরুষতন্ত্রের জয় হয়েছে, নারীর অধিকার পরাজিত হয়েছে। তাই পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই লড়াই আমাদেরকে চালিয়ে যেতে হবে।’

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সে জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নারীদের শিক্ষা ¯œাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক করার প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে একটি কন্যাশিশু অন্ধকার জীবন থেকে আলোকিত জীবনে পদার্পন করবে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠবে এবং বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের গবির্ত হওয়ার মতো উদ্যোগগুলো যেন ভবিষ্যতেও আরও সফল হবেÑ এই প্রত্যাশা করছি। আমি সম্মাননাপ্রাপ্ত অতিথিগণকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। তাঁদের অভাবনীয় কাজগুলো, বিশেষ করে দেশের নিপীড়িত ও অবহেলিত সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *