২/২, ব্লক-এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৮৮০-২-৮৮০-২-৯১১

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৪ উদ্যাপন

কন্যাশিশুর প্রতি সকল ধরনের নির্যাতন রোধে সরকার সচেষ্ট রয়েছে: শারমীন এস মুরশিদ।

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৪ উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর যৌথ আয়োজনে আজ সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, সকাল ১১:০০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সকাল ১০:৪৫টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চত্বরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং রঙিন ফেস্টুন সহকারে র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিজ তানিয়া খান, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি; কেয়া খান, মহাপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং ড. বদিউল আলম মজুমদার, সভাপতি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, রিফাত বিন সাত্তার, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত), সেভ দ্য চিল্ড্রেন ইন বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাজমা মোবারেক, সচিব মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাহীন আক্তার ডলি, সহ সভাপতি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। কন্যাশিশুদের মধ্য থেকে অনুভ‚তি ব্যক্ত করেন জুবাইরা আক্তার জবা, নওশীন

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শারমীন এস মুরশিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কন্যাশিশুদের জীবন অনেক সহজ, সরল, সুন্দর। কিন্তু একইসঙ্গে তারা নির্যাতন ও বৈষম্যেরও শিকার হয়। আমাদের কন্যাশিশুরা একটা নিরাপদ জায়গা চায়। আমি মনে করি, শুধু পরিবার নয়, পুরো বাংলাদেশটাই যেন নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ হয়। আমরা যেন কন্যাশিশুর স্বপ্নে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। কন্যাশিশুদের স্বপ্নে যে বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে সে বাংলাদেশে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ থাকবে, বাড়ির পাশে স্কুল থাকবে, তারা গাইবে, নাচবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪টি জেলায় র‌্যাপিড রেসপন্স সেল গঠন করব, যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও শিশু-কিশোরেরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমরা চেষ্টা করব সকল ধরনের নির্যাতন রোধ করতে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আমাদের শিশু-কিশোরেরা যে সত্য ও সাহস দেখিয়েছে তা অতুলনীয়। তাদের দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। ৫ আগস্টের আগে যা ঘটে গেছে, যে অন্যায়-অপকর্ম হয়েছে তা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না। আমি মনে করি, কোটা আন্দোলন শুধু কোটা আন্দোলন ছিল না, এটা ছিল গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও বৈষম্যের অবসানের লড়াই। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে চব্বিশের এই আন্দোলনের যথেষ্ট মিল রয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, ‘কন্যাশিশুরাই একদিন জায়া ও জননী হয়। আমরা জানি, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব। তাই কন্যাশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে, তাদের যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘৫ আগস্ট এক অভ‚তপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের কারণে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এখন কন্যাশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময়ে এসেছে। কন্যাশিশুদের উজ্জল ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভ‚মিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের কর্তব্য হলো জ্ঞানার্জন করা এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো কন্যাশিশুদের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

কেয়া খান বলেন, ‘কন্যাশিশুরা তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন চায়। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র কন্যাশিশুদের বিকাশে পরিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। যদিও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা পুরোপুরি সফল হতে পারছি না। তাই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে আমাদেরকে কাজ করতে হবে, নারী ও কন্যাশিশুদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মিজ তানিয়া খান বলেন, ‘কন্যাশিশুদের নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলা এবং দিবস পালনের কারণ হলো আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য রোধে জনসচেতনতা তৈরি। কন্যাশিশুরা এখনও সর্বক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। তাই কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষিত হওয়া ও যোগ্যতা অর্জনের জন্য কন্যাশিশুদের সচেষ্ট হতে হবে। প্রতিটি কন্যাশিশু ভবিষ্যতের একজন মা। তাই তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেখানে অনাকাক্সিক্ষত বাধা আসবে সেখানে প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

রিফাত বিন সাত্তার বলেন, ‘কন্যাশিশুদের নিয়ে কাজ করতে হলে সমাজে কন্যাশিশুদের অবস্থা ও অবস্থান এবং কন্যাশিশুদের আকাক্সক্ষা সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা জানি, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুদের অগ্রযাত্রার পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। বাল্যবিয়ের কারণে তারা অল্প বয়সেই সন্তানের মা হয়ে যায়। আমাদের মেয়েরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, অনেক কিছু করতে চায়। তাই কন্যাশিশুদের আকাক্সক্ষা জেনে কন্যাশিশুদের বিকাশে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে শাহীন আক্তার ডলি বলেন, ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের ধারাবাহিক অ্যাডভোকেসির ফলে ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হচ্ছে। অথচ ২০১১ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হচ্ছে। কন্যাশিশুদের জন্য আলাদা একটি দিবস পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পথিকৃত রাষ্ট্র। আমি মনে করি, আমাদের কন্যাশিশুরা এখন আর বোঝা নয়। তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যদি তারা এখনও বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাই ন্যায্য ও মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে নারী ও কন্যাশিশুদের সকল ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমি আশা করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে এর মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উদ্যোগ নেবেন।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্যায়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত পোস্টার ও কন্যাশিশু বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং আলোচনা সভা শেষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সভায় কন্যাশিুদের চোখে আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এছাড়া জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক প্রয়াত নাছিমা আক্তার জলির জীবন ও কর্ম তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় ও তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *